‘কয়ামত সে কয়ামত তক’-এর শেষ অডিশনে যাননি আলিশা, ক্ষুণ্ণ হয়েছিলেন আমির

যা জানা জরুরি
- আমির খানের বিপরীতে ‘কয়ামত সে কয়ামত তক’-এ অভিনয়ের সুযোগ এসেছিল আলিশা চিনাইয়ের কাছেও।
- কিন্তু সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে বুঝিয়ে দেয়, অভিনয়ের দুনিয়া তাঁর জন্য নয়।
- আর তাঁর এই সিদ্ধান্তে প্রথমে বেশ ক্ষুণ্ণই হয়েছিলেন আমির খান।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
আমির খানের বিপরীতে ‘কয়ামত সে কয়ামত তক’-এ অভিনয়ের সুযোগ এসেছিল আলিশা চিনাইয়ের কাছেও। অডিশনও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে বুঝিয়ে দেয়, অভিনয়ের দুনিয়া তাঁর জন্য নয়। ফলে চূড়ান্ত অডিশনে আর হাজির হননি গায়িকা। আর তাঁর এই সিদ্ধান্তে প্রথমে বেশ ক্ষুণ্ণই হয়েছিলেন আমির খান।
অডিশনেই মন বদল
অডিশন দিতে গিয়েই আলিশার মনে হয়েছিল, অভিনেত্রী হিসেবে তিনি স্বচ্ছন্দ নন। অভিনয়ের পরিবেশটিই তাঁর পছন্দ হয়নি। শেষ পর্যন্ত নিজেকেই বোঝান, গানই তাঁর জায়গা।
আলিশার কথায়, “গোটা ব্যাপারটার ধরন আমার ভাল লাগেনি। মনে হয়েছিল, অভিনেত্রী হিসেবে আমি অস্বস্তিতে থাকব। নিজেকেই বলেছিলাম, ‘না, তুমি ভাল গান গাইতে পারো; অভিনয়ের ব্যাপারটা ভুলে যাও।’ তাই শেষ অডিশনে আর যাইনি।”
তখন চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিলেন মাত্র দু’জন—আলিশা এবং জুহি চাওলা। আলিশা আর না যাওয়ায় আমির নাকি বেশ ক্ষুণ্ণ হয়েছিলেন।
তবে পরে পরিস্থিতি বদলায়। আলিশা জানান, আমির শেষ পর্যন্ত খুশিই হয়েছিলেন যে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, অভিনয় তাঁর জন্য সঠিক পেশা নয়।
তার পর দেখা
সেই ঘটনার পরে আমিরের সঙ্গে আর বিশেষ যোগাযোগ হয়নি। এক বার দেখা হয়েছিল। সেই সাক্ষাতের স্মৃতিও বেশ মজার।
আলিশার কথায়, “তার পরে আমিরের সঙ্গে আমার একবারই দেখা হয়েছিল। আমরা শুধু একে অপরের দিকে তাকিয়ে হেসেছিলাম। অন্তত ও তো হেসেছিল। আমার মনে হয়েছিল, আমাকে দেখে ও হয়তো ভাববে, ‘কী বোকা মহিলা!’”
অভিনয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আমির কী ভাবতে পারেন, তা নিয়েও নিজের মতো করে রসিকতা করেছেন আলিশা।
‘এ আমার জায়গা নয়’
চূড়ান্ত অডিশনে না যাওয়ার দিন তাঁর জ্বরও হয়েছিল। তবে সেটিই একমাত্র কারণ ছিল না। তত দিনে আলিশা মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলেন—অভিনয় তাঁর জন্য নয়।
তিনি বলেন, “লোকে এমনিতেই ভাবে, আমার সঙ্গে কাজ করা খুব কঠিন। আমির হয়তো বলেছিল, ‘ওর আবার কী হল? মেয়েটা পাগল!’ কিন্তু আসলে আমার মনে হয়েছিল, আমি ওই জগতে মানিয়ে নিতে পারব না। সেদিন আমার জ্বরও হয়েছিল। তবে মনে হচ্ছিল, এ আমার জায়গা নয়। আমি যেতে চাই না।”
ভুল, না সঠিক?
এত বড় সুযোগ হাতছাড়া করার জন্য পরে কি কখনও আফসোস হয়েছে? আলিশা অবশ্য বিষয়টিকে বেশ হালকা ভাবেই দেখেন। মজা করে তাঁর বক্তব্য, ছবিটি ছেড়ে আসা হয়তো তাঁর জীবনের ‘বিরাট ভুল’ ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গানই তাঁকে এনে দিয়েছে নিজের পরিচয় এবং সাফল্য।
১৯৮৮ সালে মুক্তি পায় ‘কয়ামত সে কয়ামত তক’। মনসুর খান পরিচালিত এবং নাসির হুসেন প্রযোজিত ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন আমির খান ও জুহি চাওলা। ছবিটি দুই নবীন অভিনেতার কর্মজীবনেই বড় মোড় এনে দেয়। দু’জনকেই প্রথম সারির তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করে এই প্রেমের ছবি।
জুহির পাশে আমির
এই ছবির অডিশনের প্রস্তুতিতে আমির কী ভাবে তাঁকে সাহায্য করেছিলেন, সে কথা অবশ্য আগেই জানিয়েছিলেন জুহি চাওলা।
তাঁর স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, নাসির হুসেনের বাড়িতে স্ক্রিন টেস্টের আগে তাঁকে সংলাপ শেখানো এবং দৃশ্যের মহড়া করানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আমিরের উপর। অর্থাৎ পর্দায় জুহির সঙ্গে আমিরের জুটি তৈরির আগেই, অডিশনের প্রস্তুতিতেও তাঁদের একসঙ্গে কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল।
গানেই নিজের জগৎ
অভিনয় থেকে সরে এলেও আলিশার কেরিয়ার থেমে থাকেনি। বরং চলচ্চিত্রের গান এবং পপ সংগীত—দুই ক্ষেত্রেই তৈরি করেছেন সফল কর্মজীবন। ইন্ডিপপের উত্থানের সময় দেশের অন্যতম পরিচিত কণ্ঠ হয়ে ওঠেন তিনি।
বিদ্দুর সঙ্গে ১৯৯৫ সালে তৈরি ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ অ্যালবাম তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম মাইলফলক। পাশাপাশি ‘রুক রুক রুক’, ‘কজরা রে’ এবং ‘তিনকা তিনকা’-র মতো গানও বলিউডের পরিচিত গায়িকা হিসেবে তাঁর জায়গা আরও পোক্ত করে।
অভিনয়ের অডিশন থেকে শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ানোর সেই সিদ্ধান্ত যে শেষ পর্যন্ত তাঁকে অন্য এক মঞ্চে পৌঁছে দেবে, তা অবশ্য তখন আলিশা নিজেও জানতেন না।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



