খবর

খনিজে করের অধিকার কাড়ছে কেন্দ্র, অভিযোগ নবীনের; বিশেষ অধিবেশনের দাবি

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: খনিজ সম্পদের উপর কর বসানোর অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে ওড়িশার—এই অভিযোগ তুলে রাজ্যের বিজেপি সরকারের উপর চাপ বাড়াল বিজু জনতা দল।
  • খনি ও খনিজ উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধন নিয়ে আলোচনার জন্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন চেয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতা নবীন পট্টনায়ক।
  • মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝিকে চিঠি লিখে তাঁর অভিযোগ, সংশোধনের ফলে নিজেদের খনিজ সম্পদে কর আরোপের সাংবিধানিক অধিকার কার্যত হারাচ্ছে রাজ্য।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: খনিজ সম্পদের উপর কর বসানোর অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে ওড়িশার—এই অভিযোগ তুলে রাজ্যের বিজেপি সরকারের উপর চাপ বাড়াল বিজু জনতা দল। খনি ও খনিজ উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধন নিয়ে আলোচনার জন্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন চেয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতা নবীন পট্টনায়ক। মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝিকে চিঠি লিখে তাঁর অভিযোগ, সংশোধনের ফলে নিজেদের খনিজ সম্পদে কর আরোপের সাংবিধানিক অধিকার কার্যত হারাচ্ছে রাজ্য।

নবীনের দাবি, বিষয়টি ওড়িশার আর্থিক ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই বিধানসভায় আলোচনা করে সংশোধনের বিরুদ্ধে প্রস্তাব গ্রহণ করা প্রয়োজন। খনিজ সম্পদের উপর রাজ্যের অধিকার কমলে নিজস্ব আয় বৃদ্ধির সুযোগও সংকুচিত হবে। তার ফলে কেন্দ্রের উপর ওড়িশার নির্ভরতা বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। রাজ্যের স্বার্থে এই প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বানও জানিয়েছেন বিজেডি সভাপতি।

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে খনিজসমৃদ্ধ জমির উপর রাজ্যের ক্ষমতা। নবীনের আপত্তি, সংশোধিত আইনে এই জমিকেও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার পরিসর বাড়ানো হয়েছে। তাঁর মতে, এতে জমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে রাজ্যের সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। ওড়িশা থেকে নির্বাচিত বিজেপি সাংসদদের কাছেও সংশোধন প্রত্যাহারের পক্ষে উদ্যোগী হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। সংসদে তাঁদের সমর্থনকে রাজ্যের স্বার্থের পরিপন্থী বলে আক্রমণ করেছেন।

বিজেডির বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের নয় বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চের ২০২৪ সালের ২৫ জুলাইয়ের রায় খনি ও খনিজসমৃদ্ধ জমিতে রাজ্যের কর বসানোর ক্ষমতাকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। সেই রায় এবং পরবর্তী বকেয়া আদায়ের সুযোগের কথা তুলে দলটির দাবি, ওড়িশার এক লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বকেয়া পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। পাশাপাশি বছরে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ ছিল। নতুন সংশোধনে সেই সম্ভাবনা বিপন্ন বলে অভিযোগ বিজেডির। আর্থিক ক্ষতির এই হিসাব বিজেডির দাবি; বিজেপি তা মানেনি, রাজস্ব সুরক্ষিত থাকবে বলেই পাল্টা জানিয়েছে তারা।

এই দাবিতে ইতিমধ্যেই রাজ্যপাল হরিবাবু কাম্ভামপতির দ্বারস্থ হয়েছে দল। দেবীপ্রসাদ মিশ্র, প্রসন্ন আচার্য ও রণেন্দ্রপ্রতাপ সোয়াইঁয়ের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল স্মারকলিপি দিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে তাদের আপত্তি পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানায়। সংশোধিত আইন প্রত্যাহারের দাবিও তোলে তারা। রাজ্যপাল সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির বিস্তারিত জানতে চান।

বিশেষ অধিবেশনের দাবিতে বিজেডির সঙ্গে সুর মিলিয়েছে কংগ্রেসও। দলের পরিষদীয় নেতা রামচন্দ্র কদম দু’দিনের অধিবেশন চেয়ে রাজ্যপালকে চিঠি দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী এবং বিধানসভার অধ্যক্ষ সুরমা পাধির কাছেও একই আবেদন জানিয়েছেন তিনি। কংগ্রেসের অভিযোগ, খনিজ বণ্টন, রাজস্ব এবং ইজারা সংক্রান্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল করছে সংশোধন। খনির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য গঠিত জেলা খনিজ তহবিল ব্যবহারের স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে দল।

বিজেপি অবশ্য বিরোধীদের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে। দলের নেতা তথা সম্বলপুরের সাংসদ ধর্মেন্দ্র প্রধানের বক্তব্য, ওড়িশার ন্যায্য রাজস্বে হাত পড়বে না। খনিজ উত্তোলনের রয়্যালটি, নিলাম থেকে প্রাপ্য অর্থ এবং জেলা খনিজ তহবিলে জমা অর্থ রাজ্য পেতে থাকবে। তাঁর দাবি, খনি ক্ষেত্রের আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ বিভিন্ন পথে রাজ্যগুলির কাছেই যাবে।

প্রধানের যুক্তি, অতিরিক্ত করের বোঝা এবং নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একাধিক কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কমিয়ে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করবে সংশোধন। শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি রাজস্বও সুরক্ষিত থাকবে। বিজেপি বিধায়ক ইরাসিস আচার্যও দাবি করেছেন, নতুন ব্যবস্থা বিনিয়োগ আকর্ষণ করে ওড়িশার শিল্পায়নে সহায়ক হবে। বিরোধীরা রাজনৈতিক লাভের জন্য মানুষকে বিভ্রান্ত করছে বলে অভিযোগ তাঁর।

ফলে লড়াই এখন খনিজ থেকে রাজ্যের প্রাপ্য অর্থের হিসাব ছাড়িয়ে নিজের সম্পদের উপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার প্রশ্নে পৌঁছেছে। বিজেপি যেখানে শিল্প ও রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখাচ্ছে, বিজেডি সেখানে কর আরোপের স্বাধীনতা হারানোর আশঙ্কা সামনে আনছে। বিশেষ অধিবেশনের দাবি সেই বিরোধকেই বিধানসভার আলোচনায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles