স্যামসনের ঝড়, নীতীশের নিয়ন্ত্রণে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ ভারতের

যা জানা জরুরি
- দিল্লিতে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে সাত উইকেটে জিতে সিরিজ নিশ্চিত করল ভারত।
- ১৫ সেপ্টেম্বর অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানকে আট উইকেটে ১৫৯ রানে আটকে দেওয়ার পরে ভারত ১৪.৫ ওভারে তিন উইকেটে ১৬৩ রান তোলে।
- সঞ্জু স্যামসনের আক্রমণাত্মক অর্ধশতরান এবং নীতীশ কুমার রেড্ডির তিন উইকেট এই জয়ের প্রধান ভিত্তি।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
দিল্লিতে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে সাত উইকেটে জিতে সিরিজ নিশ্চিত করল ভারত। ১৫ সেপ্টেম্বর অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানকে আট উইকেটে ১৫৯ রানে আটকে দেওয়ার পরে ভারত ১৪.৫ ওভারে তিন উইকেটে ১৬৩ রান তোলে। তিন ম্যাচের সিরিজে ব্যবধান এখন ২–০। সঞ্জু স্যামসনের আক্রমণাত্মক অর্ধশতরান এবং নীতীশ কুমার রেড্ডির তিন উইকেট এই জয়ের প্রধান ভিত্তি।
ভারতের রান তাড়ার শুরুতেই ম্যাচের ভারসাম্য বদলে যায়। স্যামসন ও অভিষেক শর্মার উদ্বোধনী জুটিতে ওঠে ৮৮ রান। প্রথম ছয় ওভারে ভারতের সংগ্রহ ছিল বিনা উইকেটে ৮২। ফলে পরের দিকে উইকেট হারালেও প্রয়োজনীয় রান তোলার গতি নিয়ে চাপ তৈরি হয়নি। আফগানিস্তানের বোলারদের তখন একসঙ্গে রান আটকানো এবং দ্রুত উইকেট নেওয়ার কঠিন কাজ করতে হয়েছে।
স্যামসনের ইনিংসের বিশেষত্ব শুধু ২২ বলে ৫৭ রান নয়, তার ভিতরের গতি পরিবর্তন। প্রথম দশ বলে তাঁর সংগ্রহ ছিল আট। সেখান থেকে দ্রুত আক্রমণে গিয়ে পরের দশ বলেই অর্ধশতরানে পৌঁছন। সাতটি চার ও চারটি ছক্কা মেরেছেন তিনি। প্রথম ম্যাচের ব্যর্থতার পরে এই ইনিংস তাঁকে স্বস্তি দেবে, যদিও একটি ভালো সন্ধ্যা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ধারাবাহিকতার বিচার শেষ হয় না।
অন্য প্রান্তে অভিষেক ১৯ বলে ৩৯ রান করেন। দুই ওপেনার একই গতিতে আক্রমণ করায় আফগানিস্তান কোনও একটি প্রান্তে চাপ জমিয়ে রাখতে পারেনি। রশিদ খান একই ওভারে দু’জনকে ফেরান; পরে শ্রেয়স আইয়ারের উইকেটও নেন। ভারতের হারানো তিনটি উইকেটই তাঁর। কিন্তু ব্যক্তিগত সাফল্য দলের জন্য প্রয়োজনীয় সম্মিলিত নিয়ন্ত্রণে পরিণত হয়নি।
ঈশান কিষান অপরাজিত ৩৮ এবং তিলক বর্মা অপরাজিত ১৫ রান করে বাকি কাজ শেষ করেন। শ্রেয়সের সংগ্রহ ১১। ওপেনারদের বিদায়ের পরে ভারতকে নতুন করে ঝড় তুলতে হয়নি; হাতে থাকা বল ও উইকেট ব্যবহার করেই এগিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ৩১ বল বাকি থাকা বোঝায়, জয়ের ব্যবধান শুধু উইকেটের হিসাবে বড় ছিল না, সময়ের হিসাবেও যথেষ্ট স্বচ্ছন্দ।
এর আগে ভারতের বোলিংয়ের শুরুটি ছিল সংযত। যশপ্রীত বুমরা প্রথম ওভারে কোনও রান দেননি। পরের ওভারেই অর্শদীপ সিংহ ফেরান রহমানউল্লাহ গুরবাজকে। আফগান অধিনায়ক ইব্রাহিম জাদরান পাল্টা আক্রমণ করে ৩৭ রান করলেও সেই প্রতিরোধ বড় জুটিতে রূপ নেয়নি। প্রথম ছয় ওভারের পরে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ছিল এক উইকেটে ৪১।
মাঝের ওভারগুলিতে নীতীশের ভূমিকা নির্ণায়ক হয়ে ওঠে। তিন ওভারে ২৪ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন তিনি। সপ্তম থেকে পঞ্চদশ ওভারের মধ্যে আফগানিস্তান পাঁচ উইকেট হারিয়ে তোলে মাত্র ৬৪ রান। নিয়মিত উইকেট পড়ায় শেষ পাঁচ ওভারের জন্য শক্ত ভিত তৈরি হয়নি। অর্শদীপ দু’টি উইকেট নেন; বুমরা, অক্ষর পটেল ও রবি বিষ্ণোইও উইকেট পান।
মহম্মদ নবী ও রশিদের সপ্তম উইকেটের জুটি আফগানিস্তানকে কিছুটা উদ্ধার করে। ২৮ বলে তাঁদের ৪৮ রান না উঠলে লক্ষ্য আরও ছোট হত। নবী করেন ২০, রশিদ ২৮। তবে এই জুটি মূলত ক্ষতি সামলেছে; ভারতের ব্যাটিংকে বড় পরীক্ষায় ফেলার মতো পুঁজি এনে দিতে পারেনি। শেষদিকে ভারতের বোলারদের কিছু ব্যয়বহুল বলও তাই ফল বদলায়নি।
বিশ্লেষণ: ভারতের সবচেয়ে কার্যকর দিক ছিল বোলিং ও ব্যাটিংয়ের পরপর দুই পর্যায়ে চাপ তৈরি করা। আফগানিস্তানের মাঝের ওভারে রান কমিয়ে দেওয়ার পরে নিজেদের প্রথম ছয় ওভারেই সেই সুবিধা বহুগুণ বাড়িয়েছে ভারত। নীতীশের মতো ব্যাটিং-সামর্থ্যসম্পন্ন ক্রিকেটার নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ ওভার দিতে পারলে একাদশ সাজানোর স্বাধীনতাও বাড়ে।
১৭ সেপ্টেম্বরের শেষ ম্যাচ এখন ভারতের কাছে বিকল্প পরীক্ষা এবং আফগানিস্তানের কাছে সংশোধনের সুযোগ। তবে সিরিজ নিশ্চিত হয়েছে বলেই প্রতিটি বদল সফল হবে, এমন নয়। নতুন খেলোয়াড়কে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়ে পরীক্ষা করাই অর্থবহ। আফগানিস্তানের প্রয়োজন বিশেষ করে মাঝের ওভারে উইকেট ধরে রান বাড়ানোর পথ খোঁজা; শুধু শেষদিকের উদ্ধার দিয়ে এই ভারতীয় ব্যাটিংকে আটকানো কঠিন।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



