চোদ্দো পয়েন্ট পিছিয়েও বিশ্বজয়, স্টুয়ার্ট–ইয়ংয়ের হাতে আমেরিকার পঞ্চম টানা মুকুট

যা জানা জরুরি
- ফাইনালের এক পর্যায়ে আমেরিকা পিছিয়ে ছিল ১৪ পয়েন্টে।
- রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বার্লিনে মহিলাদের বাস্কেটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সকে ৯৭–৭৯ ব্যবধানে হারিয়ে টানা পঞ্চম খেতাব পেল আমেরিকা।
- ব্রিয়ানা স্টুয়ার্ট এবং জ্যাকি ইয়ংয়ের বড় অবদান ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ফাইনালের এক পর্যায়ে আমেরিকা পিছিয়ে ছিল ১৪ পয়েন্টে। শেষ পর্যন্ত জিতল ১৮ পয়েন্টের ব্যবধানে। রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বার্লিনে মহিলাদের বাস্কেটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সকে ৯৭–৭৯ ব্যবধানে হারিয়ে টানা পঞ্চম খেতাব পেল আমেরিকা। সব মিলিয়ে এটি তাদের দ্বাদশ বিশ্বকাপ। ব্রিয়ানা স্টুয়ার্ট এবং জ্যাকি ইয়ংয়ের বড় অবদান ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়। প্রথমবার ফাইনালে ওঠা ফ্রান্স শুরুতে সম্ভাবনা জাগালেও দ্বিতীয়ার্ধে সেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি।
প্রথম কোয়ার্টারের শেষে ফ্রান্স এগিয়ে ছিল ২০–১৭। দ্বিতীয় কোয়ার্টারের শুরুতে ব্যবধান আরও বেড়ে যায়। কিন্তু বিরতির আগে আমেরিকা ফিরে আসে এবং অর্ধেক সময়ে স্কোর দাঁড়ায় ফ্রান্সের পক্ষে ৪৫–৪৩। এই হিসাবটি গুরুত্বপূর্ণ: দ্বিতীয়ার্ধে নামার আগে আমেরিকাকে আর বিশাল ব্যবধান ঘোচানোর চাপ নিতে হয়নি। প্রথমার্ধের শেষের পুনরুদ্ধারই পরের আক্রমণের ভিত তৈরি করে। ফ্রান্সের এগিয়ে থাকার সুবিধা তখন সংখ্যায় ছিল, কিন্তু ব্যবধানের নিরাপত্তা প্রায় হারিয়ে গিয়েছিল।
তৃতীয় কোয়ার্টারে ম্যাচের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ঘটে। আমেরিকা তোলে ৩০ পয়েন্ট, ফ্রান্স মাত্র ১২। ফলে দুই পয়েন্টে পিছিয়ে থাকা দল পরের দশ মিনিট শেষে ১৬ পয়েন্টে এগিয়ে যায়। চতুর্থ কোয়ার্টারেও আমেরিকা ২৪–২২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জয় নিশ্চিত করে। এই ভাগ করা স্কোর দেখায়, ফাইনালকে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একতরফা বলা ভুল। বরং দীর্ঘ সময়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে আমেরিকার প্রবল নিয়ন্ত্রণে বদলে গিয়েছে।
স্টুয়ার্ট করেন ২২ পয়েন্ট এবং সংগ্রহ করেন দশটি রিবাউন্ড। ইয়ংয়ের অবদান ১৮ পয়েন্ট, ছ’টি রিবাউন্ড এবং পাঁচটি অ্যাসিস্ট। বল বাস্কেটে পাঠানো ছাড়াও ব্যর্থ শটের পরে বলের দখল পাওয়া এবং সতীর্থকে স্কোর করার সুযোগ তৈরি—এই কাজগুলিও তাঁদের গুরুত্ব বাড়িয়েছে। ফিবার মূল্যায়নে দুই খেলোয়াড়ের সম্মিলিত পারফরম্যান্সই প্রত্যাবর্তনের কেন্দ্রে। স্টুয়ার্ট প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও পেয়েছেন, যা তাঁর ধারাবাহিক অবদানের স্বীকৃতি।
ফ্রান্সের জন্য পরাজয়ের মধ্যেও এটি তাদের সেরা বিশ্বকাপ-ফল। প্রথমবার ফাইনালে উঠে রুপো জিতেছে দলটি। গ্যাবি উইলিয়ামস প্রতিযোগিতাজুড়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন এবং সেরা পাঁচ খেলোয়াড়ের দলেও জায়গা পেয়েছেন। ফাইনালে বড় ব্যবধানে হারা আর পুরো প্রতিযোগিতায় ব্যর্থ হওয়া এক জিনিস নয়। ফ্রান্স প্রথমার্ধে যে চাপ তৈরি করেছিল, তা দেখিয়েছে শক্তিশালী আমেরিকার বিরুদ্ধেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার রাস্তা রয়েছে; সমস্যা হয়েছে সেই মান শেষ পর্যন্ত বজায় রাখতে।
তৃতীয় স্থানের ম্যাচে আয়ানা মার্টিনের ২২ পয়েন্টের সাহায্যে স্পেন জার্মানিকে ৮১–৫৮ ব্যবধানে হারায়। আয়োজক জার্মানি পদক না পেলেও নিজেদের সেরা বিশ্বকাপ অবস্থানে শেষ করেছে। ফিবা জানিয়েছে, এ বারের প্রতিযোগিতায় মোট দর্শক উপস্থিতি আগের সর্বোচ্চ সংখ্যাকে ছাড়িয়েছে। ফলে আমেরিকার পরিচিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ছবির পাশে ফ্রান্সের প্রথম ফাইনাল, জার্মানির উন্নতি এবং আয়োজনে দর্শকের সাড়া—এই পৃথক সংবাদগুলিও রয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে আমেরিকার ধারাবাহিকতা আরও স্পষ্ট। ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২ সালের পরে এ বারও তারা চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু দীর্ঘ জয়ধারা থাকলেই প্রতিটি নতুন ম্যাচ সহজ হয় না। বার্লিনের ফাইনালে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া সেই সত্যেরই প্রমাণ। অভিজ্ঞতা তখন কাজে লাগে আতঙ্ক কমাতে, নিজের খেলার কাঠামোয় ফিরতে এবং প্রতিপক্ষের সুবিধা ধাপে ধাপে ছোট করতে। রবিবারের ফলকে শুধু ঐতিহ্যের জোর বলা তাই পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা নয়।
খেলার বিশ্লেষণে সবচেয়ে বড় শিক্ষাটি সময়ভিত্তিক নিয়ন্ত্রণের। প্রথম দিকে এগিয়ে থাকা শেষ পর্যন্ত জেতার নিশ্চয়তা দেয় না, আবার পিছিয়ে পড়াও পরাজয়ের ঘোষণা নয়। আমেরিকা বিরতির আগে ব্যবধান কমিয়ে তৃতীয় কোয়ার্টারে আঘাত করেছে; ফ্রান্স সেই পরিবর্তনের জবাব দিতে পারেনি। তাই শেষ স্কোরের ১৮ পয়েন্টের ব্যবধান আসল নাটকটিকে পুরো বলে না। সেই নাটক হল, একটি সম্ভাব্য বিপর্যয়কে ধাপে ধাপে উদ্ধার করে চ্যাম্পিয়ন দল কী ভাবে আবার নিজের পক্ষে ম্যাচের ভাষা বদলে দিল।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



