গোবিন্দ-সুনীতার ‘সীমা’ যুদ্ধ!

যা জানা জরুরি
- দাম্পত্যের টানাপড়েন এ বার প্রকাশ্য বাক্যুদ্ধে।
- স্ত্রী সুনীতা আহুজার একের পর এক মন্তব্যের জবাবে সরাসরি সতর্কবার্তা দিলেন গোবিন্দ।
- তাঁর অভিযোগ, প্রত্যাবর্তনের ছবি ‘রূপা’-র ক্ষতি করার পাশাপাশি পরিকল্পিত ভাবে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন সুনীতা।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
দাম্পত্যের টানাপড়েন এ বার প্রকাশ্য বাক্যুদ্ধে। স্ত্রী সুনীতা আহুজার একের পর এক মন্তব্যের জবাবে সরাসরি সতর্কবার্তা দিলেন গোবিন্দ। তাঁর অভিযোগ, প্রত্যাবর্তনের ছবি ‘রূপা’-র ক্ষতি করার পাশাপাশি পরিকল্পিত ভাবে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন সুনীতা। অভিনেতার বার্তা, “দয়া করে নিজের সীমার মধ্যে থাকো। ভবিষ্যতে কোনও এক সময়ে হয়তো তোমার আমাকেই প্রয়োজন হতে পারে।”
গত কয়েক মাস ধরেই গোবিন্দ ও সুনীতার প্রায় চার দশকের দাম্পত্য নিয়ে জল্পনা চলছে। স্বামীর কথিত সম্পর্কের প্রসঙ্গ প্রকাশ্যে এনে বিতর্ক আরও উসকে দিয়েছেন সুনীতা। সেই জল্পনা নতুন মাত্রা পায় গোবিন্দ তাঁর প্রত্যাবর্তনের ছবি ‘রূপা’-র ঘোষণা করার পর। ছবিতে তাঁর বিপরীতে রয়েছেন কমল রানি স্বর্ণকার। প্রচারের কাজে দু’জনকে একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পরই তীব্র কটাক্ষ করেন সুনীতা। এমনকি কমলের বয়স তাঁদের মেয়ে টিনা আহুজার কাছাকাছি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এত দিন বিষয়টি নিয়ে তুলনামূলক সংযত থাকলেও এ বার মুখ খুললেন গোবিন্দ। সংবাদমাধ্যমের সামনে স্ত্রীর নাম না করেই কার্যত তাঁকেই উদ্দেশ করে অভিনেতা বলেন, তিনি সাধারণত খুব বেশি বাইরে গিয়ে কাজ করেন না। এখন নিজের উদ্যোগে নতুন করে কাজ শুরু করতেই তাতে বাধা তৈরি করা হচ্ছে।
গোবিন্দের দাবি, সুনীতা যখন নিজের অনুষ্ঠান বা কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তখন প্রয়োজনের সময়ে মেয়ে টিনার মাধ্যমে তাঁকে ডেকে সাহায্য নিয়েছিলেন। তিনি স্ত্রীর কাজকে সহযোগিতা করেছেন, অথচ নিজের ছবির ক্ষেত্রে উল্টো আচরণের মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ অভিনেতার।
তাঁর কথায়, “আমি সচরাচর বাইরে গিয়ে কাজ করি না। এখন নিজের কাজ শুরু করেছি, আর তুমি তাতে হস্তক্ষেপ করছ। অথচ তুমি যখন খাবারের অনুষ্ঠান করেছিলে বা ‘লক আপ’-এ গিয়েছিলে, তখন টিনাকে অনুরোধ করে আমাকে ডেকে আমার পরিষেবা নিয়েছিলে। অবশ্যই সেটা তোমার অধিকার।”
‘ছবির ক্ষতি করো না’
গোবিন্দের অভিযোগ, নতুন ছবির কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই এমন মন্তব্য করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করতে পারে। এমনকি ছবির ব্যবসাতেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন অভিনেতা।
তাঁর বক্তব্য, স্বল্পবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে কেউ চলচ্চিত্রজগতে জায়গা করে নিলে তাঁকে এমনভাবে অপমান করা উচিত নয়, যাতে তিনি ভয় পেয়ে পেশা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবেন।
কমলকে লক্ষ্য করে সুনীতার ব্যক্তিগত আক্রমণেরও বিরোধিতা করেছেন গোবিন্দ। তাঁর যুক্তি, ক্ষমতা, খ্যাতি, সম্মান বা সম্পদ থাকলেই অপেক্ষাকৃত কম প্রতিষ্ঠিত কাউকে অপমান করার অধিকার কেউ পেয়ে যান না। ঈশ্বর কাউকে বেশি দিয়েছেন বলেই দুর্বল অবস্থানে থাকা অন্য কাউকে ছোট করার অধিকার তৈরি হয় না।
