কাঠুয়ায় একে-৪৭ থেকে সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি, সিআইএসএফের চার জন নিহত

যা জানা জরুরি
- জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলায় সিআইএসএফের শিবিরে এক জওয়ানের গুলিতে নিহত হলেন তাঁর চার সহকর্মী।
- মৃতদের মধ্যে রয়েছেন এক জন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট, এক জন সাব-ইনস্পেক্টর এবং দুই কনস্টেবল।
- মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাসোহলি এলাকার মাশকা গ্রামে সেবা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তায় মোতায়েন বাহিনীর ইউনিটে ঘটনাটি ঘটে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলায় সিআইএসএফের শিবিরে এক জওয়ানের গুলিতে নিহত হলেন তাঁর চার সহকর্মী। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন এক জন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট, এক জন সাব-ইনস্পেক্টর এবং দুই কনস্টেবল। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাসোহলি এলাকার মাশকা গ্রামে সেবা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তায় মোতায়েন বাহিনীর ইউনিটে ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত হেড কনস্টেবল অবধেশ কুমার সিংহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে বাহিনীর সদস্যের হাতে সহকর্মী হত্যা বা ‘ফ্র্যাট্রিসাইড’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ৪০ মিনিটে গুলি চলে। তার আগে বচসা হয়েছিল বলে সূত্রের দাবি। অভিযোগ, অবধেশ অফিস চত্বরে ঢুকে তাঁর জন্য বরাদ্দ একে-৪৭ রাইফেল থেকে নির্বিচারে গুলি চালান। তবে কী নিয়ে বচসা, কার সঙ্গে তাঁর বিরোধ হয়েছিল এবং সেই বিরোধই গুলি চালানোর একমাত্র কারণ কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার পূর্ণ বিবরণ জানতে তদন্ত চলছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতেরা হলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট অঙ্কিত কুমার পাণ্ডে, সাব-ইনস্পেক্টর লক্ষ্মণ সিংহ, কনস্টেবল রফিক আহমেদ এবং কনস্টেবল সন্দীপ কুমার। গুলিবিদ্ধ চার জনকে চিকিৎসার জন্য প্রতিবেশী হিমাচল প্রদেশে এনএইচপিসি-র হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁদের মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে।
সিআইএসএফের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত খবরে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তের কাছে ১৫০ রাউন্ড গোলাবারুদ ছিল। তাঁর ব্যবহৃত রাইফেলটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তবে সঙ্গে ১৫০ রাউন্ড থাকা মানে তিনি সব ক’টি গুলি চালিয়েছেন, এমন নয়; ঠিক কত রাউন্ড গুলি চলেছে, প্রকাশিত তথ্য থেকে তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। সহকর্মীরা তাঁকে কাবু করেন এবং পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা সুরক্ষিত করে।
অভিযুক্ত ২০০৯ সালের ব্যাচের হেড কনস্টেবল বলে বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে। পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি সিআইএসএফও অভ্যন্তরীণ তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। ঘটনার আগে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, বচসা থেকে গুলি চালানোর পর্যায়ে কীভাবে পৌঁছল এবং সেই সময় অন্য সদস্যদের ভূমিকা কী ছিল—ঘটনাক্রম স্পষ্ট করতে এই বিষয়গুলির উত্তর প্রয়োজন। তবে তদন্তের ফল প্রকাশের আগে উদ্দেশ্য বা দায় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই। বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিরাপত্তার কাজে নিযুক্ত সদস্যদের হাতে থাকা অস্ত্র কী পরিস্থিতিতে সহকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হল, অভ্যন্তরীণ তদন্তে তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া এখন জরুরি বিষয়।
সেবা নদীর উপর অবস্থিত জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির পাহারায় ওই সিআইএসএফ ইউনিট মোতায়েন ছিল। সেবা, রাভি নদীর একটি উপনদী। প্রকল্পটির অবস্থান বাসোহলির পাহাড়ি এলাকায়। একটি প্রতিবেদনে আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল কাঠুয়া জেলার একেবারে প্রান্তে। সেখানে পৌঁছতে হিমাচল প্রদেশের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পথটিও তাই এই ঘটনার একটি উল্লেখযোগ্য দিক।
সিআইএসএফ বা কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী দেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিকাঠামো রক্ষার দায়িত্ব পালন করে। বিমানবন্দর-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এই বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। কাঠুয়ায় তাদের দায়িত্ব ছিল জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেই দায়িত্ব পালনের কর্মক্ষেত্রেই সহকর্মীর বিরুদ্ধে চার জনকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি তাই বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সদস্যদের মধ্যে বিরোধ সামলানোর ব্যবস্থা সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন সামনে আনছে।
‘ফ্র্যাট্রিসাইড’ বলতে নিরাপত্তাবাহিনীর পরিসরে নিজের সহকর্মীর হাতে বাহিনীর অন্য সদস্যের নিহত হওয়ার ঘটনাকে বোঝানো হয়। শব্দটি ঘটনার ধরন চিহ্নিত করে; কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটল, তার ব্যাখ্যা দেয় না। কাঠুয়ার ক্ষেত্রেও বচসার প্রাথমিক তথ্য থেকে ব্যক্তিগত শত্রুতা, দীর্ঘদিনের ক্ষোভ বা মানসিক অসুস্থতা ধরে নেওয়া যায় না। আপাতত নিশ্চিত তথ্য হল চার জনের মৃত্যু, অভিযুক্তের গ্রেফতার এবং তাঁর অস্ত্র বাজেয়াপ্ত হওয়া। বাকি প্রশ্নগুলির উত্তর নির্ভর করছে তদন্তে কী উঠে আসে তার উপর।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



