সংস্কৃতি ও বিনোদন

তিরানব্বইয়েও নতুন চরিত্র, এলেন বার্স্টিনের অসমাপ্ত অভিনয়জীবন

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে আজীবন সম্মানের গোল্ডেন লায়ন গ্রহণ করেছেন এলেন বার্স্টিন।
  • ছয় দশকেরও বেশি অভিনয়জীবনের স্বীকৃতির মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি চলচ্চিত্রে নারীদের কাজের পরিবেশে পরিবর্তনের কথা বলেছেন।
  • তাঁর কর্মজীবনের শুরুতে ছবির সেট প্রায় পুরোপুরি পুরুষনিয়ন্ত্রিত ছিল; এখন পরিচালনা, প্রযোজনা ও কারিগরি বিভাগে অনেক বেশি নারীকে দেখছেন।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে আজীবন সম্মানের গোল্ডেন লায়ন গ্রহণ করেছেন এলেন বার্স্টিন। বয়স ৯৩। ছয় দশকেরও বেশি অভিনয়জীবনের স্বীকৃতির মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি চলচ্চিত্রে নারীদের কাজের পরিবেশে পরিবর্তনের কথা বলেছেন। তাঁর কর্মজীবনের শুরুতে ছবির সেট প্রায় পুরোপুরি পুরুষনিয়ন্ত্রিত ছিল; এখন পরিচালনা, প্রযোজনা ও কারিগরি বিভাগে অনেক বেশি নারীকে দেখছেন। তবে অগ্রগতি আর সমতা এক নয়—এ কথাও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট।

বার্স্টিন অভিনয়ের তথাকথিত ‘ট্রিপল ক্রাউন’ পাওয়া অল্প কয়েকজন শিল্পীর একজন। অ্যালিস ডাজ়ন্‌ট লিভ হিয়ার এনিমোর-এর জন্য অস্কার, মঞ্চে টনি এবং টেলিভিশনে এমি পেয়েছেন। মার্টিন স্করসেসি পরিচালিত অ্যালিস… ছবিতে এমন এক নারীর জীবন দেখানো হয়েছিল, যিনি স্বামীর মৃত্যুর পরে সন্তানকে নিয়ে নিজের কর্মজীবন ও স্বাধীনতা পুনর্গঠন করেন। সত্তরের দশকে মূলধারার আমেরিকান ছবিতে এই চরিত্রের স্বায়ত্তশাসন ব্যতিক্রম ছিল।

দ্য এক্সরসিস্ট-এ তাঁর অভিনয় জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে আছে। সেই ছবির একটি বিপজ্জনক দৃশ্য ধারণের সময় পিঠে যে আঘাত পেয়েছিলেন, তার প্রভাব দীর্ঘদিন বহন করেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। ঘটনাটি পুরনো ছবির সেটে অভিনয়শিল্পীর নিরাপত্তা ও ক্ষমতার অসাম্য নিয়েও প্রশ্ন তোলে। দর্শক যে শারীরিক তীব্রতাকে অভিনয়ের সাফল্য হিসেবে দেখে, তার পিছনে কখনও স্থায়ী ক্ষতি থাকতে পারে।

আজীবন সম্মান পেলেও বার্স্টিন অবসর নেননি। ২০২৬ সালে তাঁর দুটি নতুন কাজ রয়েছে—প্লেস টু বি এবং ম্যাগি জিলেনহলের স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি ফ্লেশ ইমপ্যাক্ট। দ্বিতীয়টিতে তিনি শতবর্ষী মেরিলিন মনরোর একটি কল্পিত রূপে অভিনয় করেছেন। যে অভিনেত্রীর কর্মজীবন বহু দশক ধরে বয়সী নারীর সীমিত চরিত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, তাঁর পক্ষে এই ভূমিকাটি বিশেষ অর্থবহ।

বার্স্টিন নারীবাদী আন্দোলন এবং গ্লোরিয়া স্টাইনেমের প্রভাবের কথাও স্মরণ করেছেন। ব্যক্তিগত প্রতিভা তাঁকে সফল করেছে, কিন্তু শিল্পের কাঠামোগত পরিবর্তন ছাড়া পরবর্তী প্রজন্মের নারীরা একই সুযোগ পেতেন না—এই স্বীকৃতি তাঁর বক্তব্যকে আত্মজীবনী থেকে ইতিহাসে নিয়ে যায়।

তবে একটি কিংবদন্তির দীর্ঘ কর্মজীবন দিয়ে গোটা শিল্পের অগ্রগতি মাপা যায় না। ক্যামেরার পিছনে নারীর সংখ্যা, সমান পারিশ্রমিক, বয়সের পরে চরিত্র পাওয়ার সুযোগ এবং হয়রানির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা—এসবের পৃথক তথ্য দরকার।

ভেনিসের সম্মান তাই সমাপ্তির সোনালি ফ্রেম নয়। বার্স্টিনের উপস্থিতি মনে করিয়ে দেয়, আজীবন পুরস্কারের পরেও একজন অভিনেত্রীর কাজ চলতে পারে। তাঁর সাফল্যের সত্যিকারের উত্তরাধিকার হবে এমন শিল্প, যেখানে পরবর্তী নারীদের অসাধারণ ব্যতিক্রম হতে না হয়।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles