International

শিকে অস্ত্র, নাকি কথার চাল?

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে আতিথ্য দেওয়ার সময় তাঁকে মার্কিন অস্ত্র কিনতে আগ্রহী কি না, সরাসরি জিজ্ঞেস করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমন দাবি করেছেন চিনে নিযুক্ত মার্কিন…
  • তবে এই মন্তব্যের পরই ওয়াশিংটন জানিয়েছে, চিনকে অস্ত্র বিক্রির কোনও পরিকল্পনা নেই।
  • মার্কিন বিদেশ দফতরের বক্তব্য, চিনের কাছে অস্ত্র বিক্রি মার্কিন আইনে নিষিদ্ধ।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে আতিথ্য দেওয়ার সময় তাঁকে মার্কিন অস্ত্র কিনতে আগ্রহী কি না, সরাসরি জিজ্ঞেস করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমন দাবি করেছেন চিনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ। তবে এই মন্তব্যের পরই ওয়াশিংটন জানিয়েছে, চিনকে অস্ত্র বিক্রির কোনও পরিকল্পনা নেই। মার্কিন বিদেশ দফতরের বক্তব্য, চিনের কাছে অস্ত্র বিক্রি মার্কিন আইনে নিষিদ্ধ।

রবিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পারডিউ বলেন, ট্রাম্প বারবারই তাঁকে বলতে শুনিয়েছেন যে আমেরিকা বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে অস্ত্র বিক্রি করে। এক পর্যায়ে শিকে তিনি সরাসরি জিজ্ঞেস করেন, চিন মার্কিন অস্ত্র কিনতে চায় কি না। তবে পারডিউর বক্তব্যে এমন কোনও ইঙ্গিত নেই যে এর ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক কোনও অস্ত্রচুক্তির প্রস্তাব তৈরি হয়েছিল।

তাইওয়ান প্রসঙ্গে মার্কিন নীতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন পারডিউ। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাইওয়ান কয়েক মাস ধরে প্রায় ১,৪০০ কোটি ডলারের একটি নতুন মার্কিন অস্ত্র প্যাকেজের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। গত বছর ডিসেম্বরে তাইওয়ানের জন্য প্রায় ১,১১0 কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রিও অনুমোদিত হয়েছিল।

এই অস্ত্রচুক্তি নিয়ে বেজিংয়ের আপত্তি দীর্ঘদিনের। চিন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং দ্বীপটিকে অস্ত্র দেওয়ার মার্কিন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকেও শি তাঁকে ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’-র বিরোধিতা করার আহ্বান জানান বলে চিনের সরকারি বিবরণে জানানো হয়েছে।

তাইওয়ানকে ঘিরে ওয়াশিংটনের অবস্থানও দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের কৌশলগত অস্পষ্টতার মধ্যে রয়েছে। আমেরিকা প্রকাশ্যে বলে না, চিন তাইওয়ানে আক্রমণ করলে মার্কিন সেনা সরাসরি যুদ্ধে নামবে কি না। তবে Taiwan Relations Act-এর অধীনে তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার জন্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেওয়ার মার্কিন নীতি বহু দশক ধরে বজায় রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটেই ট্রাম্পের কথিত মন্তব্যটি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। মে মাসে শির সঙ্গে বৈঠকের সময় ট্রাম্প তাইওয়ানের জন্য প্রস্তাবিত ১,৪০০ কোটি ডলারের অস্ত্র প্যাকেজটি সাময়িকভাবে আটকে রাখার কথা জানিয়েছিলেন। চিনের সঙ্গে আলোচনায় সেটিকে তিনি ‘খুবই কার্যকর একটি তুরুপের তাস’ হিসেবেও বর্ণনা করেছিলেন।

অন্য দিকে, গত সপ্তাহের শীর্ষ বৈঠকের পর তাইওয়ান নিয়ে নতুন কোনও অস্ত্রচুক্তির ঘোষণা করেননি ট্রাম্প। শনিবার শুধু জানান, তাইওয়ান সম্পর্কে তাঁর অবস্থান শি বোঝেন। পারডিউও এর আগে সিএনবিসিকে বলেছিলেন, অস্ত্র বিক্রিসহ তাইওয়ান নীতিতে কোনও পরিবর্তন হয়নি।

এর পরই আসে ওয়াশিংটনের স্পষ্টীকরণ। পারডিউয়ের সাক্ষাৎকারের পর হোয়াইট হাউস নিউ ইয়র্ক টাইমস-কে জানায়, চিনের কাছে অস্ত্র বিক্রির কোনও পরিকল্পনা নেই। মার্কিন বিদেশ দফতর আরও স্পষ্ট করে বলে, মার্কিন আইন চিনের কাছে অস্ত্র বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে এবং এমন কোনও প্রস্তাব বা পরিকল্পনাও নেই।

তাই ট্রাম্প সত্যিই কোনও আনুষ্ঠানিক অস্ত্রচুক্তির কথা তুলেছিলেন কি না, নাকি তাইওয়ানকে অস্ত্র দেওয়ার যুক্তি বোঝাতে শির সঙ্গে কথোপকথনে এমন প্রশ্ন করেছিলেন—এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে সরাসরি অস্ত্র বিক্রির সম্ভাবনার কথা এসেছে, কিন্তু মার্কিন প্রশাসনের প্রকাশ্য অবস্থান এখন স্পষ্ট: চিনের কাছে অস্ত্র বিক্রির কোনও পরিকল্পনা নেই।

এদিকে তাইপে পরিস্থিতিটিকে দেখছে আরও নিরাপত্তাকেন্দ্রিক দৃষ্টিতে। তাইওয়ানের উপবিদেশমন্ত্রী চেন মিং-চি সম্প্রতি বলেছেন, তাইওয়ান প্রণালীতে তাঁর দেশ ‘গুরুতর পরিস্থিতির’ মুখোমুখি। চিনের অর্থনীতি দুর্বল হলেও সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে বেজিং বিপুল সম্পদ বিনিয়োগ করে চলেছে বলে তাঁর দাবি। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা প্রয়োজন আমেরিকা ভালোভাবেই বোঝে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অর্থাৎ, একই সময়ে তিনটি আলাদা বার্তা সামনে এসেছে—বেজিংয়ের আপত্তি, তাইপের নিরাপত্তা-উদ্বেগ এবং ওয়াশিংটনের চিনকে অস্ত্র বিক্রির সম্ভাবনা নাকচ করা। আর এই সবকিছুর মাঝখানে রয়েছে পারডিউয়ের সেই মন্তব্য—শিকে ট্রাম্প সত্যিই অস্ত্র কিনতে বলেছিলেন কি না, যার কোনও বিস্তারিত বিবরণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

এই মুহূর্তে নিশ্চিত তথ্য এটুকুই: ট্রাম্প-শি বৈঠকের পর মার্কিন রাষ্ট্রদূত এমন কথোপকথনের কথা জানিয়েছেন, কিন্তু মার্কিন প্রশাসন চিনকে অস্ত্র বিক্রির কোনও পরিকল্পনা থাকার কথা অস্বীকার করেছে। তাই ঘটনাটি আপাতত একটি চমকপ্রদ কূটনৈতিক মন্তব্য হিসেবেই সামনে রয়েছে—চুক্তি হিসেবে নয়।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles