‘কাট-পেস্ট’ করে চলাচল নিয়ন্ত্রণ, বিহারের দুই নাগরিককে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

যা জানা জরুরি
- দুই ব্যক্তির নাম বদলে প্রায় একই ভাষায় প্রশাসনিক নির্দেশ তৈরি করেছিল নালন্দা জেলা প্রশাসন।
- সেই ‘কাট-পেস্ট’ পদ্ধতিতে নাগরিকের চলাফেরার স্বাধীনতা সীমিত করায় বিহার সরকারকে প্রত্যেককে এক লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বলেছে পাটনা হাই কোর্ট।
- দায়ী আধিকারিকদের শুনানি দিয়ে সরকারের ক্ষতিপূরণের টাকা তাঁদের কাছ থেকে আদায়ের সুযোগও রেখেছে আদালত।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
দুই ব্যক্তির নাম বদলে প্রায় একই ভাষায় প্রশাসনিক নির্দেশ তৈরি করেছিল নালন্দা জেলা প্রশাসন। সেই ‘কাট-পেস্ট’ পদ্ধতিতে নাগরিকের চলাফেরার স্বাধীনতা সীমিত করায় বিহার সরকারকে প্রত্যেককে এক লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বলেছে পাটনা হাই কোর্ট। আরও দশ হাজার টাকা করে মামলার খরচ দিতে হবে। দায়ী আধিকারিকদের শুনানি দিয়ে সরকারের ক্ষতিপূরণের টাকা তাঁদের কাছ থেকে আদায়ের সুযোগও রেখেছে আদালত।
বিচারপতি রাজীবরঞ্জন প্রসাদ ও বিচারপতি সুনীল দত্ত মিশ্রের বেঞ্চ ১১ সেপ্টেম্বর রায় দেয়; ১৫ সেপ্টেম্বর তা প্রকাশ্যে আসে। আবেদনকারী শশী কুমার ওরফে ফুকন এবং অজয় সিংয়ের বিরুদ্ধে বিহার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০২৪ প্রয়োগ করে তাঁদের চলাচলে বিধিনিষেধ জারি করেছিলেন নালন্দার জেলাশাসক।
দু’জনকে প্রতি সোম, বুধ ও শুক্রবার প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের সিলাও থানায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল। থানার এলাকার বাইরে যেতে হলে কারণ ও সম্ভাব্য সময় জানানোও বাধ্যতামূলক ছিল। অথচ তাঁদের বিরুদ্ধে সিলাও থানায় কোনও মামলা ছিল না। কেন ওই থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সরকারের হলফনামাতেও তার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
প্রশাসন দাবি করেছিল, দু’জন অভ্যাসগত অপরাধী এবং তাঁদের উপস্থিতিতে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা ছিল। আবেদনকারীদের বক্তব্য, গ্রামের রাজনীতির কারণে তাঁদের মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে; মামলাগুলিতে তাঁরা জামিনে আছেন এবং বিচার মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। কোনও অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বদলে সন্দেহের ভিত্তিতে তাঁদের মৌলিক স্বাধীনতা সীমিত করা হয়েছিল।
আইনে ‘সমাজবিরোধী ব্যক্তি’ ঘোষণার জন্য নির্দিষ্ট আগের ২৪ মাসে অন্তত দুটি প্রাসঙ্গিক মামলায় আদালতে পুলিশি প্রতিবেদন জমা থাকার শর্ত ছিল। আদালত দেখে, সংশ্লিষ্ট সময়ে মাত্র একটি অভিযোগপত্রের উল্লেখ রয়েছে। পুলিশি সাধারণ ডায়েরির অভিযোগ সত্য কি না, তার যাচাই-প্রতিবেদনও পাওয়া যায়নি।
জেলাশাসকের আদেশে আবেদনকারীদের জবাবের উল্লেখ থাকলেও তা নিয়ে পৃথক বিচার ছিল না। দুই নির্দেশের ভাষা ও যুক্তির প্রায় হুবহু মিল দেখে বেঞ্চ বলে, বিচারবুদ্ধি প্রয়োগের বদলে কাট-পেস্ট করা হয়েছে। আদালত ‘আইনশৃঙ্খলার সমস্যা’ এবং ‘জনশৃঙ্খলার বিপদ’-এর পার্থক্যও মনে করিয়ে দিয়েছে। প্রত্যেক আইনভঙ্গ গোটা সমাজের শান্তি বিপন্ন করে না।
বিধিনিষেধের সময়টি ছিল ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচন ও ছট উৎসবের আশপাশে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কাউকে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে তাড়াহুড়ো করে এমন পুলিশি ব্যবস্থা নিলে প্রশাসনেরই বদনাম হয়। দু’জনকে তিন মাস বিধিনিষেধ সহ্য করতে হয়েছে।
বিশ্লেষণ: প্রতিরোধমূলক ক্ষমতার বিপদ এখানেই—শাস্তি বিচার শেষে নয়, সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ আচরণের অনুমানের ভিত্তিতে আসে। তাই প্রতিটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য কারণ লেখা অত্যাবশ্যক। ক্ষতিপূরণ এই মামলার দুই আবেদনকারীকে স্বীকৃতি দিলেও একই ধরনের অন্য আদেশের নিরীক্ষা দরকার। প্রশাসনিক লেখায় নাম পাল্টালেই আইনি যুক্তি ব্যক্তিনির্দিষ্ট হয় না; স্বাধীনতা সীমিত করতে কর্তৃপক্ষকে নিজের সিদ্ধান্ত নিজেকেই ভাবতে হবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



