International

ব্রিটেন ছাড়ার ভোট, নজর কাড়ার ছক

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • অক্সফোর্ডশায়ারের পিডিংটন গ্রাম সত্যিই ব্রিটেন থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে না।
  • সীমান্তরক্ষী বাহিনী গঠনের পরিকল্পনাও নেই, নতুন মুদ্রা ছাপার উদ্যোগও হয়নি।
  • তবু ১৫ সেপ্টেম্বরের প্রতীকী গণভোটে ৩১২টি ভোটের মধ্যে ২৮৫টি পড়েছে যুক্তরাজ্য ছাড়ার পক্ষে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

অক্সফোর্ডশায়ারের পিডিংটন গ্রাম সত্যিই ব্রিটেন থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে না। সীমান্তরক্ষী বাহিনী গঠনের পরিকল্পনাও নেই, নতুন মুদ্রা ছাপার উদ্যোগও হয়নি। তবু ১৫ সেপ্টেম্বরের প্রতীকী গণভোটে ৩১২টি ভোটের মধ্যে ২৮৫টি পড়েছে যুক্তরাজ্য ছাড়ার পক্ষে। বিপক্ষে ভোট ২৬টি, বাতিল হয়েছে একটি। প্রায় ৩৫০ বাসিন্দার গ্রামের এই অংশগ্রহণ তাই নিছক রসিকতা বলে উড়িয়ে দেওয়া কঠিন।

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে কাছাকাছি একটি প্রাক্তন প্রতিরক্ষা স্থাপনায় ১,২০০ থেকে ১,২৫০ জন পুরুষ আশ্রয়প্রার্থীকে রাখার সম্ভাবনা। সংখ্যাটি গ্রামের জনসংখ্যার তিন গুণেরও বেশি। স্থানীয়দের অভিযোগ, এত বড় কেন্দ্র চালানোর মতো জল, নিকাশি, বিদ্যুৎ, পরিবহণ, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও নিরাপত্তার পরিকাঠামো এলাকায় নেই। সরকারি সিদ্ধান্তের আগে পর্যাপ্ত আলোচনা হয়নি বলেও তাঁদের আপত্তি।

ভোটে স্বাধীনতা, লক্ষ্যে চাপ

প্রতীকী ভোটটির কোনও সাংবিধানিক ক্ষমতা নেই। ইংল্যান্ডের কোনও গ্রামের একতরফা বিচ্ছিন্ন হওয়ার ব্যবস্থা নেই। ভোটের ফল জমি ব্যবহারের সরকারি সিদ্ধান্তও বাতিল করতে পারে না। স্থানীয় নেতৃত্ব মজার ছলে এলাকাটিকে ‘প্রিন্সিপ্যালিটি অব পিডিংটন’ বলছে। কিন্তু ‘দেশত্যাগ’-এর ভাষা ব্যবহার করে জাতীয় সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়ার চেষ্টা স্পষ্ট।

অন্যদিকে, আশ্রয়প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনায় সতর্ক থাকা জরুরি। তাঁরা কোনও অভিন্ন গোষ্ঠী নন এবং প্রত্যেকের দাবি আলাদাভাবে বিচারাধীন। অপরাধ করেছেন—এমন পূর্বধারণা তাঁদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায় না। উদ্বাস্তু সহায়তা সংগঠনগুলির বক্তব্য, বিচ্ছিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিপুলসংখ্যক মানুষকে রাখা স্থানীয় সমাজ এবং আশ্রয়প্রার্থী—দুই পক্ষের জন্যই সমস্যাজনক হতে পারে।

অক্সফোর্ডশায়ার কাউন্টি কাউন্সিলের নেতা টিম বিয়ার্ডারও স্থানটির উপযুক্ততা ও সরকারের যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের যুক্তি, ব্যয়বহুল হোটেলের বদলে বড় স্বনির্ভর কেন্দ্র ব্যবহার করলে খরচ কমবে। তবে সাশ্রয়ের পরিমাণ, পরিকাঠামো তৈরির ব্যয় এবং সর্বোচ্চ বাসিন্দার সংখ্যা এখনও চূড়ান্ত ভাবে প্রকাশিত হয়নি।

পিডিংটনের ভোট আইনি বিচ্ছেদের পথ নয়, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রচারের হাতিয়ার। তবে প্রতিবাদের বৈধতা কোনও মানুষের বিরুদ্ধে অপ্রমাণিত ভয় ছড়ানোর অনুমতি দেয় না। সরকারের দায়িত্ব শুধু ভোটকে আইনত অর্থহীন বলা নয়; স্থানীয় উদ্বেগ, পরিষেবার চাপ এবং আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকার—সবকিছুর স্বচ্ছ মূল্যায়ন করা।


আফ্রিকা বড়, মানচিত্রের ভুল

শ্রেণিকক্ষের পরিচিত বিশ্বমানচিত্রে গ্রিনল্যান্ডকে প্রায় আফ্রিকার সমান মনে হয়। বাস্তবে আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ১৪ গুণ বড়। গোল পৃথিবীকে সমতল কাগজে দেখানোর জন্য ব্যবহৃত অভিক্ষেপের কারণেই এই অমিল। ৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৬৪ দেশের সমর্থনে ‘ইকুয়াল আর্থ’ অভিক্ষেপের ব্যবহার বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

টোগোর নেতৃত্বে আনা প্রস্তাবে ছয় দেশ ভোটদানে বিরত ছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র বিপক্ষে ভোট দেয়। সিদ্ধান্তটি বাধ্যতামূলক নয়, মার্কেটর মানচিত্র নিষিদ্ধও করছে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংবাদমাধ্যম, সরকারি দপ্তর ও প্রযুক্তি সংস্থাকে ভূমির প্রকৃত আয়তনের অনুপাত দেখানো মানচিত্র ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়াই লক্ষ্য।

পৃথিবী গোল, মানচিত্র সমতল

জেরার্ডাস মার্কেটর ১৫৬৯ সালে নৌযাত্রার সুবিধার জন্য তাঁর অভিক্ষেপ তৈরি করেছিলেন। এতে নির্দিষ্ট দিকের রেখা সোজা থাকে, ফলে কম্পাসের পথ আঁকা সহজ হয়। কিন্তু বিষুবরেখা থেকে দূরে গেলে ভূমির দৃশ্যমান আয়তন ক্রমে বেড়ে যায়। তাই গ্রিনল্যান্ড, রাশিয়া ও উত্তর আমেরিকা প্রকৃত অনুপাতের তুলনায় বড় দেখায়; আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা ছোট হয়ে যায়।

২০১৮ সালে টম প্যাটারসন, বোজান সাভরিচ ও বার্নহার্ড জেনি ‘ইকুয়াল আর্থ’ তৈরি করেন। এতে মহাদেশগুলির আয়তনের পারস্পরিক অনুপাত বজায় থাকে। তবে এটিও নিখুঁত গোলকের প্রতিলিপি নয়। সমতল মানচিত্রে একই সঙ্গে আয়তন, দূরত্ব, দিক ও আকৃতি পুরোপুরি ঠিক রাখা সম্ভব নয়। কাজ অনুযায়ী অভিক্ষেপ বেছে নিতে হয়।

প্রস্তাবের সমর্থকেরা বিষয়টিকে শুধু জ্যামিতি হিসেবে দেখছেন না। তাঁদের যুক্তি, বহু প্রজন্ম ধরে ছোট দেখানো আফ্রিকা মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কল্পনাতেও ছোট হয়ে যায়। টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ডুসে বলেছেন, ন্যায্য পৃথিবী ন্যায্য মানচিত্র দিয়ে শুরু হতে পারে।

তবে মানচিত্র বদলালেই সীমান্ত বা সার্বভৌমত্ব বদলায় না। কোনও ভূখণ্ডের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও বিতর্ক থাকতে পারে। ডিজিটাল মানচিত্রে আবার ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা অভিক্ষেপ কার্যকর হতে পারে।

নতুন মানচিত্র পুরনোটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা করে না। বরং শেখায়, প্রত্যেক মানচিত্রই নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে তৈরি। আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন বোঝানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অভিক্ষেপের সুবিধা ও সীমাবদ্ধতাও শেখানো জরুরি।


বার্নিং ম্যানের বয়স চল্লিশ!

