দেশ

১৩৫ বছরের গ্রন্থাগার, সাড়ে আট লক্ষ বই—নতুন সেন্ট্রাল ভিস্টার পরিকল্পনায় ঠাঁই নেই

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম প্রাচীন গ্রন্থাগারের জন্য বরাদ্দ মাত্র দু’টি ঘর; অপর্যাপ্ত জায়গার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান সংস্কৃতি মন্ত্রকের।
  • চারটি তলা জুড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বর্গমিটার জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট লাইব্রেরি বা কেন্দ্রীয় সচিবালয় গ্রন্থাগার (সিএসএল)।
  • সংগ্রহে আছে দুষ্প্রাপ্য বই, সরকারি নথি এবং গেজেটিয়ার।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম প্রাচীন গ্রন্থাগারের জন্য বরাদ্দ মাত্র দু’টি ঘর; অপর্যাপ্ত জায়গার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান সংস্কৃতি মন্ত্রকের।

চারটি তলা জুড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বর্গমিটার জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট লাইব্রেরি বা কেন্দ্রীয় সচিবালয় গ্রন্থাগার (সিএসএল)। সেখানে রয়েছে সাড়ে আট লক্ষেরও বেশি বই। সংগ্রহে আছে দুষ্প্রাপ্য বই, সরকারি নথি এবং গেজেটিয়ার। এখনও নিয়মিত এই গ্রন্থাগারে আসেন বহু মানুষ—সরকারি আধিকারিক থেকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া ছাত্রছাত্রীরা। গ্রন্থাগারের দুষ্প্রাপ্য বইয়ের আলাদা বিভাগে রাখা প্রাচীনতম বইটি এক ফরাসি পর্যটকের লেখার সংকলন, যার প্রকাশকাল ১৭০২ সাল।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর শাস্ত্রী ভবনে অবস্থিত সমস্ত মন্ত্রক ও দফতরকে চিঠি দেয় কেন্দ্রীয় পূর্ত দফতর (সিপিডব্লিউডি)। চিঠিতে বলা হয়, আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিন সামগ্রী এবং অন্যান্য জিনিসপত্র-সহ ভবনটি ‘যত দ্রুত সম্ভব’ খালি করতে হবে। কারণ, ‘নির্মাণকাজ শুরু করার জন্য ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শেষের মধ্যে’ ভবনটি হস্তান্তর করা প্রয়োজন।

সূত্রের খবর, চলতি বছরের জানুয়ারিতে আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের অধীন ডিরেক্টরেট অব এস্টেটস কর্তব্য ভবন-২-এ এই গ্রন্থাগারের জন্য দু’টি ঘর বরাদ্দ করে। ঘর দু’টির মোট আয়তন ৩০০ বর্গমিটার। কিন্তু সিএসএল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সংস্কৃতি মন্ত্রক সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। সূত্রের বক্তব্য, মন্ত্রক জানিয়ে দেয়, বরাদ্দ জায়গা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া চেয়ে ইমেল পাঠানো হলেও সংস্কৃতি মন্ত্রক এবং আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রক উত্তর দেয়নি।

আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, তিন বছর আগেই বিষয়টি সর্বোচ্চ স্তরে তুলেছিল সংস্কৃতি মন্ত্রক। ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সংস্কৃতিসচিব গোবিন্দ মোহন, যিনি বর্তমানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব, তৎকালীন আবাসন ও নগরোন্নয়নসচিব মনোজ জোশীকে চিঠি লিখেছিলেন। পুনর্গঠিত সেন্ট্রাল ভিস্টায় গ্রন্থাগারের জন্য শাস্ত্রী ভবনে তার ব্যবহৃত জায়গার সমপরিমাণ স্থান বরাদ্দ করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন তিনি।

সরকারি কর্মী ও ছাত্রছাত্রী—উভয়ের কাছেই সিএসএলের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেছিলেন মোহন। ভারতীয় ও বিদেশি নথির সংগ্রহ হিসেবে গ্রন্থাগারটিকে তিনি ‘জ্ঞানের বৃহত্তম বাস্তব সম্পদভাণ্ডারগুলির অন্যতম’ বলে বর্ণনা করেন। চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘সিএসএল কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের অংশ হওয়ায় শাস্ত্রী ভবন চত্বরে এর জন্য একটি পৃথক ভবন, অর্থাৎ “জি” উইং বরাদ্দ করা হয়েছিল।’

তৎকালীন সংস্কৃতিসচিব আরও জানান, এই গ্রন্থাগার শুধু ‘কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত মন্ত্রক ও দফতরের প্রয়োজন’ মেটায় না, ‘১৯৮৪ সাল থেকে ভারত সরকারের প্রকাশনাগুলির সংরক্ষণাগার হিসেবেও কাজ করে আসছে’।

মোহন লেখেন, ‘তাই কমন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটে প্রায় ৫,৪৬৬ বর্গমিটার জায়গা বরাদ্দ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট স্থাপত্যভাবনা অনুসারে ভবনটি নির্মাণ করা হলে সেন্ট্রাল ভিস্টায় অবস্থিত সমস্ত মন্ত্রক ও দফতর থেকে গ্রন্থাগারে সহজে ও নির্বিঘ্নে যাতায়াত করা সম্ভব হবে।’

মোহনের ওই চিঠির দু’বছরেরও বেশি সময় পরে, ২০২৬ সালের ১৬ জানুয়ারি, আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রক সংস্কৃতি মন্ত্রককে জানায়, কর্তব্য ভবন-২-এর একতলায় দু’টি ঘরে গ্রন্থাগারের জায়গা বরাদ্দে ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ’ অনুমোদন দিয়েছে।

২৬ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতি মন্ত্রকের এক আধিকারিক পাল্টা চিঠিতে আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রককে জানান, সিএসএলের ‘সমগ্র সংগ্রহ এবং পরিষেবার ব্যবস্থা রাখার জন্য’ ওই জায়গা ‘অপর্যাপ্ত’। চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়, ‘ফলে সম্পূর্ণ গ্রন্থাগার স্থানান্তর করা সম্ভব নয়।’

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles