বেড়া টপকে শিম্পাঞ্জি

যা জানা জরুরি
- প্রতিবেদন: তাইপে চিড়িয়াখানায় সেদিন দৃশ্যটা একটু উল্টো।
- খাঁচার ওপারে দাঁড়িয়ে প্রাণী দেখার বদলে দুই শিম্পাঞ্জি চলে এল দর্শকদের এলাকায়!
- নিজেদের নির্ধারিত আবাস থেকে বেরিয়ে তারা মানুষের চলাচলের জায়গায় পৌঁছে যায়।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিবেদন: তাইপে চিড়িয়াখানায় সেদিন দৃশ্যটা একটু উল্টো। খাঁচার ওপারে দাঁড়িয়ে প্রাণী দেখার বদলে দুই শিম্পাঞ্জি চলে এল দর্শকদের এলাকায়! নিজেদের নির্ধারিত আবাস থেকে বেরিয়ে তারা মানুষের চলাচলের জায়গায় পৌঁছে যায়। কর্মীরা দ্রুত ওই অংশ খালি করেন এবং প্রাণী দুটিকে শান্ত করার ওষুধ প্রয়োগ করে নিরাপদে নিয়ন্ত্রণে আনেন। কোনও দর্শক গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
তবে শিম্পাঞ্জি সেখানে পৌঁছল কীভাবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। দরজা খোলা ছিল কি না, রক্ষণাবেক্ষণে কোনও ত্রুটি হয়েছিল কি না, বেড়ার কোনও অংশ দুর্বল ছিল কি না—সবই খতিয়ে দেখছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। প্রাণী দুটির কোনও নতুন ‘কৌশল’ ছিল কি না, সেটিও বাদ দেওয়া হচ্ছে না। শিম্পাঞ্জির বুদ্ধিমত্তা নিয়ে অবশ্য নতুন করে বলার কিছু নেই; মানুষের আচরণ দেখে তালা, দরজা বা কাঠামো ব্যবহার শেখার নজির তাদের রয়েছে।
দর্শকদের কাছে ঘটনাটি হয়তো চমকপ্রদ ভিডিয়োর বিষয়। কিন্তু পূর্ণবয়স্ক শিম্পাঞ্জি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রাণী। আতঙ্কে তাদের কাছে যাওয়া, ছবি তুলতে ঘিরে ফেলা কিংবা খাবার দিয়ে শান্ত করার চেষ্টা বিপজ্জনক হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে নিরাপদ কাজ হল কর্মীদের নির্দেশ মেনে দ্রুত সরে যাওয়া।
আর প্রাণীকে শান্ত করার ওষুধ প্রয়োগও কোনও সহজ সমাধান নয়। প্রাণীর ওজন অনুযায়ী সঠিক মাত্রা নির্ধারণ করতে হয়, পাশাপাশি ওষুধ কাজ করার সময় পড়ে গিয়ে যাতে আঘাত না লাগে, সেই ব্যবস্থাও করতে হয়। তাই এমন পদ্ধতি সাধারণত শেষ বিকল্প হিসেবেই দেখা হয়। জনসাধারণের এলাকায় প্রাণী দুটিকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার প্রয়োজন হয়েছিল বলেই এখানে তা ব্যবহার করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ঘটনার পরে শুধু শিম্পাঞ্জি দুটিকে নিরাপদে ফেরালেই দায়িত্ব শেষ নয়। তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সামাজিক দলে স্বাভাবিকভাবে ফিরিয়ে দেওয়া এবং কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, তা বোঝাও জরুরি। প্রাণী পালানোর জন্য ‘শাস্তি’ নয়, বরং তাদের আবাসে পর্যাপ্ত জায়গা, মানসিক উদ্দীপনা এবং কর্মীদের দৈনন্দিন নিরাপত্তা-প্রটোকল আরও একবার খতিয়ে দেখাই গুরুত্বপূর্ণ।
এর মধ্যেই চিড়িয়াখানাটিতে প্রাণী বিনিময় নিয়েও নানা কার্যক্রম চলছে। সম্প্রতি চীন থেকে দুটি লাল পান্ডা আনা হয়েছে এবং সাংহাইয়ে গিবন পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে শিম্পাঞ্জির এই ঘটনা চিড়িয়াখানার প্রাণীকল্যাণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
‘চিড়িয়াখানায় মানুষ প্রাণী দেখতে যায়, সেদিন প্রাণীই মানুষ দেখতে বেরিয়েছিল’—রসিকতাটা মন্দ নয়। কিন্তু যদি বেড়া বা অন্য কোনও নিরাপত্তাব্যবস্থায় ত্রুটি থেকে থাকে, তাহলে বিষয়টি মোটেই হাসির নয়। প্রাণীর কৌতূহল স্বাভাবিক; সেই কৌতূহল যেন দর্শকদের জন্য বিপদ না হয়ে ওঠে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব মানুষেরই।
তদন্তের ফল তাই গুরুত্বপূর্ণ। কোন জায়গায় সমস্যা হয়েছিল, কীভাবে ঠিক করা হল—সেটা জানা দরকার। কারণ শিম্পাঞ্জিকে ঘরে ফেরানো একবারের সমাধান। পথটা যদি সে শিখে গিয়ে থাকে, পরের বার তার আগেই মানুষকে একটু বেশি বুদ্ধিমান হতে হবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