১৯৮৬ সালে সান ফ্রান্সিসকোর বেকার বিচে হাতে গোনা কয়েকজন একটি কাঠের মানুষ পুড়িয়েছিলেন। চার দশক পরে সেই ছোট সমাবেশ নেভাদার ব্ল্যাক রক মরুভূমিতে প্রায় ৮০ হাজার মানুষের অস্থায়ী নগরে পরিণত হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩০ আগস্ট থেকে ৭ সেপ্টেম্বরের আয়োজনটি তাই নিজের চল্লিশতম বছরে এসে একটি পুরনো প্রশ্নের মুখোমুখি: শুরুর বিদ্রোহী আদর্শ কতটা টিকে আছে?

আয়োজকেরা এটিকে উৎসবের বদলে অংশগ্রহণকারীদের তৈরি অস্থায়ী শহর হিসেবে বর্ণনা করেন। এখানে সাধারণ দোকান নেই। উপহারভিত্তিক বিনিময়, শিল্পকর্ম নির্মাণ, স্বনির্ভরতা এবং শেষে নিজের বর্জ্য নিজে সরানোর নীতি রয়েছে। কিন্তু প্রবেশের প্রাথমিক টিকিট প্রায় ৫৫০ ডলার থেকে শুরু। সীমিত উচ্চমূল্যের টিকিট তিন হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। যাতায়াত, খাবার, জল ও আশ্রয়ের খরচ আলাদা।

বিদ্রোহে এবার বাজেটও আছে

২০২৫ সালের অংশগ্রহণকারী-সমীক্ষা অনুযায়ী, চল্লিশ ও পঞ্চাশের কোঠার মানুষ মিলে উপস্থিতির প্রায় ৪২ শতাংশ। বিশের কোঠার অংশ প্রায় ১০ শতাংশে নেমেছে। একসময়ের তরুণ শিল্পী ও বিকল্প সংস্কৃতির অনুগামীদের আয়োজনটি এখন তার প্রতিষ্ঠাতা প্রজন্মের সঙ্গেই বয়স বাড়াচ্ছে।

বয়স নিজে সমস্যা নয়। পুরনো অংশগ্রহণকারীদের অনেকে শিল্প, নির্মাণ ও স্বেচ্ছাসেবার অভিজ্ঞতা নিয়ে ফেরেন। কিন্তু অর্থবান অতিথিদের জন্য শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাসস্থান, পরিবহণ ও কর্মী-নির্ভর পরিষেবা কেনার সুযোগ থাকলে ‘সবার অংশগ্রহণ’ নীতি প্রশ্নের মুখে পড়ে।

এ বছরের তিন অংশগ্রহণকারীর মৃত্যু—তিনজনই পঞ্চাশোর্ধ্ব পুরুষ—স্বাস্থ্য ও বয়স নিয়ে আলোচনা বাড়িয়েছে। ব্যক্তিগত মৃত্যুর কারণ এক নয় এবং বয়সের তথ্য দিয়ে উৎসবকে দায়ী করা যায় না। তবে প্রচণ্ড গরম, ধুলো, ঘুমের অভাব, পানিশূন্যতা ও দূরবর্তী চিকিৎসার ঝুঁকি বাস্তব।

বার্নিং ম্যানের সংকট শুধু বয়সের নয়, প্রবেশাধিকারেরও। কম খরচে অংশগ্রহণের সুযোগ, শিল্পীদের সহায়তা, স্বচ্ছ অর্থনীতি এবং কাজের ন্যায্য ভাগ—এসবই আয়োজনটির প্রাথমিক আদর্শকে নতুন করে পরীক্ষা করতে পারে। চল্লিশে পৌঁছে আগুন জ্বলছে, প্রশ্ন হল তার পাশে কারা জায়গা পাচ্ছেন।