বয়সের ব্যবধান নিয়েও আপত্তি
গোবিন্দ ও কমলের বয়সের ব্যবধান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন সুনীতা। সেই প্রসঙ্গে অভিনেতার যুক্তি, ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে বহু অভিনেতা নিজেদের তুলনায় অনেক কমবয়সি অভিনেত্রীদের সঙ্গে কাজ করেছেন। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেই অনেক তারকা দীর্ঘদিন পর্দায় নিজেদের প্রাসঙ্গিক রেখেছেন।
তাই শুধুমাত্র বয়সের ব্যবধানকে সামনে রেখে দুই সহ-অভিনেতার পেশাগত সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলা তাঁর কাছে যুক্তিসঙ্গত নয়।
এর পরেই গোবিন্দের বক্তব্য আরও কঠোর হয়ে ওঠে। তাঁর অভিযোগ, ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে একটি বড় ব্যবসায়িক প্রকল্পের ক্ষতি করার চেষ্টা চলছে। সুনীতার পিছনে একটি ‘দল’ বা ‘চক্র’ কাজ করছে বলেও ইঙ্গিত করেছেন তিনি। যদিও সেই চক্রে কারা রয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি।
গোবিন্দ বলেন, “তোমার ছোট স্বার্থের জন্য তুমি একটি বড় ব্যবসার ক্ষতি করার চেষ্টা করছ। তোমার পিছনে যে দল বা চক্র রয়েছে, সে বিষয়ে সবাই জানে। আমার মনে হয়, সেই বিষয়টি আরও প্রকাশ্যে আসবে। সেটাও তোমার পক্ষে ভাল দেখাবে না।”
তার পরেই আসে সবচেয়ে কড়া বার্তা। ভবিষ্যতে কোনও সময়ে সুনীতার তাঁর সাহায্যের প্রয়োজন হতে পারে বলে ইঙ্গিত করে গোবিন্দ তাঁকে পডকাস্ট বা সংবাদমাধ্যমে অপমান না করে নিজের ‘সীমার মধ্যে’ থাকার পরামর্শ দেন।
সুনীতার অভিযোগও কম নয়
অন্য দিকে, সুনীতার সাম্প্রতিক মন্তব্যও ছিল যথেষ্ট তীক্ষ্ণ। এক আলোকচিত্রী তাঁকে গোবিন্দ ও কমলের ধারাবাহিক প্রচার-উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, সাধারণত ছবির শুটিং শেষ হওয়ার পরেই জোরদার প্রচার শুরু হয়। কিন্তু এখানে তাঁর চোখে ছবির কাজের চেয়ে দু’জনের একসঙ্গে ঘোরাঘেরাই বেশি চোখে পড়ছে।
কমলকে গোবিন্দের মেয়ের বয়সি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এমনকি স্বামীর এই আচরণ নিয়ে ‘লজ্জা থাকা উচিত’ বলেও কটাক্ষ করেন। কমলের পোশাক নিয়েও ব্যক্তিগত মন্তব্য করতে ছাড়েননি সুনীতা।
এর আগের এক সাক্ষাৎকারেও কমলের নাম নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এমনকি সেই নামটির প্রতিই তাঁর প্রবল আপত্তি রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন।
তবে গোবিন্দ বরাবরই সহ-অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর দাবি, এত বিতর্ক ও ব্যক্তিগত আক্রমণের পরেও কমল পাল্টা কোনও কটু মন্তব্য করেননি। এমনকি প্রচারের জন্য বিতর্ককে ব্যবহার করার চেষ্টাও করেননি তিনি।
১৯৮৭ সালে বিয়ে করেন গোবিন্দ ও সুনীতা। তাঁদের দুই সন্তান—টিনা ও যশবর্ধন। দীর্ঘ দাম্পত্যে নানা গুঞ্জন উঠলেও এ বারের সংঘাত আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রকাশ্য।
ব্যক্তিগত অভিযোগ, পেশাগত স্বার্থ, বয়সের বিতর্ক এবং নতুন ছবির প্রচার—সব মিলিয়ে গোবিন্দ-সুনীতার দাম্পত্যের টানাপড়েন এখন আর ঘরের চার দেওয়ালে আটকে নেই। ব্যক্তিগত সম্পর্কের ফাটল পেরিয়ে তা যেন বলিউডের প্রকাশ্য মঞ্চের বিতর্কে পরিণত হয়েছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



