৩০ বলেই ম্যাচ শেষ! জাপানকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে ভারত

যা জানা জরুরি
- প্রতিবেদন: এশিয়ান গেমসে মহিলা ক্রিকেটের সোনা ধরে রাখার অভিযান ভারত শুরু করল মাত্র ৩০ বলের রানতাড়ায়।
- ১৮ সেপ্টেম্বর নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে কোয়ার্টার ফাইনালে জাপানকে আট উইকেটে হারিয়েছে ভারত।
- টস জিতে প্রথমে বল করে স্বাগতিকদের ১৯.৫ ওভারে ৫৭ রানে অলআউট করার পরে পাঁচ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দল।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিবেদন: এশিয়ান গেমসে মহিলা ক্রিকেটের সোনা ধরে রাখার অভিযান ভারত শুরু করল মাত্র ৩০ বলের রানতাড়ায়। ১৮ সেপ্টেম্বর নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে কোয়ার্টার ফাইনালে জাপানকে আট উইকেটে হারিয়েছে ভারত। টস জিতে প্রথমে বল করে স্বাগতিকদের ১৯.৫ ওভারে ৫৭ রানে অলআউট করার পরে পাঁচ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দল।
জাপানের ইনিংসে রান তোলার চেয়ে উইকেটে টিকে থাকাই প্রধান লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছিল। প্রথম ছয় ওভারে ওঠে ২৪ রান; বাউন্ডারি মাত্র দু’টি, তার একটি স্লিপের পাশ দিয়ে যাওয়া প্রান্তছোঁয়া বল। ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত লাইন এবং সতর্ক ক্ষেত্ররক্ষণের সামনে ব্যাটারেরা বলের নাগাল হারিয়েছেন বারবার।
ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দেন বাঁহাতি স্পিনার শ্রী চরণী। সপ্তম ওভারে পরপর দুই বলে তিনি ওপেনার হারুনা ইওয়াসাকি ও অধিনায়ক মাই ইয়ানাগিদাকে ফেরান। চার ওভারে দশ রান দিয়ে চার উইকেট—এটি তাঁর স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং। ছোট দলের বিরুদ্ধে সংখ্যাটি সহজ বলে মনে হতে পারে, কিন্তু নতুন প্রতিপক্ষের ব্যাটিং-পদ্ধতি সম্পর্কে সীমিত ধারণা নিয়েও সঠিক গতি ও দৈর্ঘ্য বজায় রাখাই তাঁর সাফল্যের বড় দিক।
শেফালি বর্মাও বল হাতে ভূমিকা নেন। তাঁর অফস্পিনে আকাশে তুলে আউট হন আয়াকা কাতো-স্ট্যাফোর্ড ও শিমাকো কাতো। দুই ওভারে ১৩ রানে দুই উইকেট নেওয়ার পরে তিনি নিজের পরিচিত ভূমিকা—আক্রমণাত্মক উদ্বোধনী ব্যাটিংয়ে—ফিরে যান।
৫৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত অবশ্য একেবারে নিখুঁত ছিল না। গুনালন কামালিনী ও ভারতী ফুলমালি আউট হওয়ায় জাপান দুটি উইকেটের আনন্দ পেয়েছে। কিন্তু শেফালি ১৫ বলে অপরাজিত ৪০ এবং রিচা ঘোষ ছয় বলে অপরাজিত ১২ করে ম্যাচ আর দীর্ঘ হতে দেননি। পাঁচ ওভার শেষে ভারতের স্কোর ৫৮/২।
সেমিফাইনালে ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে ভারত। অন্য ম্যাচে পাকিস্তান খেলবে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে। ফাইনাল ও ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচ ২২ সেপ্টেম্বর। তাই দ্রুত জয় শুধু বড় ব্যবধান নয়; প্রতিযোগিতার ঘন সূচিতে ব্যাটার ও প্রধান বোলারদের শরীরও তুলনামূলক কম ব্যবহার হয়েছে।
জাপানের জন্য ফলটি কঠিন, তবে এশিয়ান গেমসের বড় মঞ্চে ভারতীয় পেশাদারদের বিরুদ্ধে প্রায় পুরো ২০ ওভার ব্যাট করা অভিজ্ঞতার অংশ। দুই ভারতীয় ব্যাটারকে ফেরানোও দেখায়, পূর্ণ সদস্য দেশের সঙ্গে সহযোগী দলের পার্থক্য প্রতিটি বলে সমান নয়। ব্যবধান তৈরি হয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে দক্ষতা বজায় রাখায়।
বিশ্লেষণ: ৫৭ রানের প্রতিপক্ষকে হারিয়ে সোনার ভবিষ্যদ্বাণী করা ঠিক হবে না। বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে চাপ, বোলিংয়ের বৈচিত্র্য ও ম্যাচের গতি আলাদা হবে। ভারতীয় ইনিংসে দুই উইকেট হারানো তাই কোচদের জন্য ছোট সতর্কতা।
অন্যদিকে শ্রী চরণীর ভূমিকা ভবিষ্যতের দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। ভারতের মহিলা ক্রিকেটে বাঁহাতি স্পিনের শক্তি থাকলেও বড় প্রতিযোগিতায় বিকল্প উইকেটশিকারি তৈরি করা জরুরি। শেফালির দুই ভূমিকায় সফলতাও দলের বিন্যাসে অতিরিক্ত স্বাধীনতা দেয়। পাঁচ ওভারের জয় দর্শকের কাছে ঝড়; দলের কাছে এটি সেমিফাইনালের আগে সময় ও শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



