International

ছোট হল, বড় মঞ্চ

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • অথচ মঞ্চের আওয়াজ পৌঁছে যেতে পারে সারা পৃথিবীতে।
  • লন্ডনের ব্যাটারসি পাওয়ার স্টেশনের ভিতরে অ্যাপল তৈরি করেছে এমনই এক নতুন সংগীতকেন্দ্র—যেখানে কনসার্ট শুধু শোনা বা দেখা হবে না, একই সঙ্গে তা রেকর্ড, মিশ্রণ…
  • অ্যাপল ২১ সেপ্টেম্বর নতুন অ্যাপল মিউজিক হল-এর ঘোষণা করেছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

ছ’শো দর্শকের ঘর। অথচ মঞ্চের আওয়াজ পৌঁছে যেতে পারে সারা পৃথিবীতে। লন্ডনের ব্যাটারসি পাওয়ার স্টেশনের ভিতরে অ্যাপল তৈরি করেছে এমনই এক নতুন সংগীতকেন্দ্র—যেখানে কনসার্ট শুধু শোনা বা দেখা হবে না, একই সঙ্গে তা রেকর্ড, মিশ্রণ এবং সম্প্রচারের জন্যও প্রস্তুত করা যাবে।

অ্যাপল ২১ সেপ্টেম্বর নতুন অ্যাপল মিউজিক হল-এর ঘোষণা করেছে। ২২ সেপ্টেম্বর দ্য ভার্জ জানিয়েছে, ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে কেন্দ্রটির কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা। অর্থাৎ ঘোষণার দিন আর জনসাধারণের জন্য দরজা খোলার দিন এক নয়।

প্রায় ৩৮ ফুট চওড়া মঞ্চটিকে প্রয়োজন অনুযায়ী বদলে নেওয়া যাবে। কখনও দর্শকের দিকে মুখ করা প্রচলিত বিন্যাস, কখনও চারদিক থেকে দর্শক ঘেরা মঞ্চ। শ্রোতাদের চারপাশে বসানো ৪৮টি স্পিকার থেকে বিভিন্ন দিক দিয়ে শব্দ পৌঁছবে। লক্ষ্যটা স্পষ্ট—ছোট পরিসরের ঘনিষ্ঠতা আর উন্নত শব্দপ্রযুক্তিকে একই ঘরে আনা।

তবে এই হলের আসল চমক মঞ্চের পিছনে। সেখানে রয়েছে দুটি রেকর্ডিং ও সাউন্ড-মিশ্রণ স্টুডিয়ো। ১৬টি বা তার বেশি ক্যামেরা সরাসরি সম্প্রচার নিয়ন্ত্রণকক্ষে সংযুক্ত করা যাবে। শুধু প্রচলিত ক্যামেরা নয়, প্রয়োজনে আইফোন দিয়েও ছবি তোলার ব্যবস্থা থাকছে। ফলে একটি অনুষ্ঠান থেকেই তৈরি হতে পারে আলাদা শব্দপথের রেকর্ডিং, সম্প্রচারের উপযোগী অডিয়ো মিক্স এবং বিভিন্ন দিক থেকে ধারণ করা ভিডিয়ো।

অর্থাৎ কনসার্ট শেষ হওয়ার পরও কাজ শেষ নয়। মঞ্চে যা ঘটল, তার একটি নতুন জীবন শুরু হতে পারে স্টুডিয়োয়।

ভবনটির পুরনো চেহারাও অবশ্য মুছে ফেলেনি অ্যাপল। ইটের গাঁথনি, খাঁজকাটা খিলান, ব্রোঞ্জের বারান্দা—সবকিছুতেই এখনও বিদ্যুৎকেন্দ্রের অতীতের ছাপ। বড় কাচের দেওয়াল দিয়ে বাইরে এবং নদীর দিকেও চোখ যায়। অ্যাপলের প্রকাশিত নকশা ও ছবিতে এই স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্যগুলি স্পষ্ট। তবে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে শব্দ বা দর্শকের অভিজ্ঞতা বাস্তবে কেমন হবে, তা নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনও নেই।

এই হলের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সম্প্রচার। কিছু অনুষ্ঠান বিশ্বজুড়ে সরাসরি দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে। অ্যাপল মিউজিক রেডিয়োর লন্ডনভিত্তিক অনুষ্ঠান ও উপস্থাপনাও নতুন স্টুডিয়ো থেকে হতে পারে। তবে রেডিয়োর বিনামূল্যের পরিষেবা আর হলের কনসার্টের টিকিট এক জিনিস নয়। রেডিয়ো বিনামূল্যে শোনা যায় মানেই প্রতিটি অনুষ্ঠান বিনামূল্যে দেখা যাবে—এমন ঘোষণা অ্যাপল করেনি।

