তৃণমূলের দখল কার, মমতা ও ঋতব্রত শিবিরকে বৈঠকে ডাকল কমিশন

যা জানা জরুরি
- তৃণমূল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরকে বৈঠকে ডাকল নির্বাচন কমিশন।
- এক দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা, অন্য দিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী।
- দলের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারের অধিকার নিয়ে উভয় পক্ষের দাবির মধ্যেই এই পদক্ষেপ।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
তৃণমূল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরকে বৈঠকে ডাকল নির্বাচন কমিশন। এক দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা, অন্য দিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী। দলের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারের অধিকার নিয়ে উভয় পক্ষের দাবির মধ্যেই এই পদক্ষেপ। বুধবার কমিশনের আমন্ত্রণের খবর সামনে আসে। এর ফলে দলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় নতুন পর্ব শুরু হতে চলেছে।
১২ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির নির্বাচন সদনে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের ডাকা হয়েছে। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে মনোনয়ন জমার শেষ দিন ১৬ সেপ্টেম্বর। তার আগে বিরোধ মেটানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ওই সময়ের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে, এমন নিশ্চয়তা মেলেনি। নিষ্পত্তি না হলে পরিচিত নাম ও প্রতীক নিয়ে ভোটে নামা অনিশ্চিত হতে পারে। উপনির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে ৯ সেপ্টেম্বর। মনোনয়নপত্র পরীক্ষা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর এবং নাম প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৯ সেপ্টেম্বর। ফলে প্রার্থী বাছাইয়ের পাশাপাশি কোন পরিচয়ে তাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, সেই প্রশ্নেও দ্রুত স্পষ্টতা প্রয়োজন।
বুধবার ঋতব্রত শিবিরের প্রতিনিধিরা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নীলম মীনার সঙ্গে দেখা করে অবাধ, শান্তিপূর্ণ ভোটের দাবি জানান। বিধায়ক অরূপ রায়ের স্বাক্ষরিত আবেদনও জমা পড়ে। এই গোষ্ঠী জানিয়েছে, নন্দীগ্রামে তারা প্রার্থী দিতে চায়। তবে মমতা নিজে সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে প্রার্থী দেওয়া থেকে বিরত থাকবে।
মমতা শিবির পাল্টা কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মুখপাত্র অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বিদ্রোহীরা নির্ধারিত সময়ে জবাব না দিলেও তাঁদের সময় দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, আইনগত ও নৈতিকভাবে তৃণমূল মমতারই দল। প্রয়োজন হলে আদালতে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। ফলে কমিশনের সিদ্ধান্তের পরেও বিরোধ অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা থাকছে।
এই সংঘাতের সূত্রপাত অবশ্য সাম্প্রতিক আমন্ত্রণে নয়। জুলাইয়ের গোড়াতেই কমিশন দুই পক্ষের কাছে দলের সাংগঠনিক নির্বাচন এবং অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীদের বিষয়ে দাবি ও পাল্টা দাবির ব্যাখ্যা চেয়েছিল। অর্থাৎ বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে কে দলের হয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, কার নেতৃত্ব বৈধ এবং কোন গোষ্ঠী দলীয় পরিচয় ব্যবহার করতে পারে—সেই প্রশ্নগুলি। বৈঠকের তাৎপর্য বুঝতে এই পূর্ববর্তী প্রক্রিয়াটিও জরুরি, কারণ নেতৃত্বের রাজনৈতিক দাবি এবং তার সমর্থনে পেশ করা সাংগঠনিক নথি এখানে একসঙ্গে যাচাইয়ের বিষয়।
বিরোধের আর একটি দিক দলীয় গঠনতন্ত্র। জুনের একটি প্রতিবেদনে জানা যায়, ঋতব্রত শিবির দাবি করেছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত জাতীয় কর্মসমিতির তিন বছরের মেয়াদ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতেই শেষ হয়েছে। অন্য দিকে কমিশনের কাছে জমা পড়া সংশোধিত গঠনতন্ত্রে পাঁচ বছর অন্তর কর্মসমিতির নির্বাচনের বিধান রয়েছে। সেই সংশোধনের বৈধতা এবং নেতৃত্ব নির্বাচনের সিদ্ধান্তগুলি যাচাইয়ের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
প্রতীকসংক্রান্ত বিরোধ বিচারে দলের সাংগঠনিক ও আইনসভাগত সমর্থনের পাশাপাশি গঠনতন্ত্র এবং ঘোষিত লক্ষ্য অনুসরণের প্রশ্নও বিবেচনায় আসে। তাই কোনও একটি শিবিরের সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি নিজে থেকেই নিষ্পত্তি নয়। সমর্থনের নথি, নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রস্তাব এবং পাল্টা বহিষ্কারের বিবরণ প্রাসঙ্গিক হতে পারে। ভোট আসন্ন হলে চূড়ান্ত মীমাংসার আগে প্রতীক সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ব্যবস্থাও কমিশন নিতে পারে।
রাজনৈতিকভাবে এই বিরোধের তাৎপর্য স্পষ্ট। একই দলের উত্তরাধিকার দাবি করে দুই গোষ্ঠী ভোটে নামতে চাইলে কর্মী, প্রার্থী ও ভোটারদের কাছে পরিচয়ের প্রশ্ন তৈরি হয়। দলীয় প্রতীক সেই পরিচয়ের দৃশ্যমান বাহন। ফলে প্রতীক ব্যবহারের অধিকার কার হাতে যাচ্ছে, তা প্রচার এবং সংগঠন পরিচালনায় প্রভাব ফেলতে পারে। উপনির্বাচনের সময়সীমা বিষয়টিকে আরও জরুরি করেছে।
তবে বৈঠকের আমন্ত্রণকে কোনও পক্ষের দাবির স্বীকৃতি বলে ধরে নেওয়া যায় না। দুই শিবিরের বক্তব্য শোনার পরে কমিশন কী অবস্থান নেয়, সেটিই দেখার। আপাতত তৃণমূলের দুই অংশের সামনে রাজনৈতিক সমর্থন প্রদর্শনের পাশাপাশি নিজেদের সাংগঠনিক বৈধতার দাবি প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জ।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



