সোহরাবুদ্দিন মামলা: ২২ জনের খালাস খতিয়ে দেখবে সুপ্রিম কোর্ট, শাহের অব্যাহতি নয়

যা জানা জরুরি
- সোহরাবুদ্দিন শেখের কথিত ভুয়ো সংঘর্ষে মৃত্যুর মামলায় ২২ জন অভিযুক্তের খালাসের সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখতে রাজি হল সুপ্রিম কোর্ট।
- তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।
- সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, নিহতের ভাই রুবাবুদ্দিন শেখের আবেদনে নোটিস জারি করে আদালত।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
সোহরাবুদ্দিন শেখের কথিত ভুয়ো সংঘর্ষে মৃত্যুর মামলায় ২২ জন অভিযুক্তের খালাসের সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখতে রাজি হল সুপ্রিম কোর্ট। তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, নিহতের ভাই রুবাবুদ্দিন শেখের আবেদনে নোটিস জারি করে আদালত। ফলে দীর্ঘদিনের এই মামলায় বিচারপ্রক্রিয়ার যথার্থতা ফের সর্বোচ্চ আদালতের পরীক্ষার মুখে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চের সামনে মূল প্রশ্ন হয়ে উঠেছে বিপুলসংখ্যক সাক্ষীর বিরূপ হয়ে যাওয়া। বিচারে মোট ২১০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৯২ জন অভিযোগপক্ষের বক্তব্য সমর্থন করেননি। বিচারপতি বাগচী এই পরিস্থিতিকে গভীর উদ্বেগের বিষয় বলে উল্লেখ করেন। নিম্ন আদালত ও হাই কোর্ট একই সিদ্ধান্তে পৌঁছলেও, বিচার সুষ্ঠু ও ন্যায়সংগত হয়েছিল কি না, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
প্রধান বিচারপতিও কয়েকজন সাক্ষীর বয়ান পরীক্ষা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। আবেদনকারীর আইনজীবীকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত চার-পাঁচটি সাক্ষ্য আদালতের সামনে পেশ করতে বলা হয়। আবেদনকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডুর যুক্তি, গুলির আঘাত, উদ্ধার হওয়া কার্তুজ এবং ফরেনসিক প্রমাণ ঘটনার সত্য উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কিছু সাক্ষী বিরূপ হয়েছেন বলেই অন্য প্রমাণের গুরুত্ব উপেক্ষা করা যায় না বলে তিনি সওয়াল করেন।
মামলার সূত্রপাত ২০০৫ সালে। অভিযোগপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, হায়দরাবাদ থেকে মহারাষ্ট্রগামী বাসে যাওয়ার সময় সোহরাবুদ্দিন, তাঁর স্ত্রী কওসর বি এবং সহযোগী তুলসীরাম প্রজাপতিকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। পরে আমদাবাদের কাছে কথিত সংঘর্ষে সোহরাবুদ্দিনকে হত্যা করা হয়। অভিযোগ, কয়েক দিন পরে কওসর বিকেও মেরে ফেলা হয়। ২০০৬ সালে গুজরাত-রাজস্থান সীমান্তে পৃথক সংঘর্ষে নিহত হন তুলসীরাম। এই হত্যাগুলি পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলে নিহতের পরিবার অভিযোগ করে এসেছে।
গুজরাত পুলিশের তদন্ত নিয়ে আপত্তির পর ২০১০ সালে সুপ্রিম কোর্ট তদন্তভার সিবিআইকে দেয়। ২০১২ সালে বিচার গুজরাত থেকে মুম্বইয়ে সরানোর নির্দেশ আসে। ২০১৮ সালের ২১ ডিসেম্বর বিশেষ আদালত বিচারাধীন ২২ জনকেই খালাস দেয়। তাঁদের মধ্যে ২১ জন ছিলেন পুলিশকর্মী। চলতি বছরের ৭ মে বম্বে হাই কোর্ট সেই রায় বহাল রাখে। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন রুবাবুদ্দিন।
হাই কোর্টের যুক্তি ছিল, অভিযোগপক্ষের মামলা মূলত পারিপার্শ্বিক প্রমাণনির্ভর এবং সেই প্রমাণের শৃঙ্খলে একাধিক যোগসূত্র অনুপস্থিত। অপহরণ, বেআইনি আটক ও হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ মানদণ্ডে প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে আদালত জানিয়েছিল। বিপুলসংখ্যক সাক্ষী বিরূপ হয়েছেন বলেই বিচার যথাযথ হয়নি, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না বলেও হাই কোর্টের অভিমত ছিল। রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশের যোগসাজশের অভিযোগের পক্ষেও প্রমাণ মেলেনি বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। হাই কোর্ট বলেছিল, সাক্ষ্যপ্রমাণের অন্য ব্যাখ্যা সম্ভব হলেই খালাসের রায় বদলানো যায় না। নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তে আইনগত ত্রুটি বা অযৌক্তিকতা আছে কি না, তা দেখতে হয়; অভিযুক্তের নির্দোষ থাকার অনুমানও বিবেচনায় রাখতে হয়।
অমিত শাহের প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান অবশ্য স্পষ্ট। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগে হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে আবেদন খারিজ হয়েছে। হাই কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের ৪৩ নম্বর অনুচ্ছেদে শাহের অব্যাহতি চ্যালেঞ্জ করে অন্য এক ব্যক্তির আবেদনের বিষয়টি রয়েছে। বর্তমান শুনানিতে সেই অংশ খোলা হবে না বলে বেঞ্চ জানায়।
খালাস পাওয়া কয়েকজনের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কে পরমেশ্বর বলেন, দু’টি আদালতই বিস্তারিত যুক্তির ভিত্তিতে তাঁদের মুক্তি দিয়েছে। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসানে তিনি দ্রুত শুনানির আর্জিও জানান। সুপ্রিম কোর্ট আপাতত খালাসের রায় বাতিল করেনি, কাউকে দোষীও সাব্যস্ত করেনি। সাক্ষ্য এবং বিচারপ্রক্রিয়া পরীক্ষা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে আদালত।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



