সংস্কৃতি ও বিনোদন

জলখাবার যখন লম্বা

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • প্রতিবেদন: নেব্রাস্কার ওমাহায় জলখাবার খাওয়ার আগে মাপার ফিতা ধরতে হল!
  • খাদ্যপ্রতিষ্ঠান কনাগ্রা ব্র্যান্ডস তৈরি করেছে ৪২৯ ফুট ৫.৪ ইঞ্চি লম্বা একটি স্লিম জিম মাংসের জলখাবার।
  • সংস্থার দাবি, এই বিশাল মাংসের কাঠিই গিনেস বিশ্বরেকর্ড গড়েছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

প্রতিবেদন: নেব্রাস্কার ওমাহায় জলখাবার খাওয়ার আগে মাপার ফিতা ধরতে হল! খাদ্যপ্রতিষ্ঠান কনাগ্রা ব্র্যান্ডস তৈরি করেছে ৪২৯ ফুট ৫.৪ ইঞ্চি লম্বা একটি স্লিম জিম মাংসের জলখাবার। সংস্থার দাবি, এই বিশাল মাংসের কাঠিই গিনেস বিশ্বরেকর্ড গড়েছে।

সাধারণ স্লিম জিমের একটি প্যাকেট হাতে নিয়ে দু’কামড়ে শেষ করা যায়। কিন্তু এই সংস্করণটি সোজা করে মেলতেই লেগেছে প্রায় ১৩১ মিটার জায়গা—একটি সাধারণ ফুটবল মাঠের দৈর্ঘ্যেরও বেশি। ফলে প্লেটে সাজানোর প্রশ্নই নেই; আগে ঠিকঠাক করে মেলে ধরাই ছিল বড় কাজ। কর্মীদের সাবধানে সেটি খুলে রাখতে হয়েছে, যাতে এত লম্বা মাংসের কাঠিটি মাঝপথে ভেঙে না যায়।

গিনেসের রেকর্ডে অবশ্য শুধু ‘বিশাল’ বানালেই হয় না। নির্দিষ্ট বিভাগের নিয়ম মেনে স্বাধীন সাক্ষী, পরিমাপের প্রমাণ এবং পণ্যটির নির্ধারিত মান পূরণের মতো বিষয়ও যাচাই করতে হয়। ইউপিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আয়োজকদের দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের পর রেকর্ডটি স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে এত বড় জলখাবারটি পরে ঠিক কীভাবে ব্যবহার বা ভাগ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য নেই।

স্লিম জিম কনাগ্রার পরিচিত পণ্য। তাই আয়োজনটির মধ্যে খাদ্য তৈরির কৌশলের পাশাপাশি বিজ্ঞাপনের হিসাবও স্পষ্ট। পুষ্টির প্রয়োজন মেটাতে ৪২৯ ফুটের মাংসের কাঠির কোনও বিশেষ সুবিধা নেই। কিন্তু ছবি, ভিডিও আর খবরের শিরোনামে ব্র্যান্ডের নাম পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এর জুড়ি মেলা ভার। বিশ্বরেকর্ডের দুনিয়ায় অদ্ভুত জিনিসই অনেক সময় সবচেয়ে নজরকাড়া বিজ্ঞাপন।

তবে এমন প্রদর্শনীতে খাদ্য অপচয়ের প্রশ্নও ওঠে। এত বড় পণ্য তৈরির পর সেটি নিরাপদভাবে খাওয়া বা বিতরণ করা হয়েছিল কি না, তা জানানো জরুরি। খাবার যদি প্রদর্শনের সময় দীর্ঘক্ষণ খোলা অবস্থায় থাকে, তা হলে খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হয়। বিশ্বরেকর্ডের মাপ যতই বড় হোক, খাবার নিরাপদ রাখার নিয়ম তার চেয়ে ছোট নয়।

দৈর্ঘ্য অবশ্য খাবারের গুণমানের মাপকাঠি নয়। ৪২৯ ফুট হলেই স্বাদ, উপাদান, লবণ বা সংরক্ষণপদ্ধতি উন্নত হয়ে যায় না। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনের একেবারে সাধারণ একটি জলখাবারকে এক দিনের শহুরে প্রদর্শনীতে পরিণত করার ক্ষমতা এই আয়োজন দেখিয়ে দিল।

বিশ্লেষণ: মানুষের রেকর্ড-প্রিয়তার মজার দিক হল, দৈনন্দিন ব্যবহারে যে জিনিস যত ছোট হওয়া সুবিধাজনক, রেকর্ডের জন্য সেটিকেই তত বড় করা যায়। জলখাবারটি সাধারণত পকেটে ঢোকে; ওমাহার সংস্করণটির জন্য বরং জায়গাটাকেই পকেটের মতো ছোট মনে হওয়ার কথা!

এটি নিঃসন্দেহে মজার এক প্রযুক্তিগত ও বিপণন-প্রদর্শনী, তবে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি নয়। কনাগ্রা যদি এর পরিমাণ, খাদ্য অপচয় এবং ব্যবহারের পর কী করা হয়েছিল—সেই তথ্যও স্পষ্ট করে, তা হলে রেকর্ডটির গল্প আরও সম্পূর্ণ হয়। নইলে পৃথিবীর দীর্ঘতম জলখাবার শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর দীর্ঘতম বিজ্ঞাপন হিসেবেই মনে থাকবে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles