খবর

তেরো দিনের শোকশেষে রাজা হারাল্ডকে বিদায়, অসলোর পথে জনস্রোত

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: নরওয়ের রাজা পঞ্চম হারাল্ডকে শেষ বিদায় জানাতে বুধবার রাজধানী অসলোর রাস্তায় নামলেন হাজার হাজার মানুষ।
  • ইউরোপের রাজপরিবারগুলির সদস্য এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতাদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হল অন্ত্যেষ্টির প্রধান অনুষ্ঠান।
  • গত মাসে ৮৯ বছর বয়সে মৃত্যু হয় তিন দশকেরও বেশি সময় সিংহাসনে থাকা এই রাজার।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: নরওয়ের রাজা পঞ্চম হারাল্ডকে শেষ বিদায় জানাতে বুধবার রাজধানী অসলোর রাস্তায় নামলেন হাজার হাজার মানুষ। ইউরোপের রাজপরিবারগুলির সদস্য এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতাদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হল অন্ত্যেষ্টির প্রধান অনুষ্ঠান। দেশজুড়ে পালিত হল এক মিনিটের নীরবতা। এর মধ্য দিয়ে শেষ হল তেরো দিনের জাতীয় শোক। গত মাসে ৮৯ বছর বয়সে মৃত্যু হয় তিন দশকেরও বেশি সময় সিংহাসনে থাকা এই রাজার।

রাজপ্রাসাদ থেকে অসলোর প্রধান সড়ক ধরে ক্যাথিড্রালের দিকে এগোয় শোকযাত্রা। কামানবাহী গাড়িতে রাখা ছিল হারাল্ডের কফিন। তার উপর নরওয়ের লাল রাজপতাকা এবং সাদা ফুল। আকেরশুস দুর্গ থেকে একুশবার তোপধ্বনি দিয়ে প্রয়াত রাজাকে সম্মান জানানো হয়। রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে মানুষ বিদায় জানান তাঁদের দীর্ঘদিনের পরিচিত রাজাকে।

বাবার মৃত্যুর পরে সিংহাসনে বসা রাজা অষ্টম হাকন এবং রাজপরিবারের অন্য সদস্যেরা কফিনের পিছনে হেঁটে যান। গাড়িতে ছিলেন হারাল্ডের স্ত্রী, ৮৯ বছরের রানি সোনিয়া এবং নতুন রানি মেটে-মারিত। জুন মাসে ফুসফুস প্রতিস্থাপনের পরে এখনও সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন মেটে-মারিত।

ক্যাথিড্রালের প্রার্থনানুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটেনের যুবরাজ উইলিয়াম ও রাজকুমারী অ্যান, স্পেনের রাজা ফেলিপে ও রানি লেতিসিয়া, সুইডেনের রাজপরিবার, ডেনমার্কের রাজা ফ্রেডেরিক ও রানি মেরি। এসেছিলেন নেদারল্যান্ডসের রাজা উইলেম-আলেকজান্ডার ও রানি ম্যাক্সিমা এবং জাপানের যুবরাজ আকিশিনোও। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি-সহ কুড়িটিরও বেশি দেশের রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

স্মৃতিচারণে উঠে আসে হারাল্ডের অনাড়ম্বর স্বভাব এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যাওয়ার ক্ষমতা। নরওয়ের পার্লামেন্টের স্পিকার মাসুদ গারাখানি বলেন, রবারের বুট পরে নিজের দেশের মানুষের কাছে পৌঁছতে দ্বিধা করতেন না রাজা। প্রধানমন্ত্রী ইউনাস গার স্তোরের বক্তব্য, রাজকীয় মর্যাদা ও মাটির কাছাকাছি থাকার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেছিলেন হারাল্ড। তাঁর নরওয়ের ধারণায় প্রত্যেকে ছিলেন পরস্পরের পাশে।

প্রার্থনা শেষে ক্যাথিড্রালের উপর দিয়ে উড়ে যায় চারটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান। রাজার প্রয়াণের প্রতীক হিসেবে একটি বিমান দল ছেড়ে সরে যায়। এর পরে কফিন নিয়ে যাওয়া হয় আকেরশুস দুর্গে। সেখানে পারিবারিক অনুষ্ঠানে বাবা-মা ও পূর্বপুরুষদের পাশে রাজসমাধিতে তাঁকে সমাহিত করার কথা।

পুলিশ জানিয়েছে, অন্ত্যেষ্টির নিরাপত্তা ছিল বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পূর্বপরিকল্পিত অভিযান। গত এক সপ্তাহে ৪৬ হাজারেরও বেশি মানুষ কফিনের পাশ দিয়ে গিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য স্কুলপড়ুয়াদের ক্লাসে অনুপস্থিত থাকার অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল।

রাজপ্রাসাদের বাইরে অস্থায়ী স্মৃতিবেদিতে রাখা হয়েছিল হারাল্ডের একটি প্রতিকৃতি। চারপাশে জমেছে ফুল এবং নরওয়ের পতাকা। দেশের মানুষের সেই শ্রদ্ধার ছবির পাশাপাশি অন্ত্যেষ্টিতে বিদেশি প্রতিনিধিদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দেয়। দীর্ঘ রাজত্বে সহজ ব্যবহার এবং ধীরে সংস্কারের পথ নেওয়া হারাল্ডের বিদায়ে রাজধানীর রাজপথ হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষ ও রাজপরিবারের মিলিত শোকস্থল।

তবে এই বিদায়ের আবহেও রাজপরিবারের সাম্প্রতিক বিতর্ক আড়ালে থাকেনি। প্রয়াত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ৫৩ বছরের নতুন রানি মেটে-মারিত। প্রধানমন্ত্রীও সেই সম্পর্ক নিয়ে সমালোচনা করেছেন।

মেটে-মারিতের আগের সম্পর্কের সন্তান মারিউস বোর্গ হইবিকে অন্ত্যেষ্টিতে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। ধর্ষণ ও পারিবারিক হিংসার মামলায় দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে তাঁর আবেদন বিচারাধীন। তিনি গৃহবন্দি এবং পায়ে নজরদারির যন্ত্র পরা অবস্থায় রয়েছেন। রাজকীয় উপাসনালয়ে কফিন স্থানান্তরের সময়ে বহনকারীদের মধ্যেও ছিলেন তিনি।

বিতর্ক সত্ত্বেও নরওয়েতে রাজতন্ত্রের জনসমর্থন যথেষ্ট শক্তিশালী। সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকে-র জন্য করা সমীক্ষায় ৭২ শতাংশ মানুষ রাজতন্ত্রের পক্ষে মত দিয়েছেন। প্রজাতন্ত্র বা অন্য ধরনের শাসনব্যবস্থা চান ২০ শতাংশ। হারাল্ডের প্রতি জনসমাগম এবং এই সমর্থনের হিসাব পাশাপাশি সামনে এল এমন এক সময়ে, যখন নতুন রাজাকে দায়িত্ব নিতে হচ্ছে পারিবারিক সংকটের মধ্যেই।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles