International

এশিয়ার নতুন হিসাব

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • হোয়াইট হাউসে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে স্বাগত জানাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
  • দু’দেশের সম্পর্কের আবহে আপাতত যুদ্ধংদেহী সুর কিছুটা নরম।
  • মনে হচ্ছে, বিশ্বের দুই প্রধান শক্তিই মুখোমুখি সংঘাতের বিরতি আরও কিছুটা দীর্ঘ করতে চাইছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬। হোয়াইট হাউসে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে স্বাগত জানাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দু’দেশের সম্পর্কের আবহে আপাতত যুদ্ধংদেহী সুর কিছুটা নরম। মনে হচ্ছে, বিশ্বের দুই প্রধান শক্তিই মুখোমুখি সংঘাতের বিরতি আরও কিছুটা দীর্ঘ করতে চাইছে।

গত মে মাসে ট্রাম্প বেজিং সফরে গেলে দু’পক্ষ ‘কৌশলগত স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে গঠনমূলক সম্পর্ক’ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছিল। শব্দবন্ধটি চিনেরই তৈরি। তা সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেটি গ্রহণ করেছিলেন বেশ আগ্রহের সঙ্গেই।

এ বার শি-কে স্বাগত জানাতেও আয়োজনের কমতি রাখছেন না ট্রাম্প। অ্যান্ড্রুজের যৌথ সামরিক ঘাঁটিতে নিজে গিয়ে চিনা প্রেসিডেন্টকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন তিনি। অন্য কোনও রাষ্ট্রনেতার ক্ষেত্রে এমন সৌজন্য দেখাননি ট্রাম্প।

তবে এই আড়ম্বরের বাইরে সফর থেকে প্রত্যাশা খুব বেশি নয়। বড় কোনও সার্বিক চুক্তির বদলে দু’দেশের সংঘাতপূর্ণ সম্পর্ক যাতে আরও খারাপ দিকে না যায়, আপাতত সেটাই লক্ষ্য। যদিও ট্রাম্প নিজে ‘জি–২’—দুই মহাশক্তিকে কেন্দ্র করে বিশ্ব পরিচালনার ধারণার প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছেন। এমন ভাবনা ভারত-সহ এশিয়ার বহু দেশের কাছেই উদ্বেগের।

কারণ, মে মাসের সফরের পরেও ওয়াশিংটন ও বেজিংয়ের টানাপোড়েন থামেনি। চিনের অসামরিক ও সামরিক ক্ষেত্রের সমন্বয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে আলিবাবা ও বিওয়াইডি-র মতো চিনা সংস্থাকে তালিকাভুক্ত করেছে পেন্টাগন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে কে কতটা এগোচ্ছে, তা নিয়েও দু’দেশের মধ্যে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চলছে।

অমীমাংসিত রয়েছে আরও একাধিক প্রশ্ন। শুল্ক, অর্ধপরিবাহী প্রযুক্তিতে বিধিনিষেধ, চিনের রফতানি নিয়ন্ত্রণ এবং বিশেষ করে বিরল মৃত্তিকা মৌলের সরবরাহ—সবই আলোচনার টেবিলে। তাইওয়ানকে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করার জন্যও ওয়াশিংটনের উপর চাপ দিচ্ছে বেজিং। চিনের মতে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড় ধরনের সংঘাতের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি এই তাইওয়ান-প্রশ্নেই।

তাই বর্তমান সংঘাতবিরতিকে কেউ কেউ দেখছেন নিছক কৌশলগত বিরাম হিসেবে। তাঁদের মতে, এই সময়টুকু কাজে লাগিয়ে দু’পক্ষই নিজেদের দুর্বলতা কমাচ্ছে এবং প্রয়োজনে প্রতিপক্ষের উপর চাপ বাড়ানোর ক্ষমতা তৈরি করছে। আবার অন্য এক মত হল, ভবিষ্যতে তুলনামূলক স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার যথেষ্ট কারণ এখনও রয়েছে ওয়াশিংটন ও বেজিংয়ের সামনে।

শি-র সফরের আগে ‘ফরেন অ্যাফেয়ার্স’-এ এমনই যুক্তি দিয়েছেন চিন–আমেরিকা সম্পর্কের অন্যতম বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ দা ওয়েই। ছিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কৌশল কেন্দ্রের অধিকর্তার মতে, সম্পর্কের কাঠামোগত বাধা থাকলেও উত্তেজনা কমানোর যথেষ্ট কারণ রয়েছে দু’দেশের।

তিনি লিখেছেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে আমেরিকা বা চিন—কারও পক্ষেই অন্যের চাপ সৃষ্টির ক্ষমতার উৎসগুলিকে নির্মূল করা বিশেষভাবে কঠিন হয়ে উঠবে।”

সফরের প্রস্তুতিতে নিউ ইয়র্কে মার্কিন অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট এবং চিনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেংয়ের মধ্যেও আলোচনা হয়েছে। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে নিয়মিত সংলাপের একটি কাঠামো তৈরির বিষয়টি উঠে এসেছে।

দা ওয়েইয়ের মতে, সংঘাতবিরতি বজায় রাখার আরও একটি বড় কারণ হল দুই দেশের শক্তির ব্যবধান ক্রমশ কমে আসা।

তাঁর কথায়, “চিন এখন অনেক বেশি সমতার অবস্থান থেকে এবং আরও বেশি আত্মবিশ্বাস নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে দেখছে। প্রতিযোগিতা তার জাতীয় উন্নয়নের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে—এমন উদ্বেগ এখন কম। বরং বেজিং মনে করে, অস্তিত্বের সংকট তৈরি হতে না দিয়েও এই প্রতিযোগিতা কার্যকরভাবে সামলানো সম্ভব।”

তবে চিনের কিছু কৌশলবিদের লক্ষ্য শুধু সংঘাত এড়ানো নয়, আরও দীর্ঘমেয়াদি। তাঁদের ভাবনায়, ভবিষ্যতে একটি বড় সার্বিক সমঝোতার মাধ্যমে এশিয়ার প্রতি আমেরিকার আগ্রহ ধীরে ধীরে কমানো এবং এই অঞ্চলের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে নতুন কাঠামোয় নিয়ে আসা সম্ভব।

বেজিংয়ের ধারণা, সেই পরিবর্তনের কিছু ইঙ্গিত ট্রাম্পের নীতিতেই ইতিমধ্যে দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ ওয়াশিংটন-বেজিংয়ের আপাত শান্তি শুধু সংঘাতের বিরতি নয়—এশিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আরও বড় এক হিসাবের শুরু বলেও দেখা হচ্ছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles