শেষ তিন গুলিতে সোনা ফসকাল

যা জানা জরুরি
- প্রতিবেদন: একটি আন্তর্জাতিক শুটিং ফাইনালে ০.৬ পয়েন্ট কখনও একটি আঙুলের সামান্য চাপ, কখনও কয়েক মিলিমিটারের ব্যবধান।
- এলাভেনিল ভালারিভানের কাছে সেই দূরত্বই ২০ সেপ্টেম্বর এশিয়ান গেমসের সোনা ও রুপোর ফারাক হয়ে দাঁড়াল।
- মহিলা ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ২৫২.৪ পয়েন্টে রুপো জিতলেন তিনি।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিবেদন: একটি আন্তর্জাতিক শুটিং ফাইনালে ০.৬ পয়েন্ট কখনও একটি আঙুলের সামান্য চাপ, কখনও কয়েক মিলিমিটারের ব্যবধান। এলাভেনিল ভালারিভানের কাছে সেই দূরত্বই ২০ সেপ্টেম্বর এশিয়ান গেমসের সোনা ও রুপোর ফারাক হয়ে দাঁড়াল। মহিলা ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ২৫২.৪ পয়েন্টে রুপো জিতলেন তিনি। জাপানের তাইচি হিনাতা ২৫৩.০ পয়েন্টের গেমস রেকর্ডে সোনা পান।
একই দিনে এলাভেনিলের এটি দ্বিতীয় রুপো। সকালে সোনম উত্তম মাসকার ও বিদরসা কে বিনোদের সঙ্গে দলগত বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছিল ভারত। তিন শুটারের যোগফল ছিল ১৮৯৮.০। ১৯০৪.২ পয়েন্টের গেমস রেকর্ডে সোনা জেতে চিন; ভারত জাপানকে মাত্র ০.৯ পয়েন্টে পিছনে ফেলে রুপো নিশ্চিত করে।
যোগ্যতা পর্বে সোনম ৬৩৪.১ এবং এলাভেনিল ৬৩৩.৫ পয়েন্ট করে ব্যক্তিগত ফাইনালে ওঠেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলনামূলক নতুন বিদরসার ৬৩০.৪ পয়েন্ট দলগত পদকের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নিজের প্রথম বহু-ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় খেলতে নেমেই রুপো পেলেন কেরলের ২৭ বছরের শুটার।
ব্যক্তিগত ফাইনালে এলাভেনিলের শুরু আরও দৃঢ় ছিল। প্রথম দিকের সিরিজে ধারাবাহিকভাবে কেন্দ্রের কাছাকাছি গুলি রেখে তিনি নেতৃত্ব নেন। কিন্তু শুটিংয়ের বাদ-যাওয়ার পর্যায়ে আগের সুবিধা দ্রুত মুছে যেতে পারে। শেষ তিনটি গুলিতে প্রত্যাশিত নিয়ন্ত্রণ রাখতে না-পেরে তিনি হিনাতাকে সুযোগ দেন। এলাভেনিলের শেষ গুলি ছিল ১০.১; জাপানি প্রতিদ্বন্দ্বী ১০.২ মেরে ব্যবধান ধরে রাখেন। সোনম ষষ্ঠ স্থানে শেষ করেন।
ফলটির পিছনে প্রতিযোগিতাস্থলে পৌঁছনোর অস্বাভাবিক সমস্যাও ছিল। নাগোয়া থেকে টয়োটা সিটির শুটিং রেঞ্জে যেতে ভারতীয় দলকে প্রায় দুই ঘণ্টা আঁকাবাঁকা পথে বাসে কাটাতে হয়েছে। ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া এবং গাড়িতে অসুস্থতা এড়াতে শুটারেরা ঘাড়ের বালিশ ব্যবহার করেছেন, ফোনের পর্দা থেকে দূরে থেকেছেন এবং সম্ভব হলে ঘুমিয়েছেন। প্রশিক্ষক মনোজ কুমারের পরিকল্পনায় এই যাত্রাকেও প্রস্তুতির অংশ করা হয়েছিল।
এলাভেনিল বহু বছর ধরে বিশ্বকাপ ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেলেও এশিয়ান গেমসের ব্যক্তিগত পদক তাঁর ছিল না। আট বছরের অপেক্ষার পরে পাওয়া রুপো তাই নিছক ‘সোনা হারানো’ নয়। একই সঙ্গে ফাইনালে দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকে শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে পড়া ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির নির্দিষ্ট জায়গাটিও দেখিয়ে দিয়েছে।
বিশ্লেষণ: শুটিংয়ে মোট স্কোর দেখে মানসিক ব্যর্থতার সহজ গল্প বানানো অনুচিত। দশমিক স্কোরিংয়ে ১০.১ খারাপ গুলি নয়; তবে সোনার লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী ১০.২ করলে সেটিই নির্ণায়ক হয়। এখানে এলাভেনিল ভেঙে পড়েননি—হিনাতা শেষ পর্যায়ে সামান্য বেশি নির্ভুল ছিলেন।
ভারতের জন্য আরও আশাব্যঞ্জক দিক দলটির গভীরতা। সবচেয়ে আলোচিত শুটারের সঙ্গে সোনম ও বিদরসার স্কোর না-থাকলে প্রথম পদকটি আসত না। পরবর্তী প্রতিযোগিতায় ভারতের লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু পদকের সংখ্যা নয়, যাত্রা ও পুনরুদ্ধারের মতো মাঠের বাইরের ব্যবস্থাও আয়োজকদের সঙ্গে আগেই
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



