তিন হ্যাটট্রিকে ১৬ গোল, শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ভারতের হকিতে আক্রমণের বিস্তার

যা জানা জরুরি
- প্রতিবেদন: একজন চার গোল করলেন, আরও দুজন তিনটি করে।
- এশিয়ান গেমসের পুরুষ হকিতে ২২ সেপ্টেম্বর ভারতের ১৬–১ জয়ের ভিতরে তাই একাধিক আক্রমণাত্মক গল্প রয়েছে।
- জাপানের কাকামিগাহারায় শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে যুগরাজ সিংয়ের চার গোলের সঙ্গে অভিষেক ও দিলপ্রীত সিংয়ের হ্যাটট্রিক যুক্ত হয়।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিবেদন: একজন চার গোল করলেন, আরও দুজন তিনটি করে। এশিয়ান গেমসের পুরুষ হকিতে ২২ সেপ্টেম্বর ভারতের ১৬–১ জয়ের ভিতরে তাই একাধিক আক্রমণাত্মক গল্প রয়েছে। জাপানের কাকামিগাহারায় শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে যুগরাজ সিংয়ের চার গোলের সঙ্গে অভিষেক ও দিলপ্রীত সিংয়ের হ্যাটট্রিক যুক্ত হয়। পুল এ-তে টানা দ্বিতীয় জয় পেল গতবারের সোনাজয়ী ভারত। প্রথম ম্যাচে ইন্দোনেশিয়াকে ১৩–১ গোলে হারিয়েছিল দল।
দুই ম্যাচে ভারতের মোট গোল ২৯, হজম দুটি—প্রকাশিত ফল যোগ করলে এই হিসাব পাওয়া যায়। কিন্তু মঙ্গলবারের ম্যাচের উল্লেখযোগ্য বিষয় শুধু গোলসংখ্যা নয়। আটজন আলাদা খেলোয়াড় গোল করেছেন। ফলের নথি যা নিশ্চিত করে, তা হল সামনের সারি, মাঝমাঠ এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতির বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিত অবদান।
পঞ্চম মিনিটে ভারতের দলীয় আক্রমণ থেকে মনদীপ সিং গোলের শুরু করেন। এর পরে পেনাল্টি কর্নার ও খোলা খেলার আক্রমণ মিলিয়ে শ্রীলঙ্কার রক্ষণকে বারবার ভাঙে ভারত। অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং দুটি গোল করেন। সুখজিৎ সিং, মনপ্রীত সিং ও বিবেক সাগর প্রসাদের নামও গোলদাতার তালিকায় ওঠে।
বিরতিতে ভারত এগিয়ে ছিল ৮–০। হকি ইন্ডিয়ার মিনিটভিত্তিক বিবরণ অনুযায়ী, বিরতির পরেও আক্রমণের গতি কমেনি। তৃতীয় কোয়ার্টার শেষ হওয়ার সময়ে ব্যবধান ১৩–০। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেক আগেই ভারতের হাতে চলে গেলেও গোলের সুযোগ তৈরির কাজ চালিয়ে যায় দল। শেষ কোয়ার্টারেও আরও তিনবার লক্ষ্যভেদ করে ভারত।
যুগরাজের গোলের মধ্যে পেনাল্টি কর্নার ও পেনাল্টি স্ট্রোক—দুই ধরনের সুযোগ কাজে লাগানোর উদাহরণ আছে। তাঁর চব্বিশতম মিনিটের একটি গোল ভিডিও পর্যালোচনায় বাতিল হয়েছিল। তবু সেটি আক্রমণের ধার কমায়নি। তৃতীয় ও শেষ কোয়ার্টারে দুটি পেনাল্টি স্ট্রোক কাজে লাগিয়ে তিনি নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে নেন। তাঁর চার গোলের পাশাপাশি অভিষেক ও দিলপ্রীতের তিনটি করে গোল একাধিক আক্রমণপথ কার্যকর থাকার প্রমাণ।
শ্রীলঙ্কার একমাত্র গোল করেন সুরেশ রত্নায়েকে, পঞ্চাশতম মিনিটে। বড় ব্যবধানের মধ্যেও এই গোলটি ভারতীয় রক্ষণের জন্য পর্যালোচনার বিষয়। প্রতিপক্ষের অধিকাংশ আক্রমণ ঠেকানো এবং পুরো ম্যাচে বিনা ভুলে খেলা এক নয়। জয় নিশ্চিত হওয়ার পরে রক্ষণে মনোযোগের স্তর কী ছিল, প্রশিক্ষকদল দৃশ্যধারণ দেখে সেই প্রশ্ন পরীক্ষা করতে পারবে।
হকি ইন্ডিয়ার প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী ভারতের পরের ম্যাচ দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে ২৪ সেপ্টেম্বর, ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে এগারোটায়। ফলে এই জয় উদ্যাপনের সময় থাকলেও প্রতিযোগিতা এখনও পুল পর্বেই। দুটি বড় ব্যবধানের জয় থেকে পদক নিশ্চিত হয়ে গেছে—এমন সিদ্ধান্ত টানা যাবে না। পরবর্তী ম্যাচে পরিকল্পনা ও খেলোয়াড় ব্যবহারের নতুন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মনপ্রীতের গোল আসে ৩১ মিনিটে, বিবেক সাগরেরটি ৩৬ মিনিটে। শেষ কোয়ার্টারে ৪৯ মিনিটে অভিষেক নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন। ৫৫ মিনিটে দিলপ্রীতও তৃতীয় গোলটি পান। এই সময়ক্রম দেখায়, ভারতের গোল শুধু শুরুর ধাক্কায় জমেনি; ম্যাচের বিভিন্ন পর্যায়ে আক্রমণ কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে শেষ দশ মিনিটে শ্রীলঙ্কার গোল মনে করিয়ে দেয়, নিয়ন্ত্রণ থাকলেও প্রতিপক্ষের আক্রমণ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি।
বিশ্লেষণ: এই ফলের সবচেয়ে ইতিবাচক পাঠ গোলের দায়িত্ব ভাগ হওয়া। প্রতিপক্ষ যদি শুধু হরমনপ্রীতের পেনাল্টি কর্নার ঠেকানোর প্রস্তুতি নেয়, খোলা খেলায় অন্যদের গোল সেই পরিকল্পনাকে অসম্পূর্ণ করতে পারে। আবার যুগরাজের কার্যকারিতা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় ভরসা দেয়। তবে দুর্বল রক্ষণের বিরুদ্ধে তৈরি সুযোগ শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একই হারে আসবে না।
সেই কারণে পরের মূল্যায়নে শুধু ষোলো গোলের উচ্ছ্বাস যথেষ্ট নয়। সুযোগের কত অংশ কাজে লাগল, বল হারানোর পরে কত দ্রুত অবস্থান ফিরল এবং আক্রমণে ওঠার সময় পিছনে কতটা সুরক্ষা থাকল—এসব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মঙ্গলবারের ফল আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মতো; প্রতিযোগিতা জয়ের পূর্বাভাস হিসেবে ব্যবহার করার মতো নয়। ভারতের সামনে এখন প্রাচুর্যকে শৃঙ্খলায় বদলে নেওয়ার কাজ।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



