পরমাণু কোডের পাশেই চুলের ‘প্যাচ কিট’! ট্রাম্পের গোপন রহস্য ফাঁস জীবনীকারের

যা জানা জরুরি
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেখানে যান, সঙ্গে থাকে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ পাঠানোর বিশেষ ব্রিফকেস।
- কিন্তু সেই অতিগোপনীয় ‘নিউক্লিয়ার ফুটবল’-এর কাছাকাছিই নাকি ঘোরাফেরা করে আরও একটি জরুরি সরঞ্জাম—ট্রাম্পের চুল মেরামতির ‘প্যাচ কিট’।
- দীর্ঘদিনের ট্রাম্প-জীবনীকার মাইকেল উলফের এই চাঞ্চল্যকর দাবি ঘিরে নতুন করে চর্চায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিখ্যাত সোনালি কেশবিন্যাস।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেখানে যান, সঙ্গে থাকে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ পাঠানোর বিশেষ ব্রিফকেস। কিন্তু সেই অতিগোপনীয় ‘নিউক্লিয়ার ফুটবল’-এর কাছাকাছিই নাকি ঘোরাফেরা করে আরও একটি জরুরি সরঞ্জাম—ট্রাম্পের চুল মেরামতির ‘প্যাচ কিট’। দীর্ঘদিনের ট্রাম্প-জীবনীকার মাইকেল উলফের এই চাঞ্চল্যকর দাবি ঘিরে নতুন করে চর্চায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিখ্যাত সোনালি কেশবিন্যাস।
‘ইনসাইড ট্রাম্পস হেড’ নামের অনুষ্ঠানে সাংবাদিক জোয়ানা কোলসের সঙ্গে কথোপকথনের সময় উলফ দাবি করেন, ট্রাম্পের সফরসঙ্গীদের মধ্যে কারও দায়িত্ব থাকে বিশেষ ওই বাক্সটি বহন করার। তার ভিতরে থাকে বিভিন্ন রঙের ছোট ছোট চুলের গোছা। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের মাথার চুলের তৎকালীন রঙের সঙ্গে মিলিয়ে সেগুলি ব্যবহার করা হয়। একধরনের আঠালো মিশ্রণ দিয়ে সেই কৃত্রিম চুল মাথায় লাগানো হয় বলেও তাঁর দাবি।
ট্রাম্পের চুল কখনও উজ্জ্বল সোনালি, কখনও ফিকে হলুদ, আবার কখনও প্রায় বাদামি দেখায়। সম্প্রতি এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে নামার সময় তাঁর চুলকে স্বাভাবিকের তুলনায় গাঢ় দেখানোর পরেই সমাজমাধ্যমে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছিল। সেই আলোচনার মধ্যেই উলফের ‘প্যাচ কিট’ তত্ত্ব প্রকাশ্যে এল।
জীবনীকারের ভাষায়, ট্রাম্পের চুলের রক্ষণাবেক্ষণ দীর্ঘদিন ধরেই একটি ‘বিরাট কর্মযজ্ঞ’। তবে সব কাজ কোনও পেশাদার কেশসজ্জাকারী করেন না। ট্রাম্প নিজেই নাকি চুল সাজানোর অনেকটা দায়িত্ব সামলান। গোলমাল দেখা দিলে জরুরি মেরামতির কাজে লাগে ওই প্যাচ। রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে আলাদা আলাদা সহযোগী কিটটি বহন করেছেন বলে উলফ জানিয়েছেন। বর্তমানে কার হাতে সেটি থাকে, তা অবশ্য তিনি নিশ্চিত করে বলেননি।
ট্রাম্পের চুল নিয়ে রহস্য নতুন নয়। উলফ তাঁর বহুল আলোচিত বই ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি-তে দাবি করেছিলেন, মাথার উপরের অংশের টাক ঢাকতে চার পাশের চুল বিশেষ কায়দায় মাঝখানে এনে পিছনের দিকে আঁচড়ে দেওয়া হয় এবং শক্ত স্প্রে দিয়ে আটকে রাখা হয়। সেই বর্ণনার সূত্র হিসেবে তিনি ট্রাম্প-কন্যা ইভাঙ্কার কথাও উল্লেখ করেছিলেন। ট্রাম্প অবশ্য বরাবরই পরচুলা ব্যবহারের জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন। প্রবল বাতাসেও চুল মাথায় থাকার দৃশ্য দেখিয়ে তিনি একাধিকবার বলেছেন, সেটি তাঁর নিজেরই চুল।
তবে নতুন দাবিটির পক্ষে উলফ কোনও ছবি বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ প্রকাশ করেননি। হোয়াইট হাউসও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ফলে ‘প্যাচ কিট’-এর অস্তিত্ব এখনও জীবনীকারের দাবি হিসেবেই বিবেচ্য, প্রতিষ্ঠিত তথ্য নয়। তবু ট্রাম্পকে ঘিরে বিশ্বরাজনীতির অসংখ্য গুরুগম্ভীর প্রশ্নের ভিড়ে তাঁর চুলের রহস্য আবারও সংবাদশিরোনাম দখল করেছে—এবং আপাতত পরমাণু ব্রিফকেসের পাশেই জায়গা করে নিয়েছে কেশরক্ষার বাক্স।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



