বশেষে একটু বসার অবসর পেলেও কি মাথার ভিতরে চিন্তার দৌড় থামতে চায় না? শরীরের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়তো মনের সেই ব্যস্ততা কমানোর একটি উপায় হতে পারে।

প্রাচীন চিনা শরীর ও মনের অনুশীলন ‘তাই চি’কে প্রায়ই বলা হয় ‘চলমান ধ্যান’। ৪ জুন প্রকাশিত একটি নিবন্ধে হার্ভার্ড হেলথ ব্যাখ্যা করেছে, কী ভাবে এই অনুশীলনের ধীর গতিবিধি, শ্বাসপ্রশ্বাস এবং নির্দেশনা মেনে মনে প্রশান্তিদায়ক ছবি কল্পনা করার পদ্ধতি শিথিল হতে ও মানসিক চাপের কিছু প্রভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে।

চোখ বন্ধ করে চুপচাপ বসে থাকার চেয়ে এই অভিজ্ঞতা আলাদা। তাই চি শেখায়, শরীর নড়াচড়া করার সময়েই সেই নড়াচড়ার দিকে মনোযোগ দিতে।

তাই চি কী?

তাই চি হল ধীর, ছন্দময় ও একটির সঙ্গে অন্যটি মিশে যাওয়া নানা অঙ্গভঙ্গির অনুশীলন। এগুলি করার সময় নিজের শ্বাসপ্রশ্বাস ও শরীরের দিকে মনোযোগ রাখতে হয়।

হার্ভার্ড হেলথের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই অনুশীলনে ধীর ও সাবলীল নড়াচড়ার সঙ্গে গভীর শ্বাসপ্রশ্বাস এবং নির্দেশিত কল্পনার সমন্বয় ঘটে। নিবন্ধটি বলছে, এই পদ্ধতি শরীর ও মনকে শিথিল হতে সাহায্য করতে পারে। ব্যস্ত দিনের মধ্যে কিছুক্ষণের জন্য বিরতি নেওয়ার মৃদু ও সহজ কোনও উপায় যাঁরা খুঁজছেন, তাঁদের কাছে এই সমন্বয় আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।

কেন একে বলা হয় ‘চলমান ধ্যান’?

হার্ভার্ড হেলথ এর আগেও তাই চি-কে ‘চলমান ধ্যান’ বলে বর্ণনা করেছে। কারণ, এতে নড়াচড়া করতে করতেই শরীর ও শ্বাসপ্রশ্বাসের দিকে মনোযোগ দেওয়া হয়।

একবার ভাবুন, সারা দিনে কত কাজই আমরা করি নিজের শরীরের দিকে খেয়াল না রেখে। হাঁটতে হাঁটতে ফোন দেখি। খেতে খেতে ইমেলের উত্তর দিই। সিঁড়ি ভাঙার সময় মাথায় ঘোরে পরের কাজের চিন্তা।

তাই চি ঠিক উল্টো অভ্যাসটি গড়ে তুলতে বলে। গতি কমান। নিজের নড়াচড়া লক্ষ করুন। শ্বাসপ্রশ্বাসের দিকে মন দিন। মনোযোগের এই সামান্য পরিবর্তনই শরীরচর্চার মুহূর্তকে নিজের শরীর ও বর্তমান সম্পর্কে সচেতন থাকার অভিজ্ঞতায় বদলে দিতে পারে।

মানসিক চাপ কমাতে কী ভাবে সাহায্য করে?

হার্ভার্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, তাই চি প্রশান্তি আনতে এবং মানসিক চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ এবং সংশ্লিষ্ট হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালির সমস্যা।

তবে এর অর্থ এই নয় যে, চিকিৎসার পরিবর্তে তাই চি করা উচিত। কোনও অসুস্থতা থাকলে কিংবা শরীরচর্চা নিয়ে সংশয় থাকলে নতুন অনুশীলন শুরু করার আগে চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন।

এই অনুশীলনের অন্যতম আকর্ষণ তার কোমল, ধীর গতি। বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ ধরে রাখার অভ্যাস করতে নিজেকে ক্লান্তির শেষ সীমায় ঠেলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

বাড়িতে কী ভাবে শুরু করবেন?

অল্প করে শুরু করুন। এমন একটি আরামদায়ক জায়গা বেছে নিন, যেখানে দাঁড়িয়ে নড়াচড়া করলে আসবাবপত্রে ধাক্কা লাগবে না। অঙ্গভঙ্গি রাখুন ধীর ও কোমল। মনোযোগ দিন শ্বাসপ্রশ্বাসে।

শুরুতেই জটিল কোনও অনুশীলন হুবহু নকল করার চেষ্টা না করে খেয়াল করুন, আপনার পায়ের পাতা কী ভাবে মাটিতে ভর রাখছে। একটি ভঙ্গি থেকে অন্য ভঙ্গিতে যাওয়ার সময় শরীর কী ভাবে নড়ছে, তা অনুভব করুন।

তাই চি বিষয়ে হার্ভার্ডের নির্দেশনাতেও নতুনদের অল্প সময় ধরে অনুশীলন শুরু করে ধীরে ধীরে সময় বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

তাই পরের বার যখন মনে হবে দিনটা শুধুই তাড়াহুড়োর মধ্যে কাটছে, তখন সহজ একটি চেষ্টা করতে পারেন। শরীরের গতি একটু কমান, শ্বাসপ্রশ্বাস লক্ষ করুন, আর যে মুহূর্তটিতে রয়েছেন, মনোযোগ দিন সেই মুহূর্তেই।