রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে ব্রিকস বাজার: পেজেশকিয়ান ও কন্যাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা দিল্লির

যা জানা জরুরি
- রাষ্ট্রপতি ভবনের বিশেষ আতিথেয়তা থেকে শিল্পের বাজারে ঘোরাঘুরি—ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে আসা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও তাঁর কন্যা জাহরাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাল দিল্লি।
- পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আবহে এই সফরে উঠে এল ভারত ও ইরানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, সাংস্কৃতিক আত্মীয়তা এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগের প্রসঙ্গ।
- রাষ্ট্রীয় সৌজন্যের পাশাপাশি সফরের সাংস্কৃতিক পর্বও নজর কেড়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
রাষ্ট্রপতি ভবনের বিশেষ আতিথেয়তা থেকে শিল্পের বাজারে ঘোরাঘুরি—ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে আসা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও তাঁর কন্যা জাহরাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাল দিল্লি। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আবহে এই সফরে উঠে এল ভারত ও ইরানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, সাংস্কৃতিক আত্মীয়তা এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগের প্রসঙ্গ। রাষ্ট্রীয় সৌজন্যের পাশাপাশি সফরের সাংস্কৃতিক পর্বও নজর কেড়েছে।
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনের আগে পেজেশকিয়ানকে রাষ্ট্রপতি ভবনে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। এবারের সম্মেলনে আগত নেতাদের মধ্যে একমাত্র ইরানের প্রেসিডেন্টই রাষ্ট্রপতি ভবনের এই আতিথেয়তা পেয়েছেন। প্রথম ভারত সফরে আসা পেজেশকিয়ানকে স্বাগত জানিয়ে মুর্মু ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বে ইরানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। দুই নেতা ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন; মুর্মু অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রপতি ভবনে পেজেশকিয়ান ঘুরে দেখেন অশোক মণ্ডপও। সেখানে সংরক্ষিত রয়েছে ইরানের কাজার রাজবংশের আমলের পারস্য চিত্রকলা। ফতহ আলি শাহ কাজারের রাজত্বকালের এই শিল্পসম্ভার সফরে অতীতের সাংস্কৃতিক সংযোগের একটি দৃশ্যমান সূত্র হয়ে ওঠে। সমসাময়িক কূটনীতির সঙ্গে পুরনো শিল্পঐতিহ্যের এই উপস্থিতি ভারত ও ইরানের সম্পর্কের বিস্তৃত পটভূমিকে সামনে আনে।
এর আগের দিন, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন পেজেশকিয়ান। দু’সপ্তাহেরও কম ব্যবধানে এটি তাঁদের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ; ৩১ আগস্ট বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনের অবসরেও তাঁদের আলোচনা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ব্রিকসের বৈঠকগুলিতে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব বজায় রাখায় ইরানকে ধন্যবাদ জানান মোদী।
আলোচনায় পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও জায়গা পায়। মোদী জানান, আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত। স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার পাশাপাশি অবাধ নৌচলাচল, বাণিজ্য এবং নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি। ব্রিকসসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানে পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়ে দুই দেশের সহযোগিতার কথাও বৈঠকে উঠে আসে।
অন্যদিকে, শনিবার জাহরা পেজেশকিয়ান যান তিন মূর্তি ভবন চত্বরে প্রধানমন্ত্রীর সংগ্রহশালায়। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীদের জীবন, কাজ ও অবদান নিয়ে সাজানো প্রদর্শনী দেখেন। দিল্লির ইরানি দূতাবাস তাঁর সফরের কথা জানিয়ে সফরের দৃশ্যও প্রকাশ করে। রাষ্ট্রনেতাদের বৈঠকের বাইরে ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয়ের সুযোগ তৈরি হয় এই পরিদর্শনে।
জাহরার সফরের আরেক আকর্ষণ ছিল ভারত মণ্ডপমের পাশের জাতীয় হস্তশিল্প সংগ্রহশালায় আয়োজিত ব্রিকস বাজার। স্বামী হাসান মাজিদিকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সেখানে যান। কেন্দ্রীয় নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী তাঁদের বিভিন্ন প্রদর্শনী ঘুরিয়ে দেখান। সদস্য ও সহযোগী দেশগুলির বস্ত্রশিল্প, কারুশিল্প এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে অতিথিদের জানান তিনি। ইরানের প্রদর্শনীও ঘুরে দেখেন জাহরা।
সামাজিক মাধ্যমে অন্নপূর্ণা দেবী জানান, ইরানের প্রেসিডেন্টের কন্যাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি আনন্দিত। অতিথিদের সামনে বিভিন্ন দেশের সমৃদ্ধ শিল্পঐতিহ্য তুলে ধরার সুযোগ হয়েছে তাঁর। জাহরার সঙ্গে বাজার পরিদর্শনের কিছু ছবিও প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
বিদেশ মন্ত্রক ও বস্ত্র মন্ত্রকের যৌথ উদ্যোগে ১০ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর আয়োজিত এই বাজারে রয়েছে নানা দেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্ম। বয়নশিল্প, ইকত নকশা, জরির কাজ এবং ছাপা ও রং করা সুতি ও রেশমি কাপড় তার উল্লেখযোগ্য অংশ। ব্রাজিলের মাটির শিল্প থেকে বেলারুশের উইলো ডাল বোনার কাজ—বৈচিত্র্যময় কারুশিল্পের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী দেশগুলির পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। দর্শকদের জন্য প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে সন্ধ্যা ছ’টা পর্যন্ত বাজার খোলা থাকছে। শিল্পের মাধ্যমে সংস্কৃতি ও মানুষের সংযোগ গড়াই আয়োজনের মূল ভাবনা।
ফলে পেজেশকিয়ান পরিবারের দিল্লি সফরে পাশাপাশি দেখা গেল রাষ্ট্রীয় আলোচনা, ইতিহাসের স্মারক এবং জীবন্ত শিল্পচর্চা। যুদ্ধ ও আঞ্চলিক অস্থিরতা নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে এই সাংস্কৃতিক আয়োজন দুই দেশের সম্পর্কের মানবিক দিকটিকেও দৃশ্যমান করল।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



