খবর

‘চুক্তি করুন’, ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • কোনও পক্ষই আপসের পথে হাঁটার তেমন ইঙ্গিত দিচ্ছে না।
  • এরই মধ্যে সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট আরও বাড়িয়েছে, ধাক্কা দিয়েছে ইরানের অর্থনীতিতে, ছড়িয়ে দিয়েছে উত্তেজনা পশ্চিম এশিয়ার অন্য প্রান্তেও।
  • এই পরিস্থিতিতে ইরানকে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বার্তা—‘চুক্তি করুন’।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

মাসের পর মাস যুদ্ধ কার্যত অচলাবস্থায়। কোনও পক্ষই আপসের পথে হাঁটার তেমন ইঙ্গিত দিচ্ছে না। এরই মধ্যে সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট আরও বাড়িয়েছে, ধাক্কা দিয়েছে ইরানের অর্থনীতিতে, ছড়িয়ে দিয়েছে উত্তেজনা পশ্চিম এশিয়ার অন্য প্রান্তেও। এই পরিস্থিতিতে ইরানকে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বার্তা—‘চুক্তি করুন’।

তবে আলোচনার দরজাও পুরোপুরি বন্ধ করছেন না ট্রাম্প। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে চলতি সপ্তাহে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নিউ ইয়র্কে যাওয়ার কথা। ফক্স নিউজের এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দেখা করতেও আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধ শুরু হয়। তার পর থেকে ট্রাম্প বার বার বড় ধরনের সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত সেই হুমকি বাস্তবায়িত হয়নি।

এরই মধ্যে ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জানিয়েছে, নতুন করে হামলা হলে মার্কিন ঘাঁটি ও আমেরিকার স্বার্থে লাগাতার পাল্টা আঘাত হানা হবে। তেহরানের হুঁশিয়ারি, এমন পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ায় ওয়াশিংটনের মিত্রদেশগুলিকেও সংঘাতের অংশ হিসেবে দেখা হবে।

ইরানের সামরিক বাহিনী আরও দাবি করেছে, তাদের কাছে নতুন হামলার প্রস্তুতির খবর রয়েছে। তবে সেই খবরের ভিত্তি কী, তা জানানো হয়নি।

রিয়াধে হুতির হানা

ইরানকে ঘিরে সংঘাতের আঁচ ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে। আমেরিকার মিত্রদেশগুলির শহরেও ইরানের হামলা হয়েছে। তার উপর গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ থাকায় তেলনির্ভর অর্থনীতিগুলির উপর চাপ আরও বেড়েছে।

শনিবার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। চলতি মাসের গোড়ায় ইয়েমেনে নতুন করে তীব্র হয়ে ওঠা গৃহযুদ্ধে হুতিরা দ্রুত বেশ কয়েকটি সামরিক সাফল্য পেয়েছে।

রয়টার্সের ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, রাতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর রিয়াধের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকার আকাশে বিপুল কালো ধোঁয়া উঠছে।

হুতিদের হামলার পর মার্কিন বিদেশ দফতর নিরাপত্তা সতর্কবার্তা জারি করেছে। তাদের আশঙ্কা, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত অপ্রত্যাশিত ভাবে আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকতে এবং বিমান চলাচল বাতিল বা আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

সৌদি আরব এখনও এই হামলা নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, সৌদি আরবে আরও কয়েকটি হামলার চেষ্টা তারা ব্যর্থ করেছে।

হুতিদের এই তৎপরতা রিয়াধের সামনে কঠিন প্রশ্নও তুলে দিয়েছে। ইয়েমেনের আরও এলাকা হুতিদের দখলে যাওয়া ঠেকাতে সৌদি আরব কি বিমানহানা চালিয়ে যাবে? নাকি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় নতুন ড্রোন হামলার ঝুঁকি কমাতে সামরিক তৎপরতা কিছুটা কমাবে?

জ্বালানির পথ আটকে

ইয়েমেনের উপকূলবর্তী এলাকায় অগ্রগতির ফলে হুতি বাহিনী এখন বাব এল-মান্দেব প্রণালীর কাছে অবস্থান করছে। এর ফলে লোহিত সাগর ও এশিয়ার মধ্যে চলাচলকারী জাহাজগুলির উপর চাপ তৈরি করার ক্ষমতা আরও বেড়েছে তাদের। চাইলে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচলও ব্যাহত করতে পারে তারা।

অন্য দিকে, ইরান ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে অধিকাংশ জাহাজের চলাচল আটকে দিয়েছে। ফলে তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি রফতানির পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে তেলের দামের উপরও।

শুধু রফতানিকারক দেশগুলিই নয়, ইরানও পড়েছে বড় চাপে। মার্কিন অবরোধের কারণে তেহরানের পক্ষে নিজেদের তেল রফতানি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে দেশের অর্থনৈতিক সঙ্কট আরও গভীর হচ্ছে।

যুদ্ধবিরতি কোথায়?

এত ক্ষয়ক্ষতির পরেও জুনে হওয়া অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ফেরার তেমন কোনও লক্ষণ নেই। চুক্তির শর্ত নিয়ে মতবিরোধের জেরে জুলাইয়ে সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়।

রবিবার ইরান ফের জানিয়েছে, জুনের চুক্তির শর্ত তেহরান যে ভাবে বুঝেছে, তা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খুলবে না।

তবে যুদ্ধের পাশাপাশি আলোচনার পথও খোলা রাখার বার্তা এসেছে ইরানের পার্লামেন্ট থেকে। স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ বলেছেন, শত্রুকে পিছু হটাতে লড়াই চালানোর পাশাপাশি আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। যুদ্ধক্ষেত্রে যা অর্জন করা হবে, কূটনীতির মাধ্যমে তা আরও সুদৃঢ় করতে হবে।

অর্থাৎ, বন্দুক আর টেবিল—দুটিই আপাতত তেহরানের হিসাবের খাতায় রয়েছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles