৩০ ডলারের ছবি, লাখের বাজি

যা জানা জরুরি
- প্রতিবেদন: মিশিগানের এক সম্পত্তি-বিক্রিতে মাত্র ৩০ ডলারে কেনা হয়েছিল ছবিটি।
- তখন কে জানত, দেয়ালে ঝোলানো সেই অচেনা ছবিই একদিন নিলামের মঞ্চে উঠবে দেড় থেকে আড়াই লাখ ডলারের সম্ভাব্য দামে!
- মার্কিন অতিবাস্তববাদী শিল্পী গার্ট্রুড আবারক্রম্বির হারিয়ে যাওয়া কাজ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ছবিটি।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিবেদন: মিশিগানের এক সম্পত্তি-বিক্রিতে মাত্র ৩০ ডলারে কেনা হয়েছিল ছবিটি। তখন কে জানত, দেয়ালে ঝোলানো সেই অচেনা ছবিই একদিন নিলামের মঞ্চে উঠবে দেড় থেকে আড়াই লাখ ডলারের সম্ভাব্য দামে! মার্কিন অতিবাস্তববাদী শিল্পী গার্ট্রুড আবারক্রম্বির হারিয়ে যাওয়া কাজ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ছবিটি। ‘অল্ডারম্যান মেরিয়ামস শেলস’ নামের সেই ছবি ১ অক্টোবর ফ্রিম্যানস নিলামঘরে উঠবে।
ছবিটি কেনার সময় ক্রেতার মাথায় অবশ্য এত বড় অঙ্কের কোনও হিসাব ছিল না। ছবিটির অস্বাভাবিক, রহস্যময় পরিবেশই তাঁকে টেনেছিল। পরে শিল্পীর বাজারদর সম্পর্কে জানতে পেরে শুরু হয় আসল খোঁজ। স্বাক্ষর, ছবির বিষয়বস্তু ও আঁকার ধরন পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। আবারক্রম্বির কাজের তালিকা এবং পুরনো মালিকানার নথির সঙ্গে তুলনা করে ছবিটির প্রামাণিকতা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নিলামঘর।
১৯০৯ সালে জন্ম নেওয়া আবারক্রম্ব্রি শিকাগো-কেন্দ্রিক শিল্পজগতের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী ছিলেন। তাঁর ছবিতে বারবার ফিরে এসেছে রাতের আকাশ, নির্জন ঘর, পেঁচা, শাঁস এবং একাকী নারী—যেন বাস্তবের মধ্যে একটু স্বপ্ন, আর স্বপ্নের মধ্যে একটু অস্বস্তি। তিনি নিজেকে কখনও ‘বপ শিল্পী’ বলে উল্লেখ করতেন। জ্যাজ সংগীতশিল্পীদের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। জীবদ্দশায় তাঁর পরিচিতি সীমিত থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে শিল্পবাজারে তাঁর কাজের চাহিদা দ্রুত বেড়েছে।
তবে দেড় থেকে আড়াই লাখ ডলারের অনুমান মানেই ছবিটি এত দামেই বিক্রি হবে, এমন নয়। দর না উঠলে দাম কমও হতে পারে, আবার সংগ্রাহকদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা হলে অনুমানের চেয়েও বেশি যেতে পারে। নিলামঘরের এই প্রাক্কলন বাজারে আগ্রহ তৈরিরও একটি অংশ। তার উপর ক্রেতার কমিশন, কর এবং অন্যান্য খরচ বাদ গেলে হাতুড়ির দামের পুরোটা বর্তমান মালিকের হাতে যাবে না।
তাই ৩০ ডলার থেকে আড়াই লাখ ডলারের গল্প যতই রোমাঞ্চকর হোক, পুরনো কোনও ছবির পিছনে লুকিয়ে থাকা শিল্পীকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা সব সময় থাকে না। স্বাক্ষর দেখেই কোনও ছবি আসল ধরে নেওয়াও বিপজ্জনক। রং, ক্যানভাস, আঁকার ধরন, উৎস এবং আগে প্রকাশিত কাজের সঙ্গে তুলনা—সব মিলিয়েই প্রামাণিকতা যাচাই করতে হয়।
ছবিটি কীভাবে আগের মালিকদের হাত ঘুরে মিশিগানের সেই সম্পত্তি-বিক্রিতে পৌঁছেছিল, তার সম্পূর্ণ ধারাবাহিকতাও এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। চুরি বা বেআইনি হাতবদলের কোনও অভিযোগও সামনে আসেনি। নিলামের আগে তাই ছবিটির মালিকানা-ইতিহাস আরও পরিষ্কার হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
ঘটনাটিতে ভাগ্য অবশ্যই আছে। কিন্তু শুধু ভাগ্য বললে ক্রেতার কৌতূহল আর পরের গবেষণাটুকু বাদ পড়ে যায়। ছবিটি চোখে না লাগলে ৩০ ডলারও খরচ হতো না; আবার গবেষণা না হলে সেটি হয়তো সারাজীবন সাধারণ দেয়ালসজ্জা হয়েই থাকত।
এই গল্প একই সঙ্গে নারী শিল্পীদের দেরিতে পাওয়া স্বীকৃতির কথাও মনে করিয়ে দেয়। আবারক্রম্ব্রির কাজের বাজারমূল্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর হারিয়ে যাওয়া কাজও নতুন করে খোঁজা হচ্ছে। বাজার কখনও কখনও ইতিহাসকে উদ্ধার করার দরজা খুলে দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত কোনও শিল্পকর্মের মূল্য শুধু তার দামের অঙ্কে আটকে গেলে শিল্পটাই যেন একটু আড়ালে পড়ে যায়।
৩০ ডলারের ছবিটি এবার নিলামের মঞ্চে উঠবে। ৩০ ডলারের ক্রেতা তখন হয়তো ভাববেন—দেয়ালে ঝোলানো ছবিরও যে এমন ‘প্রমোশন’ হতে পারে, কে জানত!
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



