কর্তৃপক্ষকে ন্যায্য হতে হবে: আইএসএফের খাম বিদ্রোহী তৃণমূলকে দেওয়ায় কমিশনকে ভর্ৎসনা

যা জানা জরুরি
- আইএসএফের ব্যবহৃত ‘খাম’ প্রতীক তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে দেওয়ার সিদ্ধান্তে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট।
- সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের পর্যবেক্ষণ, আদালতের সামনে কর্তৃপক্ষকে ন্যায্য আচরণ করতে হবে।
- কমিশন যদি মামলার বেসরকারি প্রতিপক্ষের দ্বারা পরিচালিত হয়, তা হলে আর কী অবশিষ্ট থাকে—সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
আইএসএফের ব্যবহৃত ‘খাম’ প্রতীক তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে দেওয়ার সিদ্ধান্তে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের পর্যবেক্ষণ, আদালতের সামনে কর্তৃপক্ষকে ন্যায্য আচরণ করতে হবে। কমিশন যদি মামলার বেসরকারি প্রতিপক্ষের দ্বারা পরিচালিত হয়, তা হলে আর কী অবশিষ্ট থাকে—সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। সব পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত রায় সংরক্ষিত রেখেছে।
বিতর্কের কেন্দ্রে আগামী ৬ অক্টোবরের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচন। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধে দলের নাম ও পুরনো প্রতীক স্থগিত করার পরে বিদ্রোহী শিবির, ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেসকে ‘খাম’ বরাদ্দ করে কমিশন। অথচ ২০২৪ সালের লোকসভা এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ওই প্রতীকে লড়েছিল আইএসএফ। নন্দীগ্রামে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী আইএসএফকে এবার দেওয়া হয়েছে ‘আলমারি’। এই পরিবর্তনকে চ্যালেঞ্জ করেই দলটি আদালতে গিয়েছে।
শুনানিতে বিচারপতি জানতে চান, একই প্রতীকের জন্য দু’পক্ষ আবেদন করলে কমিশনের দায়িত্ব কী? আইএসএফের আবেদন কেন বিবেচিত হল না? আদালতের বক্তব্য, কোনও নির্দিষ্ট প্রতীক পাওয়ার নিরঙ্কুশ অধিকার আবেদনকারীর না-ও থাকতে পারে। কমিশন সেই আবেদন প্রত্যাখ্যানও করতে পারে। কিন্তু প্রত্যাখ্যানের কারণ থাকতে হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আইএসএফের দাবি কীভাবে বিবেচনা করা হয়েছিল, তার ব্যাখ্যাই চেয়েছে আদালত।
এদিন আইনজীবীদের সওয়ালের সময় কমিশন ও প্রতিপক্ষ দলের মধ্যে যোগসাজশ আছে কি না, তা নিয়েও বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন। কমিশনের আইনজীবী অবশ্য অন্য পক্ষের আইনজীবীর দ্বারা পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং ওই পর্যবেক্ষণে আপত্তি জানান। বিচারপতি বলেন, সাংবিধানিক সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে আদালতের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রস্তুতি তাঁর থাকা উচিত। এগুলি শুনানির পর্যবেক্ষণ; যোগসাজশ প্রমাণিত হয়েছে বলে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
কমিশনের পক্ষে আইনজীবী জিষ্ণু চৌধুরীর যুক্তি, ‘খাম’ একটি মুক্ত প্রতীক, আইএসএফের জন্য স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত নয়। বিধানসভা নির্বাচন শেষ হয়ে ৪ মে ফল ঘোষণার সঙ্গে আগের বরাদ্দের মেয়াদও শেষ হয়েছে। ফলে উপনির্বাচনে বিধি মেনে অন্য দলকে সেটি দেওয়া যায়। শুধু মনোনয়ন জমা দিলেই কোনও নির্দিষ্ট প্রতীকের উপর অধিকার জন্মায় না বলেও কমিশন দাবি করে। তাদের বক্তব্য, নতুন প্রতীক বণ্টন আইন মেনেই হয়েছে।
আইএসএফের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের পাল্টা বক্তব্য, সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা থাকলেও কমিশন তা খেয়ালখুশিমতো প্রয়োগ করতে পারে না; যুক্তিসংগতভাবে প্রয়োগ করতে হবে। তাঁর যুক্তি, উপনির্বাচন আগের বিধানসভা নির্বাচনেরই ধারাবাহিকতা। তাই সেই নির্বাচনে ব্যবহৃত প্রতীক অন্য দলকে দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে ভোট পিছোনোর আবেদনও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, এতে বিধানসভার গঠন বদলাবে না বা কোনও সাংবিধানিক সংকটও তৈরি হবে না।
গত বৃহস্পতিবারের শুনানিতেও কমিশনের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ জানিয়েছিল আদালত। কমিশনের হাতে ১৮৩টি মুক্ত প্রতীক থাকা সত্ত্বেও অন্য দলের ব্যবহৃত ‘খাম’ কেন বেছে নেওয়া হল, জানতে চেয়েছিলেন বিচারপতি। আইএসএফ তখন অভিযোগ করেছিল, পরিচিত প্রতীক বদলে দেওয়ায় ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। দলটির পতাকাতেও খামের ছবি রয়েছে এবং ওই প্রতীক নিয়েই তারা প্রচার শুরু করেছিল বলে আদালতে জানানো হয়েছিল।
তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া অনেকটা এগিয়ে যাওয়ায় এই পর্যায়ে আদালত কত দূর হস্তক্ষেপ করতে পারে, সেই প্রশ্নও উঠেছে। মনোনয়ন, পরীক্ষা ও প্রত্যাহারের পর্ব ইতিমধ্যেই শেষ। কমিশনের দাবি, আইএসএফ নতুন ‘আলমারি’ প্রতীক নিয়ে প্রচার করছে; মামলা করে ভোট আটকানোর চেষ্টা হচ্ছে। এই বক্তব্য কমিশনের অভিযোগ হিসেবেই আদালতে পেশ করা হয়েছে। আদালত এখনও ভোট পিছোনোর নির্দেশ দেয়নি।
মামলার নিষ্পত্তির আগে তাই আইএসএফ খাম ফিরে পেয়েছে কিংবা বিদ্রোহী তৃণমূলের বরাদ্দ বাতিল হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই। আপাতত প্রতীক বণ্টনের প্রক্রিয়া ও তার যুক্তি বিচারাধীন। নন্দীগ্রামের ভোটের আগে সেই প্রশ্নে হাইকোর্টের সংরক্ষিত রায়ই এখন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



