আইএএস ছেড়ে রাজনীতিতে দিব্যা, মানুষের কণ্ঠ হওয়ার অঙ্গীকার

যা জানা জরুরি
- আইএএসের চাকরি ছাড়ার প্রায় এক মাসের মাথায় রাজনীতিতে প্রবেশের ঘোষণা করলেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন আমলা দিব্যা মিত্তল।
- তবে কোনও রাজনৈতিক দলের পতাকার নীচে দাঁড়িয়ে নয়, সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়েই নতুন পথ চলতে চান তিনি।
- প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ ব্যাচের এই আধিকারিকের লক্ষ্য, সরকারি দফতরে যাঁদের বক্তব্য পৌঁছয় না কিংবা পৌঁছলেও গুরুত্ব পায় না, তাঁদের হয়ে কথা বলা।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
আইএএসের চাকরি ছাড়ার প্রায় এক মাসের মাথায় রাজনীতিতে প্রবেশের ঘোষণা করলেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন আমলা দিব্যা মিত্তল। তবে কোনও রাজনৈতিক দলের পতাকার নীচে দাঁড়িয়ে নয়, সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়েই নতুন পথ চলতে চান তিনি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ ব্যাচের এই আধিকারিকের লক্ষ্য, সরকারি দফতরে যাঁদের বক্তব্য পৌঁছয় না কিংবা পৌঁছলেও গুরুত্ব পায় না, তাঁদের হয়ে কথা বলা। উত্তরপ্রদেশ থেকেই রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করবেন তিনি।
সমাজমাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করে দিব্যা জানিয়েছেন, চাকরি ছাড়ার পরে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছিল। উত্তর দিতে সময় নিয়েছেন, কারণ নতুন কাজের ব্যাপ্তি বুঝে নিজেকে প্রস্তুত করছিলেন। তাঁর বক্তব্য, কেবল নেতৃত্বের মুখ বদলানো যথেষ্ট নয়; রাজনীতির চরিত্র বদলাতে হবে। জাতপাতকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করবেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি। জমির পাট্টা পেয়েও কেন মানুষ দখল বুঝে পান না, বেহাল রাস্তায় প্রাণহানির দায় কে নেবে—এসব প্রশ্নের উত্তর চান তিনি। তাঁর মতে, সাধারণ নাগরিকের দৈনন্দিন বঞ্চনাই রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসা এখন প্রয়োজন।
নিজের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা থেকে মির্জাপুরের লাহুরিয়া দাহ গ্রামের একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন দিব্যা। জল সরবরাহের কাজ দেখতে গিয়ে এক মহিলার সঙ্গে দেখা হয়েছিল তাঁর। ভেবেছিলেন, ওই মহিলা হয়তো পেনশন কিংবা বাড়ি চাইবেন। কিন্তু নিজের ঘরেই পানীয় জলের সংযোগ না থাকা মহিলা চেয়েছিলেন গ্রামের শিশুদের পঞ্চম শ্রেণির পরে পড়ার সুযোগ। সেই দাবি মেনে বিদ্যালয়ের অনুমোদন দিয়েছিলেন দিব্যা। তাঁর অভিযোগ, তিন বছর কেটে গেলেও নির্মাণ শুরু হয়নি।
দিব্যার দাবি, নিয়ম, অর্থ ও অনুমোদনের অভাব ছিল না; অভাব ছিল কাজ করার সদিচ্ছার। একই সঙ্গে গ্রামের রাস্তা ও সেতুর অভাব, বর্ষায় শিশুদের দুর্ভোগ, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দীর্ঘসূত্র নিয়োগপ্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ তুলেছেন তিনি। দুই কন্যার মা হিসেবে আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন। কর্মসংস্থানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব নিয়েও ভাবনাচিন্তার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন এই প্রাক্তন আমলা।
দিব্যার প্রশাসনিক জীবনের অন্যতম পরিচিত অধ্যায় মির্জাপুরের দুর্গম পাহাড়ি গ্রামে নলবাহিত জল পৌঁছে দেওয়া। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে জেলাশাসক ছিলেন তিনি। পরে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেওরিয়ার জেলাশাসকের দায়িত্ব নেন। চলতি বছরের মে মাসে লখনউয়ে রাজস্ব দফতরের বিশেষ সচিব হিসেবে নিযুক্ত হন। প্রায় তেরো বছরের কর্মজীবন শেষে অগস্টে চাকরি ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি।
আইআইটি দিল্লি এবং আইআইএম বেঙ্গালুরুতে পড়াশোনা করেছেন দিব্যা। প্রশাসনিক চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে লন্ডনে আর্থিক বাজারে ডেরিভেটিভস লেনদেনের কাজ করতেন। বিদেশের প্রতিষ্ঠিত জীবন ছেড়ে দেশে ফিরে সরকারি চাকরিতে আসার পিছনে সমাজের কাছে ঋণ শোধের ভাবনা ছিল বলে বিদায়ী বার্তায় জানিয়েছিলেন তিনি। তাঁর উপলব্ধি ছিল, প্রতিটি সরকারি ফাইলের পিছনে রয়েছেন একজন মানুষ; সেই মানুষের মর্যাদা রক্ষাই ন্যায়বিচারের প্রকৃত অর্থ।
বিদায়ের সময় মির্জাপুরের এক বৃদ্ধার আশীর্বাদের কথাও স্মরণ করেছিলেন দিব্যা। গ্রামে জল পৌঁছনোর পরে ওই বৃদ্ধা কাঁপা হাতে তাঁর মাথা ছুঁয়ে আশীর্বাদ করেছিলেন। পদ ছেড়ে গেলেও সেই স্পর্শ সারাজীবন মনে থাকবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। মানুষের কাছ থেকে পাওয়া এই বিশ্বাস ও ভালবাসাকেই নিজের ভবিষ্যৎ পথচলার শক্তি হিসেবে দেখছেন প্রাক্তন আধিকারিক।
রাজনৈতিক উদ্যোগে যুক্ত হতে শিক্ষক, কৃষক, চিকিৎসক, ছাত্রছাত্রী, শ্রমিক ও আইনজীবীদের আহ্বান জানিয়েছেন দিব্যা। তাঁর বক্তব্য, সম্মিলিত জনঅংশগ্রহণের মাধ্যমেই অর্থবহ পরিবর্তন সম্ভব। যোগাযোগের জন্য একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরও প্রকাশ করেছেন। উত্তরপ্রদেশকে নিজের কর্মভূমি হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেছেন, এই রাজ্য অতীতেও দেশকে পথ দেখিয়েছে। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের সময়ে যাঁরা পাশে ছিলেন, তাঁদের নিয়েই এবার মানুষের দাবি ও সরকারি কাজের জবাবদিহিকে সামনে রেখে রাজনৈতিক পরিসরে এগোতে চান দিব্যা।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



