খবর

দশ লাখ ডলার গোল্ডির জন‍্য

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • সম্ভল হিংসার ঘটনায় অভিযুক্ত মোল্লা আফরোজের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইন বা এনএসএ-তে জারি করা আটকাদেশ বাতিল করল সুপ্রিম কোর্ট।
  • মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে।
  • বেআইনিভাবে প্রতিরোধমূলক আটকের নির্দেশ দেওয়ার জন্য উত্তরপ্রদেশ সরকারকে প্রায় ১১,৫০০ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

সম্ভল হিংসার ঘটনায় অভিযুক্ত মোল্লা আফরোজের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইন বা এনএসএ-তে জারি করা আটকাদেশ বাতিল করল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। বেআইনিভাবে প্রতিরোধমূলক আটকের নির্দেশ দেওয়ার জন্য উত্তরপ্রদেশ সরকারকে প্রায় ১১,৫০০ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে আফরোজের আটকাদেশ বহাল রাখা এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ও খারিজ করা হয়েছে।

মামলার কেন্দ্রে ছিল পুলিশি হেফাজতে আফরোজের দেওয়া কথিত স্বীকারোক্তি। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, ওই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে এভাবে প্রতিরোধমূলক আটকের নির্দেশ দেওয়া যায় না। কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকা এবং তাঁকে ভবিষ্যৎ বিপদের আশঙ্কায় বিশেষ আইনে আটকে রাখা—দুটি এক বিষয় নয়। প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ভিত্তি কতটা নির্ভরযোগ্য, এই মামলায় মূল প্রশ্ন উঠেছিল সেখানেই।

আদালতের ধার্য এই অর্থ কোনও ফৌজদারি দণ্ড নয়। মামলায় সরকারের বেআইনি পদক্ষেপের জন্য আদালত যে অর্থ ধার্য করেছে, সেটিই এখানে ক্ষতিপূরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

কী হয়েছিল সম্ভলে?

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের নভেম্বরে। উত্তরপ্রদেশের সম্ভলের শাহী জামা মসজিদে আদালতের নির্দেশে সমীক্ষা চলাকালীন সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। হিংসায় চারজনের মৃত্যু হয়। পুলিশ আফরোজকে ঘটনার অন্যতম মূল ষড়যন্ত্রকারী বলে অভিযুক্ত করে।

ঘটনার প্রায় ৫৪ দিন পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পরে এলাহাবাদ হাইকোর্ট থেকে জামিনও পান তিনি। কিন্তু জামিনের পরও মুক্তি মেলেনি। ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর তাঁর বিরুদ্ধে এনএসএ-তে আটকাদেশ জারি করে উত্তরপ্রদেশ সরকার।

আফরোজ সেই আটকাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করলে হাইকোর্ট তা বহাল রাখে। এরপর সুপ্রিম কোর্টে যান তিনি। ফলে সর্বোচ্চ আদালতের সামনে প্রশ্ন দাঁড়ায়—সাধারণ ফৌজদারি মামলায় চলা তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার বাইরে প্রশাসন যে প্রতিরোধমূলক আটক করেছে, তার আইনি ভিত্তি যথেষ্ট ছিল কি না।

‘আবার হিংসা হতে পারে’

আফরোজকে আটকে রাখার পক্ষে উত্তরপ্রদেশ সরকারের যুক্তি ছিল, তিনি মুক্তি পেলে এলাকায় ফের হিংসা ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই সম্ভাবনা ঠেকাতেই এনএসএ প্রয়োগ করা হয়েছিল বলে দাবি করে সরকার।

কিন্তু সেই আশঙ্কার পক্ষে কী নির্ভরযোগ্য উপাদান ছিল, তা নিয়েই শুনানিতে প্রশ্ন ওঠে। গত ৮ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে বেঞ্চ জানতে চেয়েছিল, পুলিশি হেফাজতে দেওয়া কথিত স্বীকারোক্তি দিয়ে আটককারী কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ‘সন্তুষ্টি’ তৈরি করা যায় কি না।

আফরোজের আইনজীবীদের বক্তব্য ছিল, কারও বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা থাকলেই তাঁকে প্রতিরোধমূলকভাবে আটকে রাখা যায় না। ভবিষ্যতে ফের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার পক্ষে নির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য উপাদানও থাকা প্রয়োজন। নিজেদের যুক্তির সমর্থনে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের আগের একাধিক রায়ের উল্লেখ করেন।

৫৪ দিন কেন?

তদন্তের উপাদান নিয়েও প্রশ্ন তোলে বেঞ্চ। ঘটনার প্রথম দিন থেকেই সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেলে আফরোজকে অভিযুক্ত বা গ্রেফতার করতে ৫৪ দিন সময় লাগল কেন, তা জানতে চায় আদালত।

আটকাদেশের পক্ষে দেওয়া নথিতে ওই ফুটেজের উল্লেখ না থাকার বিষয়টিও উঠে আসে। পাশাপাশি মোবাইলের বার্তা মুছে ফেলার অভিযোগের সঙ্গে একটি কথিত বার্তার উপর নির্ভর করার মধ্যে যে অসংগতি রয়েছে, তা নিয়েও রাজ্যকে প্রশ্ন করেন বিচারপতিরা।

সব মিলিয়ে আদালতের নজর ছিল একটি মৌলিক প্রশ্নে—ভবিষ্যতে জনশৃঙ্খলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখিয়ে কাউকে প্রতিরোধমূলকভাবে আটকে রাখার যে অসাধারণ ক্ষমতা প্রশাসনের হাতে রয়েছে, সেটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে যথেষ্ট ও নির্ভরযোগ্য উপাদান ছিল কি না।

অভিযোগ থেকে খালাস নয়

রায়ের তাৎপর্য বুঝতে একটি পার্থক্য মনে রাখা জরুরি। সুপ্রিম কোর্ট আফরোজের বিরুদ্ধে এনএসএ-তে জারি করা আটকাদেশের বৈধতা পরীক্ষা করে সেটি বাতিল করেছে। এর অর্থ এই নয় যে সম্ভলের হিংসা সংক্রান্ত সমস্ত ফৌজদারি অভিযোগ থেকেও তিনি খালাস পেয়েছেন।

অপরাধের অভিযোগের তদন্ত ও বিচার এক বিষয়; আর বিচার শুরুর আগেই ভবিষ্যৎ বিপদের আশঙ্কায় কাউকে প্রতিরোধমূলকভাবে আটকে রাখার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বৈধতা অন্য বিষয়। মঙ্গলবারের রায়টি দ্বিতীয় বিষয়টিকেই কেন্দ্র করে।

রায় উৎসর্গ প্রয়াত ল’ ক্লার্ককে

রায় ঘোষণার দিন একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তও তৈরি হয়। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত তাঁর প্রয়াত ল’ ক্লার্ক ঋত্বিক দেশওয়ালকে স্মরণ করেন এবং রায়টি তাঁকে উৎসর্গ করেন।

সাতাশতম জন্মদিনের আগেই মৃত্যু হয়েছিল ঋত্বিকের। বিচারপতি জানান, এই রায় তৈরির গবেষণায় তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল। তাঁর শেষ কাজের ছাপও রায়ে থেকে গিয়েছে বলে উল্লেখ করেন বিচারপতি।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles