খবর

জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে পাটনায় সংঘর্ষ, বিক্ষোভ ঠেকাতে জলকামান

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তপ্ত হল পাটনা।
  • সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, বিহারের রাজধানীর ডাকবাংলো মোড়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে।
  • ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভকারীরা এগোনোর চেষ্টা করলে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তপ্ত হল পাটনা। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, বিহারের রাজধানীর ডাকবাংলো মোড়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভকারীরা এগোনোর চেষ্টা করলে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলনের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও মিছিলকারীদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ ধস্তাধস্তিও হয়।

এদিনের মিছিলে সিপিআই এবং বিভিন্ন ছাত্র, যুব, কৃষক ও শ্রমিক সংগঠনের কর্মীরা যোগ দেন। গান্ধী ময়দান সংলগ্ন জয়প্রকাশ নারায়ণ গোলম্বর থেকে মিছিল শুরু হয়। লক্ষ্য ছিল রাজ্যপালের বাসভবন লোকভবনের দিকে যাওয়া। ডাকবাংলো মোড়ে পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। সেখানেই উত্তেজনা বাড়ে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় অনিয়ম হয়েছে এবং মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার বিপন্ন করা হচ্ছে। এই অভিযোগ তুলে তাঁরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেন।

পুলিশের বক্তব্য অবশ্য ভিন্ন। পাটনার এসএসপি কার্তিকেয় শর্মার দাবি, ভিড়ের মধ্যে কিছু অসামাজিক ব্যক্তি ঢুকে পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। পাথর ছোড়ার ঘটনায় কয়েকজন আহত হন বলেও তিনি জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরেও ডাকবাংলো মোড়ে অবরোধ চলতে থাকে। এর ফলে অ্যাম্বুল্যান্স-সহ জরুরি পরিষেবা ব্যাহত হয়। পরে রাস্তার একাংশ খালি করা হয়। কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে পুলিশের গাড়িতে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

সিপিআই জানিয়েছে, পরে রাজ্যপাল সৈয়দ আতা হাসনইনের কাছে দাবিপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের পাশাপাশি এসআইআর বাতিল এবং ওয়াক্‌ফ সংশোধনী আইন প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। কর্মসংস্থান ও কৃষির প্রশ্নও ছিল দাবিপত্রে। গ্রামীণ কর্মসংস্থানে বছরে ২০০ দিনের কাজ, ন্যূনতম মজুরি, খেতমজুরদের জন্য কেন্দ্রীয় আইন, নতুন শ্রমবিধি প্রত্যাহার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বেসরকারিকরণ বন্ধের দাবি তোলেন আন্দোলনকারীরা। কৃষিঋণ মকুব ও ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে ফসল কেনার আইনি নিশ্চয়তাও চাওয়া হয়েছে। কর্মসূচিতে এআইএসএফ, এআইওয়াইএফ, বিহার মহিলা সমাজ, বিহার রাজ্য কিষান সভা, ভারতীয় খেত মজদুর ইউনিয়ন, এআইটিইউসি এবং তনজিম-এ-ইনসাফের প্রতিনিধিরাও ছিলেন। কৃষকদের দাবির মধ্যে ছিল ফসলবিমা এবং ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিল।

স্থানীয় সমস্যাগুলিও এদিনের কর্মসূচিতে উঠে আসে। বন্যা ও খরায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা, বেকারত্বের মোকাবিলা এবং কাজের খোঁজে বিহার ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার প্রবণতা ঠেকানোর দাবি ওঠে। নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিয়েও রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেন আন্দোলনকারীরা। ফলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগকে সামনে রেখে শুরু হওয়া প্রতিবাদে জীবিকা, কৃষি এবং আইনশৃঙ্খলার একাধিক প্রশ্ন একসঙ্গে উঠে এসেছে। মিছিলের জেরে শহরের যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে।

এর আগে শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, পাটনায় পৃথক কর্মসূচি করেছিল কংগ্রেস। প্রদেশ সভাপতি রাজেশ রামের নেতৃত্বে সেই মিছিলেও পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। কংগ্রেসের অভিযোগ ছিল, এসআইআরের মাধ্যমে ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে বিজেপি ও তার শরিকদের সুবিধা করে দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত তালিকার ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচন বাতিল করে নতুন করে ভোটের দাবিও জানানো হয়। সোমবারের বাম সংগঠনগুলির মিছিল এবং শুক্রবারের কংগ্রেস কর্মসূচি একই বিতর্কের সূত্রে হলেও পৃথক ঘটনা।

নির্বাচন কমিশন অবশ্য অনিয়মের অভিযোগ মানেনি। কমিশনের বক্তব্য, সদস্যদের প্রশ্ন, পর্যবেক্ষণ ও লিখিত নোট অভ্যন্তরীণ আলোচনার স্বাভাবিক অঙ্গ। এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলির আইনি ভিত্তি রয়েছে এবং সেগুলি সর্বসম্মতভাবে নেওয়া হয়েছে বলেও কমিশন জানিয়েছে। অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতৃত্বের অভিযোগ, অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাজের ধরন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। কমিশনের এই ব্যাখ্যা এবং বিরোধীদের অভিযোগের মধ্যেই পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলছে।

সোমবারের ঘটনায় তাই দু’টি পৃথক দাবি সামনে এসেছে: আন্দোলনকারীরা ভোটার তালিকা ও নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি চাইছেন; পুলিশ বলছে, রাস্তা অবরোধ এবং পাথর ছোড়ার কারণে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles