প্রতি টন কার্বনে ৪১ ডলার শ্রমক্ষতি

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: ২০২৫ সালে নিঃসৃত প্রতিটি অতিরিক্ত টন কার্বন ডাই-অক্সাইড ভবিষ্যৎ তাপজনিত শ্রম-উৎপাদন কমিয়ে প্রায় ৪১ ডলারের সমপরিমাণ ক্ষতি করতে পারে।
- ১৬ সেপ্টেম্বর নেচার ক্লাইমেট চেঞ্জ-এ প্রকাশিত ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ডেভিসের নেতৃত্বাধীন গবেষণায় এই হিসাব দেওয়া হয়েছে।
- ভারত, পাকিস্তান, চীন, নাইজেরিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও সাহারার দক্ষিণের ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: ২০২৫ সালে নিঃসৃত প্রতিটি অতিরিক্ত টন কার্বন ডাই-অক্সাইড ভবিষ্যৎ তাপজনিত শ্রম-উৎপাদন কমিয়ে প্রায় ৪১ ডলারের সমপরিমাণ ক্ষতি করতে পারে। ১৬ সেপ্টেম্বর নেচার ক্লাইমেট চেঞ্জ-এ প্রকাশিত ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ডেভিসের নেতৃত্বাধীন গবেষণায় এই হিসাব দেওয়া হয়েছে। ভারত, পাকিস্তান, চীন, নাইজেরিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও সাহারার দক্ষিণের ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।
গবেষকেরা ‘ওয়েট-বাল্ব গ্লোব টেম্পারেচার’ ব্যবহার করেছেন। সাধারণ তাপমাত্রার সঙ্গে আর্দ্রতা, বাতাস ও সূর্যের বিকিরণ মিলিয়ে মানুষের শরীর কত সহজে তাপ ছাড়তে পারে, এই সূচক তা বোঝায়। একই তাপমাত্রায় শুষ্ক ও বাতাসযুক্ত জায়গার তুলনায় আর্দ্র, নিশ্চল পরিবেশে শরীরের ঝুঁকি বেশি হতে পারে।
এর সঙ্গে অঞ্চল ও পেশাভিত্তিক কাজের তীব্রতা, বাইরে থাকার সময় এবং শীতাতপনিয়ন্ত্রণের সুযোগ মিলিয়ে ভবিষ্যৎ শ্রমঘণ্টার ক্ষতি হিসাব করা হয়েছে। কৃষি ও নির্মাণকর্মীরা তীব্র শারীরিক শ্রম এবং খোলা জায়গায় কাজের কারণে সবচেয়ে বেশি উন্মুক্ত। কারখানা, রান্নাঘর বা গুদামের মতো শীতাতপনিয়ন্ত্রণহীন ঘরের কর্মীরাও নিরাপদ নন।
৩৩টি দেশে বাড়িতে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবহারের তথ্য নিয়ে গবেষকেরা দেখেছেন, দক্ষিণ সুদানে হার প্রায় শূন্য থেকে জাপানে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত। তবে শীতাতপনিয়ন্ত্রণকে একমাত্র সমাধান ধরা যায় না। বিদ্যুতের খরচ, গ্রিডের ক্ষমতা এবং ব্যবহৃত শক্তির উৎস অনুসারে বেশি যন্ত্র নিজেই নিঃসরণ ও অসাম্য বাড়াতে পারে।
গবেষণাটি সব ধরনের ক্ষতি মিলিয়ে প্রতি টন কার্বনের সামাজিক ব্যয় প্রায় ২০০ ডলার সমর্থন করে, যা মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার ২০২৩ সালের হিসাবের কাছাকাছি। নতুন কাঠামোয় তাপজনিত মৃত্যুর পরেই শ্রমক্ষতি দ্বিতীয় বৃহত্তম উপাদান। এই অঙ্ক কর, বিদ্যুৎকেন্দ্র, পরিকাঠামো বা নিঃসরণ কমানোর প্রকল্পের ব্যয়–সুফল বিশ্লেষণে প্রভাব ফেলতে পারে।
ভারতের ক্ষেত্রে জাতীয় গড় যথেষ্ট নয়। আর্দ্র উপকূল, গাঙ্গেয় সমভূমি, শুষ্ক পশ্চিমাঞ্চল এবং পাহাড়ের তাপঝুঁকি আলাদা। একই রাজ্যে কৃষিশ্রমিক, রাস্তার বিক্রেতা ও শীতাতপনিয়ন্ত্রিত দপ্তরের কর্মীর ক্ষতি এক নয়। অনানুষ্ঠানিক শ্রমের আয়, কাজ থামানোর বাস্তব সামর্থ্য এবং নারী শ্রমিকের অদৃশ্য ঘরোয়া কাজ সম্পূর্ণ ধরা না পড়লে ক্ষতি কম দেখাতে পারে।
বিশ্লেষণ: প্রতি টনে ৪১ ডলার কোনও কারখানাকে পাঠানো তাত্ক্ষণিক বিল নয়; জলবায়ু, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ আয়ের বহু অনুমাননির্ভর মডেল। ছাড়ের হার, অভিযোজন এবং ভবিষ্যৎ মজুরি বদলালে অঙ্কও বদলাবে। তবু শূন্য ক্ষতির ধারণা গবেষণাটি প্রত্যাখ্যান করে। ছায়া, পানীয় জল, বাধ্যতামূলক বিরতি, শীতল বিশ্রামস্থান ও ভোর–সন্ধ্যায় কাজ সরানোকে উৎপাদনবিরোধী ব্যয় নয়, শ্রম ও অর্থনীতি রক্ষার বিনিয়োগ হিসেবে দেখা জরুরি।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



