সাক্ষাৎকারে ঢাকা মুখ, গাজা যুদ্ধের ভিতরের কণ্ঠ

যা জানা জরুরি
- ইউভাল আব্রাহাম ও রাচেল জোরের নাজা ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার পেয়েছে।
- তিন বছর ধরে গোপনে তৈরি তথ্যচিত্রটিতে ইজরায়েলের সামরিক ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ২৪ জনের সাক্ষাৎকার রয়েছে।
- তাঁদের বক্তব্যের কেন্দ্র গাজায় লক্ষ্য নির্বাচন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি এবং বেসামরিক মানুষ উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা জেনেও হামলার অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়া।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ইউভাল আব্রাহাম ও রাচেল জোরের নাজা ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার পেয়েছে। তিন বছর ধরে গোপনে তৈরি তথ্যচিত্রটিতে ইজরায়েলের সামরিক ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ২৪ জনের সাক্ষাৎকার রয়েছে। তাঁদের বক্তব্যের কেন্দ্র গাজায় লক্ষ্য নির্বাচন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি এবং বেসামরিক মানুষ উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা জেনেও হামলার অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়া।
‘নাজা’ নামটি বেসামরিক হতাহতের জন্য ব্যবহৃত একটি সামরিক সংক্ষিপ্ত রূপ থেকে নেওয়া। নির্মাতারা সাক্ষাৎদাতাদের পরিচয় গোপন রেখেছেন। ফলে ছবির শক্তি ও সীমাবদ্ধতা একই জায়গায়। ভিতরের মানুষদের বক্তব্য এমন প্রক্রিয়ার বর্ণনা দিতে পারে, যা সরকারি সংবাদ সম্মেলনে পাওয়া যায় না। আবার পরিচয় প্রকাশ না হওয়ায় দর্শক স্বাধীনভাবে প্রত্যেকের পদ, দায়িত্ব ও প্রত্যক্ষ জ্ঞানের পরিধি যাচাই করতে পারেন না।
আব্রাহাম ও জোর এর আগে নো আদার ল্যান্ড-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যা অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি জনপদ ধ্বংসের নথি হিসেবে অস্কার পেয়েছিল। নাজা-য় তাঁরা ব্যক্তিগত অনুশোচনার গল্পের চেয়ে একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, সেটির দিকে তাকিয়েছেন। কোনও সেনা ‘ভাল’ না ‘খারাপ’—তার বদলে তথ্য, প্রযুক্তি ও আদেশের স্তরগুলি কীভাবে প্রাণঘাতী ফল তৈরি করে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ।
ছবির দাবি অত্যন্ত গুরুতর। তাই উৎসবের পুরস্কারকে অভিযোগের বিচারিক প্রমাণ ভাবা যাবে না। সাক্ষাৎকারের দলিল, সামরিক নথি, ঘটনাস্থলের তথ্য এবং স্বাধীন তদন্ত মিলিয়ে প্রতিটি অভিযোগ যাচাই প্রয়োজন। ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ যুদ্ধ পরিচালনা ও লক্ষ্য নির্বাচনের বিষয়ে নিজেদের আইনি ও নিরাপত্তাগত যুক্তি দিয়ে থাকে। তথ্যচিত্রের দায়িত্ব সেই দাবিগুলিকেও নথিভুক্ত ও পরীক্ষা করা।
গাজায় মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে ব্যবহৃত তথ্য স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের হিসাব থেকে আসে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি সামগ্রিক সংখ্যাকে নিয়মিত ব্যবহার করলেও যুদ্ধের মধ্যে প্রতিটি মৃত্যুর তাৎক্ষণিক স্বাধীন যাচাই কঠিন। এই সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করা সংখ্যাটিকে অস্বীকার করা নয়; বরং সংবাদ ও তথ্যচিত্রে উৎসটি স্পষ্ট রাখার নিয়ম।
ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের একটি বড় নৈতিক প্রশ্ন তোলে। কোনও ব্যবস্থা দ্রুত সম্ভাব্য লক্ষ্য সাজিয়ে দিলেই সিদ্ধান্ত নিরপেক্ষ বা নির্ভুল হয়ে যায় না। ব্যবহৃত তথ্য ভুল হতে পারে, শ্রেণিবিন্যাসের মানদণ্ড অস্বচ্ছ থাকতে পারে এবং মানব অনুমোদন কেবল আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হতে পারে। প্রযুক্তি সিদ্ধান্তের গতি বাড়ায়; দায় মুছে দেয় না।
ভেনিসে পুরস্কার পাওয়ার পরে ছবিটিকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও তীব্র হয়েছে। কিন্তু নির্মাতার নাগরিকত্ব বা পুরস্কারের বিতর্ক দিয়ে ছবির তথ্যের পরীক্ষা প্রতিস্থাপন করা যাবে না। নাজা-র গুরুত্ব আবেগের তীব্রতায় নয়; যুদ্ধের যন্ত্রের ভিতর থেকে আসা দাবিগুলিকে আরও স্বাধীন অনুসন্ধানের সামনে নিয়ে আসায়।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



