ঊনপঞ্চাশ বলের ঝড়, সোনার দরজায় ভারত

যা জানা জরুরি
- প্রতিবেদন: আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম শতরানটির জন্য শেফালি বর্মাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ১১৭টি ম্যাচ।
- সেই অপেক্ষা শেষ হল এমন এক মঞ্চে, যেখানে ব্যক্তিগত মাইলফলকের চেয়ে একটি অতিরিক্ত পদকের রং বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
- ২০ সেপ্টেম্বর আইচি–নাগোয়া এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে তাঁর ৪৯ বলে অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংসে বাংলাদেশকে ১১৪ রানে হারিয়ে সোনার পদকের ম্যাচে উঠল ভারত।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিবেদন: আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম শতরানটির জন্য শেফালি বর্মাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ১১৭টি ম্যাচ। সেই অপেক্ষা শেষ হল এমন এক মঞ্চে, যেখানে ব্যক্তিগত মাইলফলকের চেয়ে একটি অতিরিক্ত পদকের রং বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ২০ সেপ্টেম্বর আইচি–নাগোয়া এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে তাঁর ৪৯ বলে অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংসে বাংলাদেশকে ১১৪ রানে হারিয়ে সোনার পদকের ম্যাচে উঠল ভারত।
কোরোগি স্পোর্টস পার্কে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর। শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের দৈর্ঘ্য নষ্ট করেন শেফালি ও স্মৃতি মন্ধানা। তাঁদের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৭২ রান। মন্ধানা ১৯ বলে ৩৭ করে ফিরলেও শেফালির গতি কমেনি। তাঁর শতরানে ছিল ন’টি ছক্কা ও তিনটি চার—অর্থাৎ ৬৬ রান এসেছে মাত্র ১২টি শট থেকে।
জি কমলিনী দ্রুত আউট হওয়ার পরে হরমনপ্রীতের সঙ্গে শেফালির ৯৪ রানের জুটি ভারতের ইনিংসকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যায়। হরমনপ্রীত ৩৩ বলে ৪০ করেন। শেষ পর্যন্ত চার উইকেটে ১৯৫ রান তোলে ভারত। শেফালি শতরান পূর্ণ করেন ৪৯তম বলে, যা হরমনপ্রীতের ভারতীয় মহিলা ব্যাটারদের দ্রুততম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি শতরানের নজিরের সমান।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল শক্তিশালী সূচনা। তার বদলে নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারায় তারা। দিলারা আক্তারের ২৪ রানই সর্বোচ্চ। নন্দিনী শর্মা ও দীপ্তি শর্মা তিনটি করে উইকেট নিলে ১৫.৪ ওভারে ৮১ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। পূর্ণ সদস্য দেশের বিরুদ্ধে রানের ব্যবধানে এটিই ভারতের মহিলা দলের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি জয়।
শেফালির ইনিংসের গুরুত্ব শুধু আক্রমণের মাত্রায় নয়। তিনি বহু দিন ধরেই দ্রুত রান করার জন্য পরিচিত, কিন্তু বড় ইনিংস শেষ না-করার সমালোচনাও সঙ্গী হয়েছে। এই ম্যাচে শুরুতে ক্ষেত্ররক্ষণের ফাঁক ব্যবহার, মাঝের ওভারে স্পিনারদের বিরুদ্ধে পায়ের ব্যবহার এবং শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকা—তিনটি পর্যায়ই সামলেছেন তিনি।
ভারত এখন ২২ সেপ্টেম্বর সোনার পদকের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে। আগের সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। ভারত হাংঝৌ এশিয়ান গেমসের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন; ফলে ফাইনালে ওঠা প্রত্যাশিত সাফল্য হলেও পদক ধরে রাখার কাজ এখনও বাকি।
বিশ্লেষণ: একতরফা সেমিফাইনাল দেখে ফাইনালের ফল ধরে নেওয়া বিপজ্জনক। বাংলাদেশের বোলিংয়ের তুলনায় শ্রীলঙ্কার আক্রমণে বৈচিত্র্য বেশি, আর চামারি আতাপাত্তুর দল বড় মঞ্চে ভারতের বিপক্ষে চাপ তৈরি করেছে। শেফালির ইনিংস ভারতকে একটি কার্যকর ছক দিয়েছে—শুরুর ওভারে ঝুঁকি নিয়ে রান তোলা, কিন্তু সেট হয়ে গেলে উইকেট ছুড়ে না-দেওয়া।
আরও বড় শিক্ষা হল, ব্যক্তিগত শতরানটি দলীয় প্রয়োজনের সঙ্গে সংঘর্ষে যায়নি। শেফালি মাইলফলকের কাছে গিয়ে থেমে পড়েননি; তাঁর শেষ দিকের আক্রমণই লক্ষ্যকে প্রায় দুশোয় নিয়ে যায়। সেমিফাইনাল জয়ের নায়ক তিনি, কিন্তু সোনার ম্যাচে ভারতকে আবার শূন্য থেকেই শুরু করতে হবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



