পাকিস্তানের আকাশপথ বন্ধ, শিনজিয়াং হয়ে বিকল্প রুটের সন্ধানে ভারত

যা জানা জরুরি
- পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলিকে এখনও ঘুরপথে উড়তে হচ্ছে।
- বাড়তি সময় ও জ্বালানির খরচ কমাতে এ বার চিনের শিনজিয়াংয়ের উপর দিয়ে বিকল্প বিমানপথের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ভারত।
- মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী রামমোহন নাইডু জানিয়েছেন, শিনজিয়াংয়ের হোটান হয়ে উড়ান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে চিনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলিকে এখনও ঘুরপথে উড়তে হচ্ছে। বাড়তি সময় ও জ্বালানির খরচ কমাতে এ বার চিনের শিনজিয়াংয়ের উপর দিয়ে বিকল্প বিমানপথের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ভারত। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী রামমোহন নাইডু জানিয়েছেন, শিনজিয়াংয়ের হোটান হয়ে উড়ান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে চিনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বিদেশ মন্ত্রকও বিষয়টি নিয়ে বেজিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
তবে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সাংবাদিকদের নাইডু জানান, হোটান রুট নিয়ে আলোচনা কোন পর্যায়ে পৌঁছয়, তা দেখতে হবে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি বিকল্প পথও সরকার খতিয়ে দেখছে।
নজরে হোটান
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ভারতীয় বিমান লেহের দিক দিয়ে উড়ে চিনের আকাশসীমায় ঢুকতে পারে। হোটানের কাছ দিয়ে যাওয়ার পর কিরগিজস্তান হয়ে পশ্চিমমুখী প্রচলিত বিমানপথের সঙ্গে সেই রুট যুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থাৎ পাকিস্তানের আকাশসীমা এড়িয়ে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাগামী কিছু উড়ানের জন্য অপেক্ষাকৃত ছোট একটি পথ তৈরি হতে পারে।
কেন এত ঘুরপথ?
২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারতীয় বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে পাকিস্তান। এর ফলে উত্তর ও পশ্চিম ভারতের বিভিন্ন শহর থেকে ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকাগামী উড়ানগুলিকে পাকিস্তানের আকাশপথ এড়িয়ে আরব সাগরের উপর দিয়ে মাসকাটের দিকে ঘুরে যেতে হচ্ছে।
রুটভেদে যাত্রার সময় প্রায় ৪৫ মিনিট থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বেড়েছে। পথ দীর্ঘ হওয়ায় বাড়ছে জ্বালানির খরচ এবং বিমান পরিচালনার ব্যয়ও। একই সঙ্গে যাত্রীদেরও আগের তুলনায় বেশি সময় বিমানে কাটাতে হচ্ছে।
পাকিস্তান সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়েছে। ফলে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলির কাছে বিকল্প এবং তুলনামূলক ছোট রুট খোঁজার প্রয়োজন এখনও রয়ে গিয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার চাপ
এই পরিস্থিতিতে বিশেষ চাপ পড়েছে দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক উড়ানে।
২০২৫ সালের নভেম্বরে রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে এয়ার ইন্ডিয়ার সরকারি কর্তাদের কাছে দেওয়া একটি নথির উল্লেখ করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, নির্দিষ্ট কিছু দীর্ঘপথের উড়ানে জ্বালানির খরচ সর্বোচ্চ ২৯ শতাংশ এবং যাত্রার সময় তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বেড়েছিল।
তবে এই হিসাব নির্দিষ্ট কয়েকটি রুটের এবং ২০২৫ সালের পরিস্থিতির। সব ভারতীয় উড়ানের বর্তমান অবস্থার অভিন্ন পরিসংখ্যান হিসেবে এটিকে দেখা ঠিক হবে না।
ওই নথি অনুযায়ী, এয়ার ইন্ডিয়া হোটান রুট ব্যবহারের পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে হোটান, কাশগর এবং উরুমচির বিমানবন্দরে অবতরণের সুযোগও চেয়েছিল। সংস্থার হিসাব ছিল, বিকল্প পথ পাওয়া গেলে অতিরিক্ত জ্বালানির প্রয়োজন কমবে। কিছু রুটে কমিয়ে দেওয়া যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের ক্ষমতাও ফের বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।
অর্থাৎ বিষয়টি শুধু যাত্রার সময় কমানোর নয়। এর সঙ্গে বিমান সংস্থার পরিচালন ব্যয় এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের ক্ষমতার প্রশ্নও জড়িয়ে রয়েছে।
পথটা সহজ নয়
তবে হোটান রুট চালু করা শুধু কূটনৈতিক অনুমতির বিষয় নয়। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থাও বড় চ্যালেঞ্জ।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, এই অঞ্চলের কাছাকাছি রয়েছে উঁচু পর্বতমালা। পাশাপাশি আকাশসীমার উপর চিনের সামরিক নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নতুন পথ ব্যবহারের অনুমতির পাশাপাশি জরুরি অবতরণ, নিরাপদ উড়ান পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর ব্যবহারের মতো বিষয়ও নিশ্চিত করতে হবে।
অর্থাৎ দুই দেশের মধ্যে আলোচনা সফল হলেও, উড়ান চালু করার আগে একাধিক পরিচালনাগত শর্ত পূরণ করতে হবে।
চিনের সঙ্গে যোগাযোগও ফিরছে
হোটান রুট নিয়ে আলোচনার সময়েই ভারত ও চিনের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগও ধীরে ধীরে ফিরছে।
অতিমারি এবং সীমান্তে উত্তেজনার কারণে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা একাধিক পরিষেবা ফের চালু হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া, এয়ার চায়না এবং চায়না ইস্টার্নের মতো বিমান সংস্থা দুই দেশের বিভিন্ন শহরের মধ্যে যোগাযোগ পুনরায় শুরু করেছে। কলকাতা থেকেও চিনের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ বেড়েছে।
এই বৃহত্তর যোগাযোগ পুনরুদ্ধারের প্রেক্ষাপটেই আন্তর্জাতিক উড়ানের জন্য নতুন বিকল্প পথ নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে।
এখনও সম্ভাবনাই
আপাতত তাই যাত্রীদের জন্য হোটান রুটের গুরুত্ব সম্ভাবনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। পথটি অনুমোদিত হলে পশ্চিমমুখী কিছু উড়ানের সময় এবং পরিচালন ব্যয় কমতে পারে।
কিন্তু কোন কোন উড়ান এই পথ ব্যবহার করবে, কবে থেকে তা সম্ভব হবে, কিংবা যাত্রীরা টিকিটের দামে তার কতটা সুবিধা পাবেন—এখনও তার কোনও নিশ্চিত উত্তর নেই।
নাইডুর বক্তব্যে আপাতত একটি বিষয়ই স্পষ্ট: পাকিস্তানের আকাশসীমা এড়িয়ে দীর্ঘদিনের এই সমস্যার বিকল্প খুঁজছে ভারত। এখন দেখার, শিনজিয়াং হয়ে হোটানের পথ সেই বিকল্পের বাস্তব রূপ পায় কি না।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