র‍্যাম্পে প্রতিবাদ, মঞ্চে ক্ষমা

নিউইয়র্ক ফ্যাশন সপ্তাহের র‌্যাম্পে উলের ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে ঢুকেছিলেন দুই প্রাণী-অধিকারকর্মী। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে পোশাক প্রদর্শনী বদলে যায় প্রতিবাদ সামলানোর পদ্ধতি নিয়ে বিতর্কে। ভিডিওতে কাউন্সিল অব ফ্যাশন ডিজাইনার্স অব আমেরিকার প্রধান নির্বাহী স্টিভেন কোল্বকে একজন কর্মীকে ধরে নামানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়।

ঘটনাটি ঘটে ১৩ সেপ্টেম্বর এইচঅ্যান্ডএমের মালিকানাধীন কস-এর প্রদর্শনীতে। প্রকাশিত ভিডিওতে কোল্বকে একজন প্রতিবাদকারীকে টেনে নামানো এবং আটকে রাখার চেষ্টা করতে দেখা যায়। নিরাপত্তাকর্মীরা উপস্থিত থাকলেও তিনি নিজে হস্তক্ষেপ করেন।

সমালোচনার পরে কোল্ব ক্ষমা চান এবং স্বেচ্ছায় ছুটিতে যান। সিএফডিএ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণ পর্যালোচনা হবে। তাঁর বক্তব্য, পরিস্থিতি নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল।

উলের বিরুদ্ধে লড়াই

পেটা প্রথমে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের কথা বিবেচনা করেছিল। পরে আইনি পরামর্শের ভিত্তিতে আলোচনাকে অগ্রাধিকার দেয়। ১৬ সেপ্টেম্বর সংগঠনটি জানায়, কোল্ব তাদের সঙ্গে সাক্ষাতে সম্মত হয়েছেন, যদিও দিন স্থির হয়নি।

পেটা উল উৎপাদনে ভেড়ার সঙ্গে আচরণ নিয়ে নিজেদের তদন্তের ভিডিও দেখাতে চায়। তবে সংগঠনটির অভিযোগ স্বাধীন ভাবে যাচাই না করে গোটা শিল্পের উপর প্রয়োগ করা যায় না। অন্যদিকে, এইচঅ্যান্ডএম জানিয়েছে, তারা প্রত্যয়িত বা পুনর্ব্যবহৃত প্রাণীজ তন্তু ব্যবহারের চেষ্টা করে।

‘দায়িত্বশীল উল’ মানদণ্ডে পশুকল্যাণ, জমি ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহশৃঙ্খল অনুসরণের নিয়ম রয়েছে। সমালোচকদের মতে, প্রত্যয়ন বাস্তব খামারে দুর্ব্যবহারের সম্ভাবনা শূন্য করে না। উৎপাদকদের পাল্টা যুক্তি, সব উলকে একই মানে নিষ্ঠুর বলা বিভিন্ন খামার ও মানদণ্ডের পার্থক্য মুছে দেয়।

এই ঘটনায় প্রতিবাদ ও নিরাপত্তা—দুই প্রশ্নই সামনে এসেছে। অনধিকার প্রবেশ সামলানোর দায়িত্ব নিরাপত্তাকর্মীদের, কিন্তু তা অনিয়ন্ত্রিত বলপ্রয়োগকে স্বয়ংক্রিয় ভাবে বৈধ করে না। আলোচনার ফল নির্ভর করবে নিরাপত্তা-প্রশিক্ষণ, প্রতিবাদের সীমা এবং পোশাকের কাঁচামালের উৎস সম্পর্কে যাচাইযোগ্য তথ্যের উপর।


সঙ্গীর খোঁজে ৪ হাজার কিমি!

