খবর

বাষট্টির বীর জশবন্তের পৈতৃক ভিটেতে সংগ্রহশালা, উদ্যোগ বিজেপি সাংসদের

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ারঃ ১৯৬২ সালের ভারত–চিন যুদ্ধে নিহত রাইফেলম্যান জশবন্ত সিং রাওয়াতের জরাজীর্ণ পৈতৃক বাড়ি সংস্কার করে সংগ্রহশালা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন গাড়োয়ালের বিজেপি সাংসদ অনিল…
  • উত্তরাখণ্ডের ল্যান্সডাউন বিধানসভা এলাকার বাড়িয়ুঁ গ্রামে ওই বাড়ি অবস্থিত।
  • একুশ বছর বয়সে যুদ্ধে প্রাণ দেওয়া এই সেনার স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়ে মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ারঃ ১৯৬২ সালের ভারত–চিন যুদ্ধে নিহত রাইফেলম্যান জশবন্ত সিং রাওয়াতের জরাজীর্ণ পৈতৃক বাড়ি সংস্কার করে সংগ্রহশালা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন গাড়োয়ালের বিজেপি সাংসদ অনিল বালুনি। উত্তরাখণ্ডের ল্যান্সডাউন বিধানসভা এলাকার বাড়িয়ুঁ গ্রামে ওই বাড়ি অবস্থিত। একুশ বছর বয়সে যুদ্ধে প্রাণ দেওয়া এই সেনার স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়ে মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

সম্প্রতি রাওয়াতের পৈতৃক গ্রামে গিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন বালুনি। বাড়িটিকে সংগ্রহশালায় রূপান্তরের প্রস্তাবে পরিবার সম্মতি দিয়েছে বলে অন্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও জানানো হয়েছে। সাংসদের বক্তব্য, অবহেলায় পড়ে থাকা ঐতিহাসিক বাড়িটি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সংস্কার করা হবে। সেখানে তুলে ধরা হবে রাওয়াতের জীবন ও বীরত্বের ইতিহাস।

বালুনির ঘোষণায় বাড়িয়ুঁকে এমন একটি স্মৃতিস্থান হিসেবে গড়ে তোলার ভাবনা রয়েছে, যেখানে এসে নতুন প্রজন্ম দেশের জন্য প্রাণ দেওয়া এক তরুণ সৈনিকের কথা জানতে পারবে। দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের কাছেও তাঁর আত্মত্যাগের ইতিহাস পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেছেন সাংসদ। স্থানীয় সূত্রে প্রকাশিত খবরে গ্রামে ‘জশবন্ত দ্বার’ নামে একটি প্রবেশপথ নির্মাণ এবং সংগ্রহশালায় গাড়োয়াল রাইফেলসের ইতিহাস তুলে ধরার পরিকল্পনার কথাও রয়েছে। তবে সংগ্রহশালা তৈরির ঘোষণা এবং তার নির্মাণ সম্পূর্ণ হওয়া পৃথক বিষয়; প্রকল্পটি এখনও ঘোষণার পর্যায়ে।

রাওয়াতের জন্ম ১৯৪১ সালের ১৯ আগস্ট। ১৯৬০ সালের একই দিনে তিনি সেনাবাহিনীর চতুর্থ গাড়োয়াল রাইফেলসে যোগ দেন। দু’বছর পরে চিনের সঙ্গে যুদ্ধে তাঁর বাহিনী মোতায়েন হয় তৎকালীন নর্থ-ইস্ট ফ্রন্টিয়ার এজেন্সি বা নেফায়, যা বর্তমানে অরুণাচল প্রদেশের অন্তর্গত। নুরানাংয়ের যুদ্ধে অসামান্য সাহসের জন্য তাঁকে মরণোত্তর মহাবীর চক্র দেওয়া হয়।

সরকারি বীরত্বের বিবরণ অনুযায়ী, ১৯৬২ সালের ১৭ নভেম্বর নুরানাংয়ের কাছে ভারতীয় অবস্থানে বারবার আক্রমণ চালায় চিনা বাহিনী। একপর্যায়ে শত্রুপক্ষের একটি মাঝারি মেশিনগান ভারতীয় প্রতিরক্ষার খুব কাছে চলে আসে। সেটিকে নিষ্ক্রিয় করতে রাওয়াত এবং আরও দুই সেনা স্বেচ্ছায় এগিয়ে যান। একজন আড়াল থেকে গুলি চালিয়ে সহায়তা করেন; রাওয়াত ও অন্য সহযোদ্ধা গ্রেনেড ছুড়ে মেশিনগানের অবস্থানে আঘাত করেন। অস্ত্রটি দখল করে নিজের অবস্থানে ফেরার সময়ে মাথায় গুলি লাগে রাওয়াতের। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁকে ঘিরে অবশ্য বহুল প্রচলিত আরেকটি কাহিনি রয়েছে—তিনি নাকি একাই টানা ৭২ ঘণ্টা চিনা বাহিনীকে আটকে রেখেছিলেন। কিন্তু সরকারি বীরত্বের বিবরণে একা তিন দিন যুদ্ধ করার কথা নেই; সেখানে সহযোদ্ধাদের সঙ্গে মেশিনগান দখলের অভিযানের কথা রয়েছে। ফলে ‘গোটা চিনা সেনাবাহিনীকে একা আটকে দেওয়ার বক্তব্যকে যাচাই করা সামরিক ইতিহাস হিসেবে উপস্থাপন করা যায় না।

রাওয়াতের স্মৃতি রক্ষার এই উদ্যোগের মূল্য এখানেই—এক তরুণ সৈনিকের বাস্তব সাহস ও আত্মত্যাগকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সেই স্মৃতি সংরক্ষণে নথিভুক্ত ইতিহাস ও তাঁকে ঘিরে গড়ে ওঠা লোককথার পার্থক্য বজায় রাখাও জরুরি। সহযোদ্ধাদের সঙ্গে বিপজ্জনক অভিযানে গিয়ে প্রাণ দেওয়ার প্রতিষ্ঠিত ঘটনাটিই তাঁর অসামান্য বীরত্বের সাক্ষ্য।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles