খবর

সাগর থেকে ফিরতে বলা হল মৎস্যজীবীদের, ভারী বৃষ্টির মুখে বাংলা

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • প্রতিবেদন: বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়া-ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়ে ওঠায় ২২ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া ও উত্তাল সমুদ্রের পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া…
  • উত্তর আন্দামান সাগরের ঘূর্ণাবর্ত থেকে নিম্নচাপ তৈরি হয়ে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরের দিকে এগিয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
  • ২৩–২৪ সেপ্টেম্বর সেটি দক্ষিণ ওড়িশা ও উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছে পৌঁছনোর সম্ভাবনা।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

প্রতিবেদন: বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়া-ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়ে ওঠায় ২২ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া ও উত্তাল সমুদ্রের পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর। উত্তর আন্দামান সাগরের ঘূর্ণাবর্ত থেকে নিম্নচাপ তৈরি হয়ে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরের দিকে এগিয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। ২৩–২৪ সেপ্টেম্বর সেটি দক্ষিণ ওড়িশা ও উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছে পৌঁছনোর সম্ভাবনা। পশ্চিমবঙ্গে সরাসরি স্থলভাগ অতিক্রমের পূর্বাভাস নেই; ব্যবস্থাটির বিস্তৃত মেঘ ও বাতাসই বৃষ্টি আনবে।

২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমুদ্রে থাকা মৎস্যজীবীদের উপকূলে ফিরতে এবং ২১–২৫ সেপ্টেম্বর নতুন করে সমুদ্রে না-যেতে বলা হয়েছে। উপকূলে ঘণ্টায় ৪০–৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া উঠতে পারে। পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২৩ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দফায় দফায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং দক্ষিণবঙ্গের অন্য কয়েকটি জেলাতেও বিচ্ছিন্ন ভারী বৃষ্টি ও বজ্রঝড় হতে পারে। চার জেলায় কমলা সতর্কতা জারি হয়েছে।

বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় কোনও কোনও জায়গায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। কলকাতা ও আশপাশে ঘণ্টায় ৩০–৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। কমলা সংকেত নিশ্চিত বিপর্যয় নয়; প্রশাসন ও নাগরিককে প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ। স্থানীয় মেঘের অবস্থান বদলালে একই জেলার এক অংশে প্রবল বৃষ্টি এবং অন্য অংশে সামান্য বৃষ্টি হতে পারে।

উত্তরবঙ্গে প্রথমে বৃষ্টি কম থাকলেও ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে তা বাড়বে। দার্জিলিং ও জলপাইগুড়িতে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুরে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহে বজ্রঝড় হতে পারে। পাহাড়ে ভেজা মাটির উপর নতুন বৃষ্টি ধসের ঝুঁকি বাড়ায়; মালদহের ভুতনি ইতিমধ্যেই প্লাবিত হওয়ায় নতুন জলপ্রবাহ ত্রাণ ও বাঁধ মেরামতে বাধা দিতে পারে।

প্রশাসনের প্রস্তুতিতে শুধু নৌকা রাখা যথেষ্ট নয়। উপকূলের মৎস্যজীবী নৌকার অবস্থান যাচাই, দুর্বল নদীবাঁধে নজরদারি, পাম্পিং কেন্দ্র সচল রাখা, বিদ্যুতের ঝুলে থাকা তার পরীক্ষা এবং হাসপাতাল–ত্রাণশিবিরে জেনারেটর ও পানীয় জল প্রস্তুত রাখতে হবে। পুজোর আগে মণ্ডপ নির্মাণের অস্থায়ী বাঁশ, টিন ও আলোকসজ্জা ঝোড়ো হাওয়ায় আলাদা বিপদ তৈরি করতে পারে। আয়োজকদের কাঠামো শক্ত করা এবং বিদ্যুৎ-সংযোগ নিরাপদ রাখা প্রয়োজন।

কৃষিক্ষেত্রেও সময়টি সংবেদনশীল। নিচু জমিতে জল দাঁড়ালে আমন ধান, সবজি ও ফুলচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে; আবার কম বৃষ্টি হওয়া এলাকায় জল উপকারীও হবে। জেলা কৃষি দপ্তরকে এক নির্দেশে গোটা রাজ্য না-ঢেকে ফসলের স্তর ও নিকাশি দেখে পরামর্শ দিতে হবে। বজ্রপাতের সময়ে মাঠে থাকা কৃষক ও চা-বাগানের শ্রমিকদের দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছানো বিশেষ জরুরি। এসএমএস পাঠালেই কাজ শেষ নয়—স্থানীয় ভাষায় মাইক, পঞ্চায়েত ও শ্রম-তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে বার্তা নিশ্চিত করতে হবে।

বিশ্লেষণ: পূর্বাভাসের সবচেয়ে বড় সামাজিক মূল্য আগাম সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় দেওয়া। বৃষ্টি শেষ পর্যন্ত কম হলে সতর্কতাকে ‘ভুল’ বলা সহজ, কিন্তু নৌকা ফিরিয়ে আনা বা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার সাফল্যই বিপর্যয় না-ঘটার কারণ হতে পারে। আবার ‘কমলা সতর্কতা’ বলে সব স্কুল–অফিস আগেভাগে বন্ধ করাও প্রতিটি জেলায় প্রয়োজন নাও হতে পারে। সিদ্ধান্ত স্থানীয় পরিমাপ, রাস্তার অবস্থা ও নদীর জলস্তর দেখে বদলাতে হবে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরের প্রাণঘাতী জলাবদ্ধতার স্মৃতি কলকাতায় এখনও তাজা। তাই পুরসভা কোন নালা পরিষ্কার করেছে, কোন পাম্পিং কেন্দ্র প্রস্তুত এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকির জায়গা কোথায়—সেই তথ্য প্রকাশ করা দরকার। নদী ও খালের জলস্তরের নিয়মিত ও সময়মাফিক তথ্য দিলে গুজবের বদলে পাড়া ও বাজার নিজের ঝুঁকি বুঝতে পারবে। আবহাওয়া দপ্তর বিপদের সম্ভাবনা জানায়; প্রাণহানি ঠেকানো নির্ভর করে স্থানীয় প্রশাসনের শেষ মাইলের সতর্কতা ও নাগরিকের বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়ার উপর।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles