এক তারিখে পাঁচ প্রজন্ম

যা জানা জরুরি
- জন্মদিনের ক্যালেন্ডারে একটিই তারিখ বারবার ফিরে এসেছে—১৪ সেপ্টেম্বর।
- আইওয়ার এক পরিবারে পরপর পাঁচ প্রজন্মের সদস্যের জন্ম হয়েছে একই দিনে।
- ১৯০৭ সালে উইলবার হার্লোর জন্ম দিয়ে যে কাকতালীয় ধারার শুরু, ২০২৫ সালে আর্থার বেলের জন্মে তা পৌঁছেছে পাঁচ প্রজন্মে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
জন্মদিনের ক্যালেন্ডারে একটিই তারিখ বারবার ফিরে এসেছে—১৪ সেপ্টেম্বর। আইওয়ার এক পরিবারে পরপর পাঁচ প্রজন্মের সদস্যের জন্ম হয়েছে একই দিনে। ১৯০৭ সালে উইলবার হার্লোর জন্ম দিয়ে যে কাকতালীয় ধারার শুরু, ২০২৫ সালে আর্থার বেলের জন্মে তা পৌঁছেছে পাঁচ প্রজন্মে। এই বিরল ঘটনাকে গিনেস বিশ্বরেকর্ডও স্বীকৃতি দিয়েছে।
উইলবারের পরে একই তারিখে জন্মেছিলেন তাঁর মেয়ে অ্যাডি হার্লো। তারপর ফ্রেড হার্লো, তাঁর পর এমা বেল এবং সবশেষে এমার সন্তান আর্থার বেল—সবার জন্মদিন ১৪ সেপ্টেম্বর। ছেলে, মেয়ে, ছেলে, মেয়ে, ছেলে—লিঙ্গের ক্রমটিও যেন অদ্ভুত ছন্দ মেনে এগিয়েছে। অবশ্য এর কোনওটাই পরিবারের পরিকল্পনা ছিল না; ক্যালেন্ডারই যেন নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পরিবারটি এর আগে চার প্রজন্ম ধরে একই জন্মদিনের জন্য অন্য কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে রেকর্ড ভাগ করেছিল। পরে আর্থারের জন্মকে ঘিরে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়। তাঁর সম্ভাব্য প্রসবের তারিখ কাছাকাছি থাকলেও ১৪ সেপ্টেম্বরেই জন্ম হবে, তার নিশ্চয়তা ছিল না। শেষ পর্যন্ত সেই দিনেই আর্থারের জন্ম হয়। প্রয়োজনীয় জন্মসনদ ও নথি সংগ্রহ করে পরিবার গিনেসের কাছে আবেদন করে এবং রেকর্ডের স্বীকৃতি পায়।
ঘটনাটি নিঃসন্দেহে বিরল, তবে একেবারে অসম্ভব নয়। জন্মতারিখের কাকতালীয়তা নিয়ে সরল সম্ভাবনার হিসাব করা যায়, যদিও বাস্তবে প্রসবের সময় নির্ধারণে চিকিৎসাগত কারণ, নির্ধারিত প্রসব বা অন্যান্য পরিস্থিতিও ভূমিকা নিতে পারে। পরিবার ইচ্ছা করে ওই তারিখে সন্তানদের জন্ম দিয়েছে—এমন কোনও তথ্য নেই।
একই দিনে পাঁচ প্রজন্মের জন্মদিন মানে অবশ্য পারিবারিক পার্টিতেও নতুন অঙ্ক। পাঁচজনের জন্য আলাদা কেক, নাকি এক কেকেই পাঁচটি নাম? একসঙ্গে উদ্যাপন করলে সময় বাঁচবে, আবার প্রত্যেকের নিজের জন্মদিনের গুরুত্বও ভাগ হয়ে যেতে পারে। আর ভুলে যাওয়ার ভয়? সে সুযোগ অন্তত নেই—১৪ সেপ্টেম্বর এলেই পুরো পরিবারকে মনে পড়বেই।
সবচেয়ে সুন্দর দিকটি অবশ্য সংখ্যার বাইরে। ১৯০৭ থেকে ২০২৫—১১৮ বছরের ব্যবধান পেরিয়ে একই তারিখে পরিবারের পাঁচ প্রজন্মের নাম জুড়ে গেছে। তাঁদের সবাই হয়তো একে অপরকে দেখেননি, কিন্তু একটি তারিখ তাঁদের গল্পকে একই সুতোয় বেঁধে দিয়েছে।
বিশ্বরেকর্ডের অনেক কৃতিত্বের পেছনে থাকে অনুশীলন, প্রস্তুতি বা অসাধারণ দক্ষতা। এই রেকর্ডে পরিবারের ভূমিকা অন্যরকম—কাকতালীয় ঘটনাটিকে খেয়াল করা, প্রমাণ জোগাড় করা এবং নথি ঠিকঠাক রাখা। শিশুরা অবশ্য গিনেসের ফর্ম হাতে নিয়ে পৃথিবীতে আসে না!
আর এই একই জন্মদিনকে ভবিষ্যতে পারিবারিক ‘দায়িত্ব’ বানানোরও দরকার নেই। আর্থার বড় হয়ে নিজের জন্মদিন কীভাবে উদ্যাপন করবে, সেটি তাঁরই ব্যাপার। আপাতত ১৪ সেপ্টেম্বর পরিবারটির ক্যালেন্ডারে নিছক একটি তারিখ নয়—এটি পাঁচ প্রজন্মের এক আশ্চর্য মিল।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



