‘মৃত’ ছায়াপথে ফিরতে পারে গ্যাস

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: মহাবিশ্বের বয়স যখন মাত্র ১৩০ থেকে ২৩০ কোটি বছর, তখনকার ২৩টি বৃহৎ কিন্তু প্রায় নক্ষত্রহীন ছায়াপথে ঠান্ডা নিরপেক্ষ গ্যাসের বহির্গমন মেপেছেন জেমস ওয়েব…
- একটি ছায়াপথে স্থানীয় মহাবিশ্বের বাইরে এখন পর্যন্ত মাপা সবচেয়ে শক্তিশালী নিরপেক্ষ গ্যাসপ্রবাহ পাওয়া গেছে।
- তবু অধিকাংশ গ্যাস ছায়াপথের আকর্ষণ ছাড়ার মতো দ্রুত নয়।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: মহাবিশ্বের বয়স যখন মাত্র ১৩০ থেকে ২৩০ কোটি বছর, তখনকার ২৩টি বৃহৎ কিন্তু প্রায় নক্ষত্রহীন ছায়াপথে ঠান্ডা নিরপেক্ষ গ্যাসের বহির্গমন মেপেছেন জেমস ওয়েব মহাকাশ দূরবীক্ষণের গবেষকেরা। একটি ছায়াপথে স্থানীয় মহাবিশ্বের বাইরে এখন পর্যন্ত মাপা সবচেয়ে শক্তিশালী নিরপেক্ষ গ্যাসপ্রবাহ পাওয়া গেছে। তবু অধিকাংশ গ্যাস ছায়াপথের আকর্ষণ ছাড়ার মতো দ্রুত নয়।
কোপেনহেগেনের কসমিক ডন সেন্টারের পেংপেই ঝুর নেতৃত্বাধীন গবেষণাটি ১৪ আগস্ট অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স-এ প্রকাশিত হয়; নতুন বিশ্লেষণ ১৬ সেপ্টেম্বর সামনে আসে। ডিপডাইভ কর্মসূচির ছায়াপথগুলির রেডশিফট ২.৮২ থেকে ৪.৬২। এত দূরের আলো আমাদের কাছে পৌঁছতে ১১ থেকে ১৩ বিলিয়ন বছর লেগেছে।
বৃহৎ কৃষ্ণগহ্বরে পদার্থ পড়ার সময় মুক্ত শক্তি ছায়াপথের কেন্দ্র থেকে প্রবল বাতাস চালাতে পারে। এই প্রবাহ নক্ষত্র তৈরির ঠান্ডা গ্যাস গরম বা বাইরে সরিয়ে নতুন নক্ষত্রের জন্ম বন্ধ করতে পারে—এটিই ‘কোয়েঞ্চিং’-এর একটি প্রধান ব্যাখ্যা। এত দিন দূরের ছায়াপথে গবেষণা বেশি হয়েছে উত্তপ্ত আয়নিত গ্যাস নিয়ে।
নিরপেক্ষ ঠান্ডা গ্যাসের ভর অনেক বেশি হতে পারে। গবেষকেরা সোডিয়ামের Na I D দ্বৈত শোষণরেখা ব্যবহার করেছেন। প্রথমে ছায়াপথের তারাদের নিজস্ব সোডিয়াম-শোষণ মডেল দিয়ে বাদ দিতে হয়েছে। তারপর হাজার হাজার কৃত্রিম শব্দযুক্ত পরীক্ষা চালিয়ে বাড়তি সংকেতটি বাস্তব কি না দেখা হয়েছে।
২৩টির মধ্যে ১৩টি ছায়াপথে বাড়তি সোডিয়াম-শোষণ পাওয়া গেছে; সাতটিতে রেখা নীলের দিকে সরেছে, অর্থাৎ গ্যাস দর্শকের দিকে এবং ছায়াপথ থেকে বাইরে আসছে। যেসব ছায়াপথে নিরপেক্ষ ও আয়নিত—দুই প্রবাহই মাপা যায়, সেখানে নিরপেক্ষ গ্যাসের বহির্গমনের হার আয়নিত অংশের তুলনায় ১০ থেকে ১০০ গুণ বেশি হতে পারে।
প্রতিটি শনাক্ত ছায়াপথে গ্যাস বেরোনোর হার বর্তমান নক্ষত্র-জন্মের হারের চেয়ে বেশি। কিন্তু বহির্গমনের গতি ছায়াপথের মুক্তিবেগের সঙ্গে তুলনা করে দেখা গেছে, অধিকাংশ গ্যাস স্থায়ীভাবে পালাতে পারবে না। কয়েক মিলিয়ন থেকে কয়েকশো মিলিয়ন বছর পরে ঝরনার জলের মতো ফিরে আসতে পারে। তখন নক্ষত্র তৈরি আবার শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।
বিশ্লেষণ: ‘মৃত ছায়াপথ’ আসলে সুবিধাজনক নাম; সেখানে নক্ষত্র-জন্ম খুব কম, একেবারে শূন্য নাও হতে পারে। ২৩টির ছোট নমুনা এবং শোষণরেখা দেখার জন্য নির্দিষ্ট দৃষ্টিকোণের প্রয়োজন ফলকে সীমিত করে। সোডিয়াম-ভিত্তিক ভর নির্ধারণেও আয়নন, ধুলো ও জ্যামিতির অনুমান আছে। গবেষণাটি কৃষ্ণগহ্বরের বাতাস গুরুত্বহীন বলছে না; বরং একবার গ্যাস ছুড়ে দিলেই ছায়াপথ চিরতরে নিভে যায়—এই সরল ধারণাকে প্রশ্ন করছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