তিন ভাই একসঙ্গে নিজেদের দল ছেড়ে বেরিয়েছিল সঙ্গী খুঁজতে। আট মাস পরে তাদের যাত্রাপথ দাঁড়ায় ৪,১২৬ কিলোমিটার। আফ্রিকান বুনো কুকুরের এই বিচরণ নথিবদ্ধ দীর্ঘতম যাত্রাগুলির অন্যতম। জাম্বিয়ার সংরক্ষিত বনেই তারা আটকে থাকেনি; নদী, পাহাড়ি ঢাল, সড়ক ও মানুষের বসতি পেরিয়েছে।

১৫ সেপ্টেম্বর ইকোলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় জাম্বিয়ান কার্নিভোর প্রোগ্রামের বিজ্ঞানীরা চারটি বিচ্ছিন্ন দলকে জিপিএস কলারের মাধ্যমে অনুসরণ করেছেন। দলগুলির মিলিত যাত্রা প্রায় ৯,৮৬৩ কিলোমিটার। প্রাণীগুলি সরলরেখায় এগোয়নি; নিরাপদ পথ, শিকার, মানুষের উপস্থিতি এড়ানো এবং সম্ভাব্য সঙ্গীর গন্ধ অনুসরণে তাদের চলার পথ বারবার বদলেছে।

বনের বাইরে বিপদ

আফ্রিকান বুনো কুকুরের দলে সাধারণত একটি প্রজননক্ষম জুটি থাকে। বড় হয়ে ওঠা কিছু সদস্য আত্মীয়ের সঙ্গে প্রজনন এড়াতে দল ছাড়ে এবং দূরের দলের বিপরীত লিঙ্গের প্রাণীর সন্ধান করে। নতুন গবেষণা দেখাচ্ছে, আলাদা মনে হওয়া জনসংখ্যার মধ্যে জিনগত যোগাযোগের জন্য তারা ধারণার চেয়েও অনেক দূরে যেতে পারে।

তবে যাত্রা নিরাপদ ছিল না। একটি দল ঝোপের মাংস ধরার তারের ফাঁদে সদস্য হারায়। অন্যত্র রাস্তা, কৃষিজমি, গবাদি পশুর এলাকা ও জনবসতি পার হতে হয়েছে। গবাদি পশু হারানোর আশঙ্কায় স্থানীয় মানুষ তাদের মেরে ফেলতে পারেন। জলাতঙ্ক ও অন্যান্য কুকুরজাতীয় রোগও ছোট জনসংখ্যাকে বিপদে ফেলতে পারে।

বিশ্বে প্রাপ্তবয়স্ক আফ্রিকান বুনো কুকুরের আনুমানিক সংখ্যা প্রায় ৬,৬০০, ছড়িয়ে আছে ৩৯টি জনসংখ্যায়। সংখ্যা পরিবর্তনশীল এবং চারটি দলের আচরণ গোটা প্রজাতির প্রতিনিধিত্ব করে না। তবু এত দীর্ঘ যাত্রা দেখিয়ে দেয়, সংরক্ষণ শুধু একটি উদ্যানের সীমানায় আটকে থাকলে চলবে না।

বুনো কুকুরের মানচিত্রে দেশের সীমান্ত নেই, মানুষের সংরক্ষণনীতিতে আছে। বন্যপ্রাণী করিডর, রাস্তা পারাপারের ব্যবস্থা, ফাঁদ সরানো এবং স্থানীয় পশুপালকদের সহায়তা—এসবই তাদের চলাচল নিরাপদ করতে গুরুত্বপূর্ণ।


রোমে নয়, সব রাস্তা ঘুরত!

‘সব রাস্তা রোমে যায়’—প্রবাদটি সাম্রাজ্যের ক্ষমতা বোঝায়, কিন্তু প্রাচীন যাতায়াতের পূর্ণ মানচিত্র নয়। প্রায় তিন লক্ষ কিলোমিটার রোমান সড়ক একত্র করে তৈরি নতুন ডিজিটাল মানচিত্র দেখিয়েছে, আনসাইরা, করিন্থ, অ্যান্টিয়ক ও বাইজান্টিয়ামের মতো শহরও অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকেন্দ্র ছিল।

আরহুস বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে ‘ইতিনের-ই’ প্রকল্পের গবেষণাটি ১৫ সেপ্টেম্বর নেচার কমিউনিকেশনস-এ প্রকাশিত হয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিক নথি, ঐতিহাসিক মানচিত্র, ভূসংস্থান, উপগ্রহচিত্র এবং আগের পথতালিকা মিলিয়ে গবেষকেরা প্রায় ২,৯৯,১৭১ কিলোমিটার সড়ক নথিভুক্ত করেছেন। আগের বহুল ব্যবহৃত মানচিত্রগুলির তুলনায় এতে এক লক্ষ কিলোমিটারের বেশি পথ যোগ হয়েছে।

সাম্রাজ্যের আসল নেটওয়ার্ক

রোমান সড়কের পরিচিত ছবি একেবারে সোজা পাথুরে পথ। বাস্তবে প্রকৌশলীরা সামরিক দ্রুততা, গাড়ি ও পশুর চলাচল, জলনিকাশ এবং নির্মাণব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখতেন। সমতল এলাকায় পথ তুলনায় সরল হলেও পাহাড়ে ঢাল কম রাখতে বাঁক নিতে হয়েছে।

সড়কগুলি শুধু সৈন্য পরিবহণের জন্য ছিল না। কর, চিঠি, নির্মাণসামগ্রী, ব্যবসা, ধর্মীয় ধারণা এবং রোগও এই পথ ধরে চলত। কোনও শহরের গুরুত্ব নির্ভর করত কতগুলি অঞ্চলের যাত্রাপথ সেখানে মিলেছে, তার উপর।

রোমের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হলেও উত্তর ইউরোপ থেকে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে যাত্রার ক্ষেত্রে অনেক স্থলপথে ঘুরতে হত। আবার সমুদ্র ও নদীপথ যোগ করলে বন্দরনগরী হিসেবে রোমের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়। তাই নতুন মানচিত্র রোমের সামগ্রিক গুরুত্ব অস্বীকার করে না; বরং সাম্রাজ্যের যোগাযোগব্যবস্থার বহুকেন্দ্রিক চরিত্র দেখায়।

রোমান সাম্রাজ্যের শক্তি ছিল একটি রাজধানীমুখী রাস্তা নয়, বিশাল সড়কজাল। তবে সব নথিভুক্ত পথের অবস্থান ও তারিখ সমান নিশ্চিত নয়। ডিজিটাল মানচিত্রে প্রমাণের স্তর আলাদা করে দেখানোই গবেষণার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ কাজ।


নয় দিন অন্ধকারে, শেষে ঘরে ফেরা

সঞ্জয় সাহ অন্ধকারে আটকে ছিলেন। খাবার ছিল না, বাইরে বেরোনোর পথও জানা ছিল না। নেপালের আপার ত্রিশূলী ৩এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে আটকা পড়ে তিনি বন্যার জল ও পাহাড়ের ফাটল দিয়ে নামা জল পান করে বেঁচে ছিলেন।

৩০ বছর বয়সী সাহ কেন্দ্রটির যান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক। ২৬ আগস্ট নেপাল–তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমবাহ ধসে জল, কাদা ও পাথর নেমে এসে বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত করে। কর্মীদের সরে যেতে বলা হলেও তিনি সুড়ঙ্গে আটকা পড়েন। সঙ্গে থাকা কবির মহার্জন পরে উদ্ধার হন, তবে গুরুতর আঘাতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।

অন্ধকারে আশার আলো

সাহ জানিয়েছেন, প্রথম দিকে দ্রুত উদ্ধার হওয়ার আশা করেছিলেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সেই নিশ্চয়তা কমে যায়। অযথা চলাফেরা করলে ধ্বংসস্তূপে আরও আটকে পড়ার আশঙ্কা ছিল। তাই তুলনায় নিরাপদ মনে হওয়া জায়গাতেই থেকেছেন। কৃষ্ণভক্ত সাহ মানসিক স্থিরতা বজায় রাখতে মহামন্ত্র জপ করেছেন।