ব্যাটারসি পাওয়ার স্টেশনের নিজের গল্পটিও কম আকর্ষণীয় নয়। দ্য টাইমস মনে করিয়েছে, পুনর্গঠিত পাওয়ার স্টেশনটি ২০২২ সালে খুলেছে। সেখানে অ্যাপলের বহু কর্মীর দপ্তরও রয়েছে। একসময় যে ভবন বিদ্যুৎ তৈরি করত, সেটিই এখন অফিস, বাণিজ্যিক পরিসর এবং জনসমাগমের জায়গা। তার সঙ্গে এবার যোগ হল সংগীত তৈরি ও বিশ্বজুড়ে পৌঁছে দেওয়ার পরিকাঠামো।

অ্যাপলের লাইভ মিউজিকের ইতিহাস অবশ্য নতুন নয়। প্রায় এক দশক চলার পর ২০১৭ সালে শেষ হয়েছিল আইটিউনস ফেস্টিভ্যাল। তবে ব্যাটারসির এই প্রকল্পকে সেই উৎসবের সরাসরি প্রত্যাবর্তন বলা যাবে না। এখানে তৈরি হচ্ছে একটি স্থায়ী হল—তার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে রেকর্ডিং এবং সম্প্রচারের ব্যবস্থা। কেন্দ্রটির প্রথম দিকের অনুষ্ঠানসূচি সম্পর্কে ঘোষণার সময় বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

তবে প্রযুক্তির তালিকা যতই চমকপ্রদ হোক, তার ব্যবহারিক মূল্য নির্ভর করবে বাস্তব অনুষ্ঠানের উপর। অ্যাপলের দাবি অনুযায়ী, একই জায়গায় শব্দধারণ, মিশ্রণ এবং ভিডিয়ো তৈরি করা সম্ভব। কিন্তু শিল্পীদের জন্য এই ব্যবস্থার খরচ কত, রেকর্ডিংয়ের অধিকার কার হাতে থাকবে, কিংবা পরে সেই কনটেন্ট কীভাবে প্রকাশিত হবে—এসব প্রশ্নের পূর্ণ উত্তর এখনও মেলেনি। তাই প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আর শিল্পীর বাণিজ্যিক সুবিধাকে এক করে দেখা ঠিক হবে না।

বিশ্লেষণ

ছ’শো আসনের একটি ঘরও আজ আর ছ’শো মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মঞ্চে বসা শিল্পীকে সামনে থেকে দেখবেন কয়েকশো মানুষ, আর ক্যামেরার ওপারে সেই একই অনুষ্ঠান পৌঁছতে পারে আরও বহু মানুষের কাছে। ছোট মঞ্চ তাই ছোট দর্শকের সমার্থক নয়।

কিন্তু এখানেই তৈরি হয় নতুন প্রশ্ন। ঘরের দর্শক শিল্পীর সঙ্গে একই সময়ে, একই জায়গায় উপস্থিত। অনলাইন দর্শক সেই মুহূর্ত পান ক্যামেরা, শব্দ এবং সম্পাদনার মধ্য দিয়ে। বিশ্বজোড়া সম্প্রচারের জন্য তৈরি করতে গিয়ে সামনের সারির দর্শক যেন শুধু একটি নিখুঁত শটের পটভূমি হয়ে না যান, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

আর একটি প্রশ্ন আরও বড়—এই মঞ্চে কারা জায়গা পাবেন? প্রতিষ্ঠিত তারকার পাশাপাশি নতুন শিল্পীদের জন্য কতটা সুযোগ তৈরি হবে? তাঁদের রেকর্ডিং ও সম্প্রচারের অধিকার কীভাবে নির্ধারিত হবে? টিকিটের দাম কত মানুষের নাগালের মধ্যে থাকবে?

কারণ একটি অত্যাধুনিক হল স্থানীয় ছোট মঞ্চগুলির বিকল্প নয়। বরং শিল্পীর ছোট পরিসর থেকে বড় শ্রোতার দিকে যাত্রাপথে এটি কী নতুন দরজা খুলতে পারে, সেটিই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ব্যাটারসির নতুন হল তাই আপাতত প্রযুক্তির দিক থেকে চমকপ্রদ একটি প্রতিশ্রুতি। তার সাংস্কৃতিক গুরুত্ব অবশ্য ঠিক করবে মঞ্চে কারা উঠছেন, কী তৈরি হচ্ছে এবং সেই সুর কত দূর পর্যন্ত পৌঁছচ্ছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles