‘দেওয়াঙ্গি’য়েও মিঠুন-ম্যাজিক!

যা জানা জরুরি
- শাহরুখ খান, সলমন খান থেকে শুরু করে একাধিক প্রজন্মের জনপ্রিয় মুখ—‘ওম শান্তি ওম’-এর ‘দেওয়াঙ্গি দেওয়াঙ্গি’ যেন একসঙ্গে জ্বলে ওঠা তারকার মেলা।
- কিন্তু সেই তারকাখচিত সেটেও একজনের আগমন সব আলো কেড়ে নিয়েছিল—মিঠুন চক্রবর্তী।
- মিঠুনকে দেখেই সেটে এমন হইচই শুরু হয়েছিল যে এক মহিলা পর্যন্ত অজ্ঞান হয়ে যান।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
এক গানে বলিউডের তিরিশেরও বেশি তারকা। শাহরুখ খান, সলমন খান থেকে শুরু করে একাধিক প্রজন্মের জনপ্রিয় মুখ—‘ওম শান্তি ওম’-এর ‘দেওয়াঙ্গি দেওয়াঙ্গি’ যেন একসঙ্গে জ্বলে ওঠা তারকার মেলা। কিন্তু সেই তারকাখচিত সেটেও একজনের আগমন সব আলো কেড়ে নিয়েছিল—মিঠুন চক্রবর্তী।
মিঠুনকে দেখেই সেটে এমন হইচই শুরু হয়েছিল যে এক মহিলা পর্যন্ত অজ্ঞান হয়ে যান। পরে সেই ঘটনাই জায়গা করে নেয় গানের দৃশ্যে। সম্প্রতি মিঠুনের মুম্বইয়ের বাড়িতে গিয়ে নিজের ইউটিউব ভ্লগে সেই দিনের স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন পরিচালক-নৃত্যশিল্পী ফারহা খান।
ফারহা মিঠুন এবং তাঁর ছেলেদের সঙ্গে আড্ডায় ‘দেওয়াঙ্গি দেওয়াঙ্গি’-র শুটিংয়ের প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর কথায়, একের পর এক বড় তারকা সেটে এলেও মিঠুনের প্রবেশের পর পরিস্থিতিই বদলে গিয়েছিল। তাঁর উপস্থিতি ঘিরে কর্মীদের উচ্ছ্বাস দেখে ফারহা এবং শাহরুখও নাকি অবাক হয়ে গিয়েছিলেন।
অজ্ঞান ভক্ত, ক্যামেরায় সেই মুহূর্ত
মিঠুন সেটে পৌঁছতেই তাঁকে ঘিরে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। এমনকি আলোর দায়িত্বে থাকা এক কর্মীও নিজের কাজ ছেড়ে ছুটে আসেন অভিনেতার সঙ্গে দেখা করতে।
আর সেই উন্মাদনার মধ্যেই ঘটে যায় আরও চমকপ্রদ ঘটনা—এক মহিলা মিঠুনকে দেখে অজ্ঞান হয়ে যান। ঘটনাটি পরিচালকের এতটাই মনে ধরেছিল যে সেটিকে বাদ না দিয়ে গানের দৃশ্যেই ব্যবহার করেন ফারহা।
তখনও ‘ডান্স ইন্ডিয়া ডান্স’-এর বিচারক হিসেবে মিঠুনের সেই পরবর্তী টেলিভিশন-জনপ্রিয়তার সময় আসেনি। অর্থাৎ, পর্দায় তাঁর জনপ্রিয়তার বাইরে বহু বছর ধরে তৈরি হওয়া এক ধরনের তারকা-আবেগই তখন সেটে সামনে এসেছিল।
শাহরুখকে ‘চাঁটি’ মিঠুনের!