বাইরের যন্ত্র ও উদ্ধারকারীদের শব্দ শোনার পরে তাঁর আশা ফেরে। নয় দিন পর তাঁকে উদ্ধার করা হয়। জন্মাষ্টমীর সময় উদ্ধার হওয়ায় পরিবার ও গ্রামের মানুষের কাছে ঘটনাটি বিশেষ তাৎপর্য পায়। চিকিৎসার জন্য আরও প্রায় এক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকার পরে তিনি তিলাঠী কৈলাদি গ্রামের বাড়িতে ফেরেন।

১৩ সেপ্টেম্বর পরিবার ও প্রতিবেশীরা স্থানীয় আচার মেনে তাঁকে স্বাগত জানান। কিন্তু এই আনন্দের পাশে নিখোঁজ মানুষদের পরিবারের অপেক্ষাও রয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি হিসাবে অন্তত ১,৩৯৯ জনের মৃত্যু এবং প্রায় ৫,২০০ জনের নিখোঁজ থাকার কথা জানানো হয়েছে। ১,২০৬টি অশনাক্ত দেহের মধ্যে মাত্র ১০৫টির পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছিল।

সঞ্জয়ের ফিরে আসা আশার খবর, কিন্তু দুর্যোগের হিসাব এখনও অসম্পূর্ণ। উদ্ধারকাজ, অশনাক্ত দেহের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং পাহাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগাম সতর্কতা—এই তিন ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ জরুরি।


চাঁদে নতুন গর্ত, পুরনো ছাপেও ধুলো

২০২৪ সালে চাঁদের বুকে একটি গ্রহাণু বা ধূমকেতুর খণ্ড আছড়ে পড়েছিল। ঘটনাটি পৃথিবীর কোনও দূরবীক্ষণযন্ত্রে ধরা পড়েনি। পরে নাসার লুনার রিকনিস্যান্স অরবিটারের পুরনো ও নতুন ছবি তুলনা করে বিজ্ঞানীরা ২২২ মিটার চওড়া এবং সর্বোচ্চ ৪৩ মিটার গভীর একটি নতুন গর্ত খুঁজে পান।

১৬ সেপ্টেম্বর আবিষ্কারের খবর প্রকাশ্যে আসে। প্রয়াত গ্রহবিজ্ঞানী টমাস ম্যাকগেচিনের নামে গর্তটির নাম রাখা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নথিবদ্ধ নতুন আঘাতজনিত গর্তগুলির মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন। এই মাপের ঘটনা চাঁদে আনুমানিক ১৩২ বছরে একবার ঘটতে পারে।

চাঁদও বদলায়

চাঁদের বায়ুমণ্ডল প্রায় নেই। তাই ছোট মহাজাগতিক বস্তু বাতাসের ঘর্ষণে গতি হারানোর সুযোগ কম পায়। সংঘর্ষের শক্তিতে পাথর ও ধুলো ছিটকে যায়। নতুন গর্তের প্রভাব ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকাজুড়ে শনাক্ত হয়েছে।

গর্তটির চারপাশে প্রায় চার মাইল বিস্তৃত একটি ‘ঠান্ডা দাগ’ও পাওয়া গেছে। আঘাতে উপরের মাটি আলগা হয়ে যাওয়ায় রাতের তাপ ধরে রাখার ক্ষমতা বদলেছে। চাঁদের এই ধুলোময় আবরণকে রেগোলিথ বলা হয়।

নতুন হিসাব অনুযায়ী, চাঁদের উপরের প্রায় এক ইঞ্চি মাটি গড়ে প্রতি ৮০ হাজার বছরে সংঘর্ষের কারণে উল্টেপাল্টে যেতে পারে। তাই অ্যাপোলো অভিযাত্রীদের পায়ের ছাপ বায়ু বা বৃষ্টিতে মুছে যাবে না ঠিকই, কিন্তু ক্ষুদ্র উল্কা ও ছিটকে আসা ধুলোয় চিরকাল অপরিবর্তিতও থাকবে না।

চাঁদ স্থির দেখালেও তার মাটি ক্রমাগত বদলাচ্ছে। ভবিষ্যৎ চন্দ্রঘাঁটি তৈরির ক্ষেত্রে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। বিকিরণের পাশাপাশি দ্বিতীয়িক ধ্বংসাবশেষের ঝুঁকিও বিবেচনায় রাখতে হবে। নীরব সংঘর্ষের দাগই ভবিষ্যৎ চন্দ্রবসতির নকশায় নতুন প্রশ্ন তুলছে।


গালাপাগোসে এল নিনো, সমুদ্রে টানাটানি

গালাপাগোসে এল নিনো একই সঙ্গে জল কমায় এবং জল বাড়ায়। সমুদ্রের গভীর থেকে উঠে আসা ঠান্ডা, পুষ্টিসমৃদ্ধ জল দুর্বল হলে প্ল্যাঙ্কটন ও ছোট মাছ কমে যায়। আবার স্থলে অস্বাভাবিক বৃষ্টি নামে। ফলে পেঙ্গুইন ও সামুদ্রিক সিংহ খাবার হারায়, আর আগ্রাসী উদ্ভিদ বৃষ্টির সুবিধায় স্থানীয় বনকে ঢেকে ফেলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলীয় সংস্থার পূর্বাভাস উদ্ধৃত করে গবেষকেরা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে। তবে ঋতুকালীন পূর্বাভাস পরিবর্তিত হতে পারে। সম্ভাব্য প্রভাবকে ইতিমধ্যে ঘটে যাওয়া ক্ষতি হিসেবে দেখা ঠিক নয়।

চার্লস ডারউইন ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণে উষ্ণ জল সামুদ্রিক উৎপাদনশীলতায় প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে বলে জানানো হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে গালাপাগোস পেঙ্গুইন, সামুদ্রিক ইগুয়ানা, নীলপা বুবি, উড়তে না-পারা করমোর্যান্ট, অ্যালবাট্রস, পেট্রেল, হাঙর, প্রবাল ও সামুদ্রিক সিংহ।

সমুদ্রে খাবার কম, স্থলে আগাছা বাড়ে

ফাউন্ডেশনের বিজ্ঞানী গুস্তাভো হিমেনেস আশঙ্কা করেছেন, পূর্বাভাসের মাত্রা বাস্তব হলে দ্বীপপুঞ্জের মেরুদণ্ডী প্রাণীর সংখ্যা অন্তত ২০ শতাংশ কমতে পারে। এটি সম্ভাব্য প্রভাবের হিসাব, ইতিমধ্যে ঘটে যাওয়া গণনা নয়।

১৯৯৭–৯৮ সালের প্রবল এল নিনোর পরে গালাপাগোস পেঙ্গুইনের সংখ্যা ব্যাপক ভাবে কমেছিল। সেই ইতিহাস বর্তমান উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

স্থলে আবার সমস্যা বিপরীত। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে গাছপালা দ্রুত বাড়লেও বহিরাগত ব্ল্যাকবেরি ও অন্যান্য আগ্রাসী উদ্ভিদ স্থানীয় স্ক্যালেসিয়া বনকে ছাপিয়ে যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা অবশিষ্ট প্রধান বনাঞ্চলগুলির উপর নজর রাখছেন। আগ্রাসী গাছ সরানো, স্থানীয় উদ্ভিদের বীজ সংগ্রহ এবং নার্সারিতে চারা তৈরির কাজ চলছে।

এল নিনোকে থামানো যাবে না, কিন্তু ক্ষতি সামলানোর প্রস্তুতি নেওয়া যায়। একটি ঋতুর ফলকে সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রমাণ বলা যেমন ঠিক নয়, তেমনই দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণতার প্রভাব উপেক্ষা করাও ভুল। গালাপাগোসের অনন্য প্রজাতিগুলির জন্য আগাম তথ্য দ্রুত সংরক্ষণকাজে পৌঁছনোই সবচেয়ে জরুরি।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles