অভিষেকের ৩২ বলের ঝড়ে উড়ে গেল আফগানিস্তান, সাত উইকেটে শুরু ভারতের

যা জানা জরুরি
- আফগানিস্তান যে রান তুলতে কুড়ি ওভার খেলল, ভারত তার জবাব দিয়ে দিল ১৩.৪ ওভারে।
- রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম খেলায় সাত উইকেটে জিতল ভারত।
- কিন্তু এই সহজ রান তাড়ার ভিত তৈরি হয়েছিল তারও আগে, ভারতীয় বোলারদের প্রথম দফার আঘাতে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
আফগানিস্তান যে রান তুলতে কুড়ি ওভার খেলল, ভারত তার জবাব দিয়ে দিল ১৩.৪ ওভারে। রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম খেলায় সাত উইকেটে জিতল ভারত। আফগানদের ১৫৬/৮-এর জবাবে ভারতের সংগ্রহ ১৫৭/৩। জয়ের মুখ অভিষেক শর্মা: মাত্র ৩২ বলে ৮২। কিন্তু এই সহজ রান তাড়ার ভিত তৈরি হয়েছিল তারও আগে, ভারতীয় বোলারদের প্রথম দফার আঘাতে।
জসপ্রীত বুমরা প্রথম ওভারেই রান করতে না দিয়ে ফিরিয়ে দেন রহমানুল্লাহ গুরবাজকে। শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারকে হারানোর পর আফগানিস্তানের উপর চাপ বাড়তে থাকে। নিয়মিত উইকেট হারানোয় আক্রমণ এবং ইনিংস বাঁচানোর মধ্যে ভারসাম্য খুঁজতে হয় তাদের। সেই পরিস্থিতিতে আজমতুল্লাহ ওমরজাইয়ের ৬৪ এবং মহম্মদ নবির ৩৩ দলকে লড়াইয়ের মতো জায়গায় নিয়ে যায়। দু’জনের ৮৩ রানের জুটি না হলে অতিথিদের কাজ আরও কঠিন হত। শেষদিকে অর্শদীপ সিংহের ১৯ রানে তিন উইকেট আফগানদের বড় লাফ দেওয়ার সুযোগ আটকে দেয়।
রান তাড়ায় সঞ্জু স্যামসন দশ রানে ফিরলেও অভিষেকের পরিকল্পনা বদলায়নি। সাতটি চার এবং সাতটি ছক্কায় তাঁর ৮২ রানের মধ্যে ৭০ রানই এসেছে সীমানা পেরিয়ে। অর্থাৎ শুধু দ্রুত দৌড়ে রান নেওয়া নয়, বোলারের ভুলকে বড় শাস্তি দেওয়ার উপর দাঁড়িয়েছিল ইনিংস। মাত্র ২২ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। আফগান বোলাররা যখন দ্বিতীয় আঘাতের খোঁজ করছেন, তখনই প্রয়োজনীয় রান এবং হাতে থাকা বলের হিসাব ভারতের দিকে অনেকখানি হেলে যায়।
ঈশান কিশনের ৪২ রান এই আক্রমণের প্রয়োজনীয় সঙ্গত। অভিষেকের সঙ্গে তাঁর উপস্থিতি ভারতকে প্রথম ছয় ওভারে এক উইকেটে ৮২ রানে পৌঁছে দেয়। শুরুতেই লক্ষ্য অর্ধেকের বেশি কমে যাওয়ায় পরের ব্যাটারদের উপর তাড়াহুড়োর বাধ্যবাধকতা ছিল না। অভিষেক এবং ঈশান পরে ফিরলেও শ্রেয়স আয়ার ও তিলক বর্মা ম্যাচ শেষ করেন। ভারতের হাতে তখনও ৩৮ বল। অল্প ব্যবধানে জেতা এবং এত বল বাঁচিয়ে জেতার মধ্যে প্রতিপক্ষের উপর চাপ তৈরির বড় পার্থক্য থাকে।
ম্যাচশেষের বক্তব্যে অধিনায়ক শ্রেয়স বুমরার শুরুর আঘাতের পাশাপাশি অর্শদীপ, অক্ষর পটেল এবং বরুণ চক্রবর্তীর অবদানের কথা বলেন। অভিষেকও ব্যাখ্যা করেন, দেড়শো বা একশো ষাটের আশপাশের লক্ষ্য তাড়া করতে নামলে ওপেনারদের জোরালো শুরু দলকে এগিয়ে দেয়। ভারতের ব্যাটিং পরিকল্পনায় সেই আগ্রাসনেরই প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ মঙ্গলবার। ফলে আফগানিস্তানের সামনে ভুল সংশোধনের সময় কম, আর ভারতের সামনে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পরীক্ষা।
এই সিরিজের সঙ্গে ভারতের বৃহত্তর প্রস্তুতির যোগও রয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বরের বোর্ড-বিজ্ঞপ্তিতে আফগানিস্তান সিরিজ এবং এশিয়ান গেমসের দল থেকে হর্ষিত রানার ছিটকে যাওয়ার কথা জানানো হয়। তাঁর জায়গায় এসেছেন যশ ঠাকুর। বোর্ড জানিয়েছে, পুনর্বাসনের সময় ৭ সেপ্টেম্বর ম্যাচের অনুকরণে অনুশীলনে হর্ষিত নতুন চোট পান। তাই রবিবারের জয় শুধু ব্যাটিংয়ের শক্তি নয়, বদলে যাওয়া বোলিং-সম্ভারের মধ্যেও দল কী ভাবে কাজ করছে, সেই প্রশ্নের একটি প্রাথমিক উত্তর।
খেলার বিশ্লেষণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, ভারতকে জেতার জন্য শেষ পাঁচ ওভারের ঝুঁকিপূর্ণ সমীকরণে যেতে হয়নি। অভিষেকের আক্রমণ প্রতিপক্ষকে রক্ষণের দিকে ঠেলে দেয়, আর ঈশানের রান অন্য প্রান্ত সচল রাখে। একই সঙ্গে ওমরজাই–নবির জুটি মনে করিয়ে দিয়েছে, শুরুর কয়েকটি উইকেট মানেই প্রতিপক্ষের ইনিংস শেষ নয়। ভারতীয় বোলিংয়ের প্রথম এবং শেষ পর্যায় সফল হলেও মাঝের পুনর্গঠনের জায়গাটি পরের ম্যাচে দেখার থাকবে।
তবে একটি ম্যাচ থেকে পুরো সিরিজের রায় দেওয়া চলে না। আফগানিস্তানের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনাকে রবিবারের ব্যবধান দিয়ে মুছে ফেলা যেমন ভুল, তেমনই অভিষেকের প্রতিটি ইনিংসে একই গতির প্রত্যাশাও অবাস্তব। আপাতত নিশ্চিত খবর হল, ভারত সিরিজে ১–০ এগিয়ে এবং উদ্বোধনী ম্যাচে ব্যাট-বলের দুই বিভাগেই কার্যকর পারফরম্যান্স পেয়েছে। পরের পরীক্ষাটি হবে এই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি, বিশেষ করে প্রতিপক্ষ নতুন পরিকল্পনা নিয়ে ফিরলে ভারত কী ভাবে তার জবাব দেয়।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