শুটিংয়ে মজার ঘটনা ঘটেছিল শাহরুখ খানকে নিয়েও। ফারহা তাঁকে বলেছিলেন, মিঠুন যে ভাবে নাচছেন, ঠিক সেই ভঙ্গি অনুসরণ করতে। কিন্তু মিঠুনের নাচের স্টেপ ধরতে গিয়ে বেকায়দায় পড়েন শাহরুখ।
তখন মিঠুন মজা করে শাহরুখের মাথায় হালকা চাঁটি দিতে শুরু করেন। মুহূর্তটা এতটাই স্বতঃস্ফূর্ত ছিল যে শেষ পর্যন্ত সেটিও বাদ যায়নি। ‘দেওয়াঙ্গি দেওয়াঙ্গি’-র চূড়ান্ত দৃশ্যে রয়ে যায় দুই তারকার সেই মজার মুহূর্ত।
মিঠুনকে ঘিরে এমন উন্মাদনার কথা অবশ্য এই প্রথম বলেননি ফারহা। ২০২৪ সালে রেডিয়ো নশাকে দেওয়া তাঁর এক সাক্ষাৎকারের সূত্রে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, মিঠুনের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য সেটের কর্মীরা নিজেদের ফোন শাহরুখের হাতেই তুলে দিচ্ছিলেন।
অর্থাৎ, ছবির নায়ক তখন নিজেই হয়ে গিয়েছিলেন অন্য এক নায়কের অনুরাগীদের ফটোগ্রাফার!
ফারহার ব্যাখ্যায়, চলচ্চিত্রকর্মীদের কাছে মিঠুনের জনপ্রিয়তার পিছনে শুধু পর্দার তারকা-ইমেজ নয়, তাঁদের প্রতি তাঁর দীর্ঘদিনের সহযোগিতারও ভূমিকা ছিল। তাই সেটের কর্মীদের আবেগে ব্যক্তিগত শ্রদ্ধার ছাপও ছিল।
এক গানে তারকার পর তারকা
‘দেওয়াঙ্গি দেওয়াঙ্গি’-র মূল আকর্ষণই ছিল প্রজন্মের পর প্রজন্মের তারকাকে এক ফ্রেমে আনা। ধর্মেন্দ্র, জিতেন্দ্র, রেখা এবং মিঠুনের পাশাপাশি দেখা গিয়েছিল সলমন খান, সইফ আলি খান, সঞ্জয় দত্ত, কাজল, রানি মুখোপাধ্যায়-সহ এক ঝাঁক জনপ্রিয় মুখকে।
বিশাল-শেখরের সুরে এবং জাভেদ আখতারের কথায় তৈরি গানটি তাই শুধু ছবির একটি গান ছিল না—ছিল বলিউডের তারকা-সংস্কৃতিকে উদ্যাপনের এক আলাদা আয়োজন। আর সেই বিশাল তারকা-সমাবেশেও সেটের কর্মীদের চোখে মিঠুনের আগমন যে আলাদা মাত্রা তৈরি করেছিল, ফারহার স্মৃতিচারণে সেটিই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে মজার গল্প।
‘মৃগয়া’ থেকে ‘ডিস্কো ডান্সার’
মিঠুনের সেই জনপ্রিয়তার শিকড় অবশ্য আরও গভীরে। ১৯৭৬ সালে মৃণাল সেনের ‘মৃগয়া’ দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক। প্রথম ছবিতেই জাতীয় পুরস্কার।
এর পর ১৯৮২ সালের ‘ডিস্কো ডান্সার’ তাঁকে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। নাচ, অভিনয় এবং পর্দার উপস্থিতি—সব মিলিয়ে ছবিটি শুধু ভারতেই নয়, দেশের বাইরেও বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।
বাংলা ও হিন্দি-সহ একাধিক ভাষার ছবিতে দীর্ঘ অভিনয়জীবন কাটিয়েছেন মিঠুন। পেয়েছেন তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ২০২৪ সালে তাঁকে দেওয়া হয় পদ্মভূষণ। একই বছর ২০২২ সালের জন্য নির্ধারিত দাদাসাহেব ফালকে সম্মানও তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
তবে পুরস্কার আর বক্স অফিসের হিসাবের বাইরেও তারকার জনপ্রিয়তার মাপ কখনও কখনও ধরা পড়ে এমন ছোট ছোট ঘটনায়—একজন কর্মীর কাজ ফেলে ছুটে আসা, শাহরুখের হাতে ফোন তুলে দেওয়া, কিংবা প্রিয় তারকাকে দেখে সত্যিই অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।
২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ওম শান্তি ওম’-এর ‘দেওয়াঙ্গি দেওয়াঙ্গি’ তাই আজও শুধু তারকাদের তালিকা নয়। ফারহার স্মৃতিতে সেটি হয়ে আছে এমন এক দিনের গল্প, যখন একই ফ্রেমে থাকা বহু তারকার মাঝেও মিঠুন চক্রবর্তীকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল আলাদা এক ‘দেওয়াঙ্গি’।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



