নতুন প্রজন্ম আরও সৎ, লক্ষ্য ঠিক করে পথ বেছে নিতে দিন: মোহন ভাগবত

যা জানা জরুরি
- লন্ডনে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের এক অনুষ্ঠানে তরুণ প্রজন্মের ভূয়সী প্রশংসা করলেন সঙ্ঘপ্রধান মোহন ভাগবত।
- তাঁর মতে, প্রবীণদের তুলনায় নতুন প্রজন্ম অনেক বেশি সৎ।
- ছোটখাটো বিভেদ ঝেড়ে ফেলে পৃথিবীকে আরও সুন্দর করে তোলার মানসিকতাও তাদের রয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
লন্ডনে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের এক অনুষ্ঠানে তরুণ প্রজন্মের ভূয়সী প্রশংসা করলেন সঙ্ঘপ্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর মতে, প্রবীণদের তুলনায় নতুন প্রজন্ম অনেক বেশি সৎ। ছোটখাটো বিভেদ ঝেড়ে ফেলে পৃথিবীকে আরও সুন্দর করে তোলার মানসিকতাও তাদের রয়েছে। তরুণদের কাজের পদ্ধতি নির্ধারণ করে না দিয়ে কেবল লক্ষ্যটি বুঝিয়ে দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রবিবার লন্ডনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভাগবত বলেন, দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতার কারণে প্রবীণ প্রজন্ম সাধারণত অতিরিক্ত সতর্ক হয়ে চলে। সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে দুশ্চিন্তা করায় তারা অনেক সময় মনের কথা খোলাখুলি বলতে পারে না। কিন্তু নতুন প্রজন্মের চরিত্র আলাদা। কোনও বিষয়কে সঠিক বলে মনে করলে তরুণরা দ্বিধা না করে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তার ফল কী হতে পারে, সেই ভাবনা তাদের অযথা পিছিয়ে দেয় না।
সঙ্ঘপ্রধানের কথায়, “তরুণদের প্রয়োজনীয় তথ্য দিন, কিন্তু নিজেদের মত তাদের উপর চাপিয়ে দেবেন না। তাদের পথ তাদেরই খুঁজে নিতে দিন। লক্ষ্যটি স্থির করে দিন, পদ্ধতি নয়।” প্রবীণদের তুলনায় নতুন প্রজন্ম আরও দ্রুত এবং বেশি কার্যকর উপায়ে সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে বলে তিনি আস্থা প্রকাশ করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে এই নিয়ে একাধিক বার জেন-জেড এবং জেন-আলফার প্রশংসা করেছেন ভাগবত। গত মাসে মুম্বইয়ের একটি অনুষ্ঠানেও তিনি বলেছিলেন, তরুণদের প্রতিবাদকে দেশবিরোধিতা হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক নয়। গণতন্ত্রে প্রতিবাদও কথোপকথনের একটি স্বীকৃত মাধ্যম। নতুন প্রজন্ম কোনও বিষয়ে পথে নামলে তাদের উদ্বেগ মন দিয়ে শোনা দরকার। তরুণেরা যুক্তিগ্রাহ্য উত্তর চায়—কেবল প্রবীণদের নির্দেশ বলে বিনা প্রশ্নে কিছু মেনে নিতে তারা প্রস্তুত নয়।
দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র-যুবদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেছিলেন, জেন-জেড দেশেরই সন্তান। কোনও দাবি নিয়ে প্রতিবাদ করলেই তাদের ‘দেশবিরোধী’ বলা যায় না। ভাগবতের এই অবস্থান ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন সংগঠকের সমর্থনও পেয়েছিল। তাঁদের মতে, সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের উচিত তরুণদের প্রশ্নকে সন্দেহের চোখে না দেখে তার জবাব দেওয়া।
সঙ্ঘের শতবর্ষ উপলক্ষে আন্তর্জাতিক জনসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্রিটেন সফর করছেন ভাগবত। লন্ডনে ধর্মীয় নেতা, শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। এর আগে নিউ ইয়র্ক ও টরন্টোতেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। বিদেশ সফরের বিভিন্ন বক্তৃতায় সামাজিক সম্প্রীতি, বহুত্ব এবং তরুণদের ভূমিকার উপর জোর দিয়েছেন সঙ্ঘপ্রধান।
লন্ডনের বক্তব্যে তরুণদের প্রতি তাঁর বার্তাটি স্পষ্ট—নতুন প্রজন্মকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা নয়, তাদের উপর আস্থা রাখাই প্রবীণদের প্রধান দায়িত্ব।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



