শিশুদের সঙ্গে অভিনয়ে নিজের শৈশব দেখলেন সাওয়ার্সি রোনান

যা জানা জরুরি
- প্রতিবেদন: অন্ধকার রসাত্মক চলচ্চিত্র ‘ব্যাড অ্যাপলস’-এ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মারিয়ার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সাওয়ার্সি রোনান।
- ১৮ সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া ছবিটির কাজ করতে গিয়ে প্রায় ৩০ জন শিশুশিল্পীর সঙ্গে তাঁকে দীর্ঘ সময় কাটাতে হয়েছে।
- সেই অভিজ্ঞতা বারো বছর বয়সে ‘অ্যাটোনমেন্ট’-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পাওয়া অভিনেতাকে নিজের শৈশবের কাজের পরিবেশ নতুন করে ভাবিয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিবেদন: অন্ধকার রসাত্মক চলচ্চিত্র ‘ব্যাড অ্যাপলস’-এ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মারিয়ার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সাওয়ার্সি রোনান। ১৮ সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া ছবিটির কাজ করতে গিয়ে প্রায় ৩০ জন শিশুশিল্পীর সঙ্গে তাঁকে দীর্ঘ সময় কাটাতে হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা বারো বছর বয়সে ‘অ্যাটোনমেন্ট’-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পাওয়া অভিনেতাকে নিজের শৈশবের কাজের পরিবেশ নতুন করে ভাবিয়েছে।
ছবিতে মারিয়া নিষ্ঠাবান শিক্ষক, কিন্তু ড্যানি নামের এক দশ বছর বয়সী ছাত্রের আচরণে তাঁর শ্রেণিকক্ষ প্রায় অচল। দুর্ঘটনা ও আতঙ্কের এক পর্যায়ে শিশুটিকে তিনি নিজের বাড়িতে আটকে রাখেন। ড্যানি না-থাকায় শ্রেণির কাজ আশ্চর্যজনকভাবে ভালো চলতে শুরু করে। ফলে ছবিটি শৃঙ্খলা, প্রতিষ্ঠানের চাপ এবং একজন শিশুকে সমস্যার উৎস হিসেবে বাদ দেওয়ার নৈতিকতা নিয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্ন তোলে।
জনাতান এতসলার পরিচালিত ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন জেস ও’কেন। রোনানের সঙ্গে রয়েছেন নিয়া ব্রাউন, জেকব অ্যান্ডারসন, রাকি আয়োলা, রবার্ট এমস ও শন গিল্ডার। ছবিটি সুইডিশ লেখক রাসমুস লিন্ডগ্রেনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হলেও ঘটনাস্থল ব্রিটিশ শিক্ষাব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয়েছে। বিদ্যালয় পরিদর্শন, ফলের চাপ এবং শ্রেণিকক্ষের আচরণ তাই গল্পের সামাজিক কাঠামো।
রোনান জানিয়েছেন, শিশুশিল্পীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে তিনি বিশেষভাবে সচেতন ছিলেন। তাঁর মতে, অল্পবয়সী অভিনেতারা পেশাদার সেটে এমন প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে কাজ করেন যাঁদের অনেককে তাঁরা আগে চেনেন না। নির্দেশ মানার চাপের মধ্যে কোনও দৃশ্য নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করাও তাঁদের পক্ষে কঠিন হতে পারে।
নিজের প্রাথমিক কর্মজীবনে মায়ের উপস্থিতি এবং দায়িত্বশীল সহকর্মীদের সমর্থন পাওয়াকে রোনান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। ‘অ্যাটোনমেন্ট’-এর পরে ‘ব্রুকলিন’, ‘লেডি বার্ড’ ও ‘লিটল উইমেন’-এর মতো ছবির জন্য তিনি চারবার অস্কার মনোনয়ন পেয়েছেন। তাঁর সফলতা অবশ্য সব শিশুশিল্পীর অভিজ্ঞতার প্রতিনিধিত্ব করে না; পরিবার, কর্মঘণ্টা, শিক্ষা ও মানসিক সহায়তার ব্যবস্থা দেশ ও প্রযোজনা অনুযায়ী বদলায়।
‘ব্যাড অ্যাপলস’-এর বিষয়টি শিশু-সুরক্ষার আলোচনাকে আরও জটিল করে। পর্দায় ড্যানিকে নিয়ন্ত্রণহীন, আক্রমণাত্মক শিশু হিসেবে দেখানো হচ্ছে, অথচ সেটে সেই চরিত্রে অভিনয় করা শিশুকে নিরাপদ রাখা নির্মাতাদের দায়িত্ব। চরিত্রের প্রতি দর্শকের বিরক্তি যেন অভিনয়শিল্পীর দিকে না-যায়, প্রচারেও তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।
চলচ্চিত্রের ব্যঙ্গ বিদ্যালয়ের একটি বাস্তব প্রবণতা স্পর্শ করে: কোনও শ্রেণির কাঠামোগত সমস্যা এক শিশুর উপর চাপিয়ে তাকে সরিয়ে দিলেই পরিবেশ ভালো হবে—এই সহজ সমাধান। ড্যানির পারিবারিক বা মানসিক পটভূমি কতটা দেখানো হয়েছে, সমালোচকদের মধ্যে তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। শুধু শিক্ষিকার সংকট দেখালে শিশুটির মানবিক জটিলতা আড়ালে পড়তে পারে।
বিশ্লেষণ: একজন সাবেক শিশুশিল্পীর এখন শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরির চেষ্টা মূল্যবান, কিন্তু ব্যক্তিগত সদিচ্ছা শিল্পের নিয়মের বিকল্প নয়। নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, অভিভাবক বা স্বাধীন কল্যাণকর্মীর উপস্থিতি, পড়াশোনার সময় এবং ঘনিষ্ঠ বা আতঙ্কজনক দৃশ্যের স্পষ্ট সম্মতি প্রযোজনার বাধ্যতামূলক অংশ হওয়া দরকার।
ছবিটির নৈতিক প্রশ্নও সেটের প্রশ্নটির মতো: ক্ষমতাবান প্রাপ্তবয়স্ক কোনও শিশুকে সমস্যার বদলে মানুষ হিসেবে দেখছেন কি না। রোনানের স্মৃতি প্রচারের আকর্ষণীয় অংশ; আসল পরীক্ষা হল, তাঁর সহশিল্পী শিশুরা কয়েক বছর পরে এই কাজকে নিরাপদ অভিজ্ঞতা হিসেবে মনে রাখতে পারে কি না।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



