ডিজিসিএ-র কড়াকড়ি, দেশের সব বিমানচালকের মাদক পরীক্ষা শুরু

যা জানা জরুরি
- ভারতীয় বিমানসংস্থাগুলির প্রায় ১৪ হাজার বিমানচালকের প্রত্যেককে মাদক পরীক্ষার আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছে অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ।
- আগামী ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে এই এককালীন পরীক্ষা শেষ করতে হবে।
- ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অগস্টেই সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ভারতীয় বিমানসংস্থাগুলির প্রায় ১৪ হাজার বিমানচালকের প্রত্যেককে মাদক পরীক্ষার আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছে অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ। আগামী ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে এই এককালীন পরীক্ষা শেষ করতে হবে। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অগস্টেই সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। ফুকেত থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের একটি ঘটনার পরে এই কড়াকড়ি।
বর্তমান ব্যবস্থায় বছরে বিমানচালকদের অন্তত ১০ শতাংশকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে মাদক পরীক্ষা করাতে হয়। এবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রত্যেক বিমানচালককে অন্তত একবার পরীক্ষা করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সমস্ত চালকের প্রতিবছর পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব এবং এখনকার এককালীন নির্দেশ আলাদা। অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী কে রামমোহন নাইডু জানিয়েছেন, আরও কঠোর পরীক্ষাবিধির খসড়া সেপ্টেম্বরের শেষে প্রকাশিত হতে পারে।
ঘটনার সূত্রপাত ৪ অগস্ট। ফুকেত থেকে দিল্লি আসার পথে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি এয়ারবাস বিমান আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট নেমে যায়। পরবর্তী পরীক্ষায় প্রধান বিমানচালকের শরীরে নিষিদ্ধ মাদকের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এর পরেই নিজেদের সমস্ত বিমানচালকের পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নেয় এয়ার ইন্ডিয়া। এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের চালকদেরও এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরোর প্রাথমিক প্রতিবেদনে ওই উড়ানে ২৪ জন আহত হওয়ার কথা উঠে এসেছে। বিমানের তিনটি হাইড্রলিক ব্যবস্থায় সাময়িক চাপহ্রাসের ঘটনাও তদন্তাধীন। ফলে চালকের পরীক্ষায় মাদকের উপস্থিতি এবং বিমানের বিপজ্জনক আচরণের মধ্যে সরাসরি কার্যকারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত এখনই টানা যায় না। গত ৪ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট চালককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার কথা জানায় এয়ার ইন্ডিয়া।
মাদক পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় একাধিক ধাপ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মীর প্রস্রাবের নমুনা দুটি পাত্রে ভাগ করে রাখা হয়। প্রথম নমুনার প্রাথমিক পরীক্ষায় নিষিদ্ধ পদার্থ থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেলে বিমানচালককে সঙ্গে সঙ্গে উড়ানের দায়িত্ব থেকে সরানো হয়। এরপর দ্বিতীয় নমুনা নির্দিষ্ট পরীক্ষাগারে পাঠিয়ে আরও নির্ভুল পদ্ধতিতে ফল যাচাই করা হয়। কারণ, কিছু ওষুধ, খাদ্যদ্রব্য অথবা কারিগরি ত্রুটির জন্য প্রাথমিক পরীক্ষায় বিভ্রান্তিকর ফল আসতে পারে।
দ্বিতীয় পরীক্ষাতেও মাদকের উপস্থিতি ধরা পড়লে চিকিৎসা পর্যালোচকের মতামত নিতে হয়। ফলটি বৈধ চিকিৎসায় ব্যবহৃত কোনও ওষুধের কারণে এসেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। মাদকের অপব্যবহার নিশ্চিত হলে প্রথমবার সংশ্লিষ্ট কর্মীকে চিকিৎসা, পরামর্শ বা নেশামুক্তি কর্মসূচিতে পাঠানো হয়। কাজে ফিরতে নতুন পরীক্ষায় মাদকমুক্ত হওয়ার প্রমাণ এবং শারীরিক সক্ষমতার শংসাপত্র প্রয়োজন।
দ্বিতীয়বার একই অপরাধ ধরা পড়লে তিন বছরের জন্য উড়ান চালানোর অনুমতিপত্র স্থগিত হয়। তৃতীয়বার ধরা পড়লে তা বাতিল করা হয়। অর্থাৎ বর্তমান ব্যবস্থায় প্রথম পরীক্ষার সন্দেহজনক ফলকেই চূড়ান্ত অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় না; নিশ্চিত পরীক্ষা, চিকিৎসাগত মূল্যায়ন এবং পরবর্তী পদক্ষেপের আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে।
এদিকে বিমানচালকদের সংগঠন ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান পাইলটসও পরীক্ষার পরিধি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের সভাপতি ক্যাপ্টেন সি এস রণধাওয়া ডিজিসিএকে বার্ষিক পরীক্ষার হার অন্তত ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শে নেওয়া ওষুধ, দোকান থেকে কেনা সাধারণ ওষুধ, ভেষজ প্রস্তুতি এবং খাদ্যপরিপূরকের প্রভাব সম্পর্কে চালকদের সচেতন করার কর্মসূচি চেয়েছেন। কোন পদার্থ সতর্কতা বা কর্মক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং কোনটি পরীক্ষার ফল বদলে দিতে পারে, সে বিষয়ে চালকের ধারণা থাকা দরকার বলে জানিয়েছে সংগঠন।
নতুন নির্দেশের তাৎপর্য তাই পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধিতেই সীমাবদ্ধ নয়। এতদিন দৈবচয়নের ব্যবস্থায় কোনও চালক নির্দিষ্ট বছরে পরীক্ষার বাইরে থাকতে পারতেন। এককালীন সর্বজনীন পরীক্ষায় সেই ফাঁক কমবে। তবে নিয়মিত বার্ষিক পরীক্ষার চূড়ান্ত কাঠামো কী হবে, তা আসন্ন খসড়া এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তেই স্পষ্ট হবে। আপাতত বিমানসংস্থাগুলির দায়িত্ব, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্ত চালকের পরীক্ষা সম্পন্ন করা।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



