অর্থ ও বাণিজ্য

কিস্তি বাকি থাকলেও মাঝরাতে গাড়ি কেড়ে নেওয়া যাবে না, জানাল সুপ্রিম কোর্ট

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: ঋণের কিস্তি খেলাপ হলে ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গাড়ি পুনর্দখলের চুক্তিগত অধিকার থাকতে পারে, কিন্তু বলপ্রয়োগ, গোপন অভিযান বা ভয় দেখিয়ে সেই অধিকার…
  • আদালত সংশ্লিষ্ট ট্রাকমালিককে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং তাঁর ঋণ-হিসাব বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে।
  • অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৯ এপ্রিল রাত একটার দিকে ঋণদাতা সংস্থার হয়ে কাজ করা লোকেরা গাড়িটি নিয়ে যান।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: ঋণের কিস্তি খেলাপ হলে ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গাড়ি পুনর্দখলের চুক্তিগত অধিকার থাকতে পারে, কিন্তু বলপ্রয়োগ, গোপন অভিযান বা ভয় দেখিয়ে সেই অধিকার প্রয়োগ করা যাবে না—সুপ্রিম কোর্ট একটি মামলায় এই নীতি স্পষ্ট করেছে। আদালত সংশ্লিষ্ট ট্রাকমালিককে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং তাঁর ঋণ-হিসাব বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে।

মামলাটি একটি ট্রাকের ঋণ নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৯ এপ্রিল রাত একটার দিকে ঋণদাতা সংস্থার হয়ে কাজ করা লোকেরা গাড়িটি নিয়ে যান। গাড়ির স্টিয়ারিংয়ের তালা ভাঙা হয়েছিল বলেও মালিক অভিযোগ করেন। ঋণগ্রহীতার কিস্তি বাকি ছিল—এটি মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, কিন্তু আদালতের মতে খেলাপ নিজে থেকে রাতের অন্ধকারে সম্পত্তি কেড়ে নেওয়ার অনুমতি দেয় না।

বিচারপতি পি এস নরসিমহা ও বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চ বলেছে, চুক্তির পুনর্দখল-ধারা আইনসম্মত প্রক্রিয়ার বিকল্প নয়। নোটিস, বকেয়ার পরিষ্কার হিসাব, স্বেচ্ছায় গাড়ি ফেরানোর সুযোগ এবং পুনর্দখলের নথি থাকা দরকার। গাড়ি বিক্রি করা হলে বিক্রয়মূল্য, খরচ ও অবশিষ্ট ঋণও ঋণগ্রহীতাকে জানাতে হবে।

ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বহু বছর আগে ব্যাঙ্ক ও অ-ব্যাঙ্ক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য ন্যায্য আচরণবিধি জারি করেছিল। সেখানে পুনর্দখলের শর্ত, নোটিসের সময়, সম্পত্তি বিক্রির প্রক্রিয়া এবং ঋণগ্রহীতার অধিকার চুক্তিতে স্পষ্ট করার কথা আছে। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, কাগজে নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে জবরদস্তিমূলক পুনর্দখল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। নিয়ন্ত্রককে তাই শুধু নির্দেশ জারি নয়, প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে।

রায়টির অর্থ ঋণগ্রহীতা কিস্তি না-দিয়েও গাড়ি অনির্দিষ্টকাল রেখে দিতে পারবেন—এমন নয়। ঋণদাতা নোটিস দিতে পারে, সালিশি বা আদালতের পথ নিতে পারে এবং চুক্তি ও আইনের বিধি মেনে সম্পত্তি পুনর্দখল করতে পারে। গাড়ি লুকিয়ে রাখা, বিক্রি করা বা ইচ্ছাকৃতভাবে যোগাযোগ বন্ধ করলে ঋণগ্রহীতার অবস্থাও দুর্বল হবে।

পুনর্দখলকারী কোনও ব্যক্তি এলে তাঁর পরিচয়পত্র, ঋণদাতার অনুমোদন এবং লিখিত নোটিস চাওয়া জরুরি। শারীরিক সংঘর্ষে না-জড়িয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া এবং নিরাপদে সম্ভব হলে সময়, স্থান ও গাড়ির অবস্থার প্রমাণ রাখা উচিত। খালি কাগজ বা না-পড়া ‘স্বেচ্ছা হস্তান্তর’ নথিতে সই করা ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশ্লেষণ: গাড়ির ঋণে সম্পত্তিই সাধারণত জামানত। ফলে ঋণদাতার পুনর্দখলের প্রয়োজন সম্পূর্ণ অস্বীকার করলে ঋণের খরচ বাড়তে পারে। কিন্তু পুনরুদ্ধারের নামে ব্যক্তিগত বাহিনী ব্যবহার করলে চুক্তির সম্পর্ক আইনের বাইরে চলে যায়।

এই রায়ের সবচেয়ে বড় গুরুত্ব ক্ষতিপূরণের অঙ্কে নয়, ক্ষমতার সীমা নির্ধারণে। ঋণগ্রহীতা খেলাপি হলেও তাঁর ব্যক্তিসুরক্ষা ও প্রক্রিয়াগত অধিকার থাকে। অন্যদিকে একটি রায় সব পুরনো পুনর্দখল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করে না; প্রতিটি ঘটনার নোটিস, চুক্তি ও প্রমাণ আলাদা। নিয়ন্ত্রকের প্রকাশ্য অভিযোগ-পরিসংখ্যান এবং পুনরুদ্ধারকারী সংস্থার জবাবদিহি ছাড়া আদালতের নীতিও মাঠে অসমভাবে প্রয়োগ হতে পারে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles