Sports

পাঁচ ওভারে দুই রানের ফারাক, সানোয় জাপানের ক্রিকেট পেল বড় মঞ্চ

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • প্রতিবেদন: জাপানের সামনে জয়ের লক্ষ্য ছিল মাত্র ৩৩ রান।
  • তবু ২২ সেপ্টেম্বর সানোয় জাপানের বিরুদ্ধে প্রথম পুরুষ টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক শেষ বল পর্যন্ত অনিশ্চিত ছিল।
  • ভেজা মাঠের কারণে পাঁচ ওভারে নামিয়ে আনা ম্যাচে ভারত করে ৩২/৪; জাপান থামে ৩০/৩-এ।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

প্রতিবেদন: জাপানের সামনে জয়ের লক্ষ্য ছিল মাত্র ৩৩ রান। তবু ২২ সেপ্টেম্বর সানোয় জাপানের বিরুদ্ধে প্রথম পুরুষ টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক শেষ বল পর্যন্ত অনিশ্চিত ছিল। ভেজা মাঠের কারণে পাঁচ ওভারে নামিয়ে আনা ম্যাচে ভারত করে ৩২/৪; জাপান থামে ৩০/৩-এ। দুই রানের জয় পেল ভারত। কিন্তু ফলের বাইরেও দিনটি জাপানি ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ—বিশ্বের শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে নিজেদের মাঠে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ।

ম্যাচটি এশিয়ান গেমসের পদকের লড়াই ছিল না। সানো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠে আয়োজিত আলাদা একক টি-টোয়েন্টি; দুই দলের আসন্ন গেমস অভিযানের প্রস্তুতিতেও এর ভূমিকা ছিল। অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার টস জিতে ব্যাটিং নেন। কিন্তু শুরুতেই জাপানের বোলাররা ভারতকে চাপে ফেলে দেন। প্রথম বলে অভিষেক শর্মাকে ফেরান চার্লি হারা-হিনজে।

ইব্রাহিম তাকাহাশি সঞ্জু স্যামসনকে আউট করেন। তৃতীয় ওভারে বেঞ্জামিন ইতো-ডেভিস ফেরান ঈশান কিশনকে। ভারত তখন ১৪/৩। শ্রেয়সের ১৬ রান ইনিংসের সর্বোচ্চ; অন্য কোনও ব্যাটার দু-অঙ্কে পৌঁছতে পারেননি। শেষ ওভারে তাঁকেও ফেরান হারা-হিনজে। পাঁচ ওভারের ম্যাচে শুরুতে তিন উইকেট হারানোর ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সময় ভারত পায়নি।

জাপানের রান তাড়ায় অক্ষর পটেল প্রথম ওভারে মাত্র দুই রান দিয়ে লকলান ইয়ামামোতো-লেককে আউট করেন। পরের ওভারে ওয়াশিংটন সুন্দর ফেরান তাকাহাশিকে। তবে তৃতীয় ওভারে অধিনায়ক কেন্ডেল কাদোওয়াকি-ফ্লেমিং ও ইতো-ডেভিস দশ রান তুলে লড়াই ফিরিয়ে আনেন। শেষ ওভারে জাপানের দরকার ছিল আট রান। অক্ষর দেন পাঁচ; জয় ভারতের কাছেই থাকে।

শেষ ওভারের একটি ওয়াইড-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। স্বাধীন প্রতিবেদনে সেই ঘটনাটি উঠে এসেছে, কিন্তু বিতর্ক থাকাই ভুল সিদ্ধান্ত বা ফল বদলে দেওয়ার প্রমাণ নয়। সম্পূর্ণ দৃশ্য এবং প্রযোজ্য নিয়ম ছাড়া একটি কোণ থেকে দেখা বলের উপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া অনুচিত। নিশ্চিত ফলটি হল জাপানের দুই রানে হার; অনুমানভিত্তিক বিকল্প ফল নয়।

ম্যাচের আগের দিন আইসিসির প্রতিবেদনে জাপানের ক্রিকেটের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসে। প্রায় তিন হাজার আসনের টিকিট এক ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি হয়ে যায়। এশিয়ান গেমসের কঠোর যোগ্যতার শর্ত মাথায় রেখে জাপান এমন কয়েকজনকে এই ম্যাচেও নেয়নি, যাঁরা সাধারণ আন্তর্জাতিক নিয়মে খেলতে পারতেন। প্রস্তুতি ম্যাচের দল এবং গেমসের দলকে কাছাকাছি রাখার সিদ্ধান্ত ছিল সেটি।

একটি মানবিক যোগসূত্রও রয়েছে। ২০২০ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলা শু নোগুচি এখন সানোর মাঠকর্মীদের অন্যতম। আইসিসির প্রতিবেদনে তাঁর এই ভূমিকা নথিবদ্ধ হয়েছে। একই খেলায় কেউ জাতীয় দলের সদস্য হিসেবে এগোন, কেউ মাঠ প্রস্তুতের কাজে যুক্ত থাকেন—নতুন ক্রিকেটদেশের ভিত গড়তে উভয় ভূমিকাই প্রয়োজন। মঙ্গলবারের ম্যাচ সেই ছোট কিন্তু বিস্তৃত পরিকাঠামোকেও সামনে এনেছে।

যুব ক্রিকেটেও জাপানের সাম্প্রতিক একটি অর্জন রয়েছে। আইসিসির নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তানজানিয়াকে হারিয়ে ওই প্রতিযোগিতায় প্রথম জয় পেয়েছে তারা। সিনিয়র দলের মঙ্গলবারের লড়াই তাই সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তবে যুব দলের একটি জয় এবং সিনিয়র দলের কাছাকাছি হার দিয়ে সার্বিক উন্নতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে আরও দীর্ঘ সময়ের ফল প্রয়োজন।

বিশ্লেষণ: পাঁচ ওভারের প্রতিযোগিতা থেকে দুই দলের সামগ্রিক মান সমান বলে সিদ্ধান্ত টানা যাবে না। অল্প বলে একটি উইকেট বা একটি বাউন্ডারির প্রভাব অনেক বড় হয়। কিন্তু সেই সীমা স্বীকার করেও জাপানের বোলিংকে কৃতিত্ব দিতে হবে। তারা সুযোগ পেয়েছে এবং ভারতীয় ব্যাটারদের নিয়মিত ভুল করতে বাধ্য করেছে; শুধু বড় দলের উপস্থিতি দেখে সন্তুষ্ট থাকেনি।

জাপানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রশ্ন, এই দিনের আগ্রহকে নিয়মিত অংশগ্রহণে বদলানো যাবে কি না। আরও ম্যাচ, প্রশিক্ষিত প্রশিক্ষক, ব্যবহারযোগ্য মাঠ এবং তরুণদের প্রতিযোগিতা প্রয়োজন। ভারতের জন্য শিক্ষা অপেক্ষাকৃত সরল: প্রতিপক্ষের পরিচিতি কম হলেও ছোট ম্যাচে ভুলের জায়গা আরও কম। সানোর স্কোরবোর্ডে জয় ভারতের; ক্রিকেটের বিস্তারের দিক থেকে দিনটির লাভ দুই দেশের সীমানারও বাইরে যেতে পারে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles