International

গাড়ি আবার মঞ্চে, কিন্তু স্বাধীনতা কোথায়

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • প্রতিবেদন: ১৯৯১ সালের চলচ্চিত্র ‘থেলমা অ্যান্ড লুইস’ প্রথমবার লন্ডনের মঞ্চে রূপান্তরিত হয়েছে।
  • মূল ছবির চিত্রনাট্যকার ক্যালি খৌরি নতুন মঞ্চরূপের সঙ্গেও যুক্ত।
  • ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, দুই নারীর বন্ধুত্ব, যৌন সহিংসতা এবং পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতার বিরুদ্ধে পালিয়ে যাওয়ার গল্প তিন দশক পরেও অস্বস্তিকরভাবে প্রাসঙ্গিক।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

প্রতিবেদন: ১৯৯১ সালের চলচ্চিত্র ‘থেলমা অ্যান্ড লুইস’ প্রথমবার লন্ডনের মঞ্চে রূপান্তরিত হয়েছে। মূল ছবির চিত্রনাট্যকার ক্যালি খৌরি নতুন মঞ্চরূপের সঙ্গেও যুক্ত। ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, দুই নারীর বন্ধুত্ব, যৌন সহিংসতা এবং পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতার বিরুদ্ধে পালিয়ে যাওয়ার গল্প তিন দশক পরেও অস্বস্তিকরভাবে প্রাসঙ্গিক।

রিডলি স্কট পরিচালিত চলচ্চিত্রে গিনা ডেভিস ও সুসান সারান্ডন দুই বন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। সপ্তাহান্তের ছোট সফর এক আক্রমণ, আত্মরক্ষা এবং পুলিশের ধাওয়া পেরিয়ে আইনের বাইরে যাত্রায় বদলে যায়। ছবিটির শেষ দৃশ্য জনপ্রিয় সংস্কৃতির অন্যতম পরিচিত প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠলেও কাহিনির কেন্দ্রে ছিল সহিংসতার পরে নারীর কথা বিশ্বাস না-করা হওয়ার ভয়।

খৌরি মূল চিত্রনাট্যের জন্য অস্কার পেয়েছিলেন। মঞ্চরূপে তাঁর কাজ শুধু সংলাপ কপি করা নয়; চলচ্চিত্রের মরুভূমি, গাড়ি, রাস্তা ও দ্রুত সম্পাদনাকে সীমিত মঞ্চে নতুন ভাষায় অনুবাদ করতে হয়েছে। গাড়ির বাস্তব গতির বদলে আলো, শব্দ, অভিনয় এবং দর্শকের কল্পনা রাস্তার অনুভূতি তৈরি করে।

মঞ্চে পরিচিত চলচ্চিত্র আনা বাণিজ্যিকভাবে আকর্ষণীয়। নামটি দর্শক জানেন, স্মৃতি ও ভক্তগোষ্ঠী আগে থেকেই আছে। একই সঙ্গে তুলনার বোঝাও বেশি। নতুন অভিনেত্রীদের প্রতিটি ভঙ্গি যদি ডেভিস ও সারান্ডনের অনুকরণে বিচার করা হয়, স্বতন্ত্র মঞ্চচরিত্র গড়ে ওঠা কঠিন।

মূল ছবিটি মুক্তির সময় নারীবাদী চলচ্চিত্র না পুরুষবিদ্বেষী কল্পনা—এ বিতর্ক হয়েছিল। বর্তমান দর্শক সম্মতি, আত্মরক্ষা, পুলিশি বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ভুক্তভোগীর আচরণ সম্পর্কে নতুন ভাষা নিয়ে নাটকটি দেখবেন। একই ঘটনা তাই ১৯৯১ সালের দর্শকের তুলনায় আলাদা প্রশ্ন তুলতে পারে।

তবে “এখনও প্রাসঙ্গিক” কথাটি সহজ প্রচারবাক্যেও পরিণত হয়। যৌন সহিংসতার বাস্তবতা রয়ে গেছে বলেই কোনও পুরনো কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন হয়ে যায় না। মঞ্চরূপে জাতি, শ্রেণি, আইন ও গ্রামীণ আমেরিকার প্রেক্ষাপট কীভাবে বোঝানো হয়েছে, তার উপর নতুনত্ব নির্ভর করবে।

কাহিনির স্বাধীনতার ধারণাও দ্বিধাময়। দুই নারী রাস্তা বেছে নেন, কিন্তু তাঁদের সামনে আইনগত সহায়তা, আশ্রয় বা বিশ্বাসযোগ্য বিচারব্যবস্থা প্রায় অনুপস্থিত। পলায়নকে রোমাঞ্চ হিসেবে দেখালে কাঠামোগত ব্যর্থতা আড়ালে যেতে পারে; আবার শুধু শিক্ষামূলক বার্তা দিলে বন্ধুত্ব ও বিপদের নাটকীয় শক্তি কমে।

বিশ্লেষণ: ‘থেলমা অ্যান্ড লুইস’-এর স্থায়িত্বের কারণ শেষ দৃশ্য নয়, এক বন্ধুর বিপদকে অন্য বন্ধু নিজের বিষয় হিসেবে গ্রহণ করা। মঞ্চে দর্শক একই ঘরে বসে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যক্ষ করেন—চলচ্চিত্রের দূরত্বের বদলে জীবন্ত শরীর ও কণ্ঠের চাপ তৈরি হয়।

নতুন রূপের সার্থকতা মাপা উচিত নস্টালজিয়ায় নয়। এটি কি আজকের দর্শককে জিজ্ঞাসা করায়, পালানো ছাড়া তাঁদের জন্য আর কোনও বিশ্বাসযোগ্য পথ ছিল কি না? উত্তর যদি এখনও অস্পষ্ট হয়, গল্পের প্রাসঙ্গিকতা যেমন প্রমাণিত হয়, তেমনি তিন দশকের সামাজিক অগ্রগতির সীমাও প্রকাশ পায়।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles