সাড়ে ছয় কোটি বছরের চার পা: প্রথমবার মিলল পূর্ণবয়স্ক টি রেক্সের হাঁটার সারি

যা জানা জরুরি
- হাড় বলে একটি প্রাণীর দেহ কেমন ছিল; পায়ের ছাপ বলে সে কোনও এক মুহূর্তে কী করছিল।
- উত্তর ডাকোটার হেল ক্রিক শিলাস্তরে বিজ্ঞানীরা পূর্ণবয়স্ক টাইরানোসরাস রেক্সের পরপর চারটি পদচিহ্ন শনাক্ত করেছেন।
- কোনও বিচ্ছিন্ন ছাপ নয়—প্রায় সাত মিটার দীর্ঘ একটি চলমান পথ।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
হাড় বলে একটি প্রাণীর দেহ কেমন ছিল; পায়ের ছাপ বলে সে কোনও এক মুহূর্তে কী করছিল। উত্তর ডাকোটার হেল ক্রিক শিলাস্তরে বিজ্ঞানীরা পূর্ণবয়স্ক টাইরানোসরাস রেক্সের পরপর চারটি পদচিহ্ন শনাক্ত করেছেন। কোনও বিচ্ছিন্ন ছাপ নয়—প্রায় সাত মিটার দীর্ঘ একটি চলমান পথ। গবেষণাটি ৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়েছে; ১১–১৪ সেপ্টেম্বর তার বিস্তারিত সংবাদ সামনে আসে।
প্রতিটি তিন-আঙুলের ছাপ প্রায় এক মিটার লম্বা। দু’টি বাঁ পা ও দু’টি ডান পায়ের চিহ্ন মিলিয়ে প্রাণীটির অগ্রগতির ধারাটি বোঝা গেছে। পদক্ষেপের ব্যবধান থেকে গবেষকেরা হিসাব করেছেন, তার নিতম্ব মাটি থেকে প্রায় চার মিটার উঁচুতে ছিল এবং চলার গতি ঘণ্টায় প্রায় সাড়ে পাঁচ থেকে সাত কিলোমিটার।
অর্থাৎ বিশাল শিকারিটি তখন ছুটছিল না; মানুষের দ্রুত হাঁটার কাছাকাছি গতিতে এগোচ্ছিল। সংবাদমাধ্যমের কোনও কোনও প্রতিবেদনে ‘দৌড়ের ছাপ’ বলা হলেও মূল গবেষণার হিসাব হাঁটার দিকেই ইঙ্গিত করে। প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীর গতির বিবরণে এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ।
চিহ্নগুলি প্রায় ৬ কোটি ৬৫ লক্ষ বছর আগের। কাদাময় বা বালুময় মাটিতে পা পড়ার পরে গর্তগুলি অন্য পলিতে ভরে যায়। খনিজসমৃদ্ধ ভূগর্ভস্থ জল সেই ভরাট অংশকে শক্ত করে। আশপাশের তুলনায় শক্ত হয়ে থাকা ছাপগুলি পরে ক্ষয়ের ফলে উন্মুক্ত হয়।
কলোরাডোর স্কুলশিক্ষক এবং ডেনভার মিউজিয়ামের স্বেচ্ছাসেবক কেন্ট হাপস ২০২৫ সালে চিহ্নগুলি প্রথম লক্ষ করেন। ডেনভার মিউজিয়াম অব নেচার অ্যান্ড সায়েন্স এবং লিভারপুল জন মুরস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা উচ্চ-নির্ভুলতার ত্রিমাত্রিক স্ক্যান নিয়ে আকার, ব্যবধান ও গঠন পরীক্ষা করেন।
ছাপের নির্মাতাকে সরাসরি দেখা অসম্ভব। বিজ্ঞানীরা আকার, সরু আঙুলের বিন্যাস, শিলাস্তরের বয়স এবং ওই অঞ্চলে পাওয়া টি-রেক্সের প্রচুর জীবাশ্ম মিলিয়ে প্রজাতিটি নির্ধারণ করেছেন। এটি শক্তিশালী সিদ্ধান্ত, তবে জীবাশ্মবিজ্ঞানের স্বাভাবিক সীমাসহ একটি বৈজ্ঞানিক অনুমান।
টি-রেক্সকে জনপ্রিয় সংস্কৃতি প্রায় সব সময় দাঁত বের করে দৌড়তে দেখায়। চারটি পায়ের ছাপ তার একেবারে সাধারণ মুহূর্ত ধরে রেখেছে—প্রাণীটি হয়তো শুধু হেঁটে যাচ্ছিল। এই সাধারণতাই আবিষ্কারের সৌন্দর্য।
মানুষের কৌতূহলও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষিত গবেষণাদলের বাইরে এক স্কুলশিক্ষকের নজর থেকে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। বিজ্ঞান শুধু পরীক্ষাগারে নয়; অনেক সময় প্রথম প্রশ্নটি আসে মাঠে দাঁড়িয়ে কারও মনে হওয়া—‘পাথরের এই দাগটি অন্য রকম কেন?’
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।


