অভিজ্ঞ বিচারক ধরে রাখতে অবসরের বয়স ৬২ করার পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট

যা জানা জরুরি
- দেশের জেলা বিচারব্যবস্থায় অভিজ্ঞ বিচারকদের ধরে রাখতে তাঁদের অবসরের বয়স ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৬২ বছর করার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট।
- সাতটি রাজ্য ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছে।
- শীর্ষ আদালত তাদের দ্রুত চাকরিবিধি সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
দেশের জেলা বিচারব্যবস্থায় অভিজ্ঞ বিচারকদের ধরে রাখতে তাঁদের অবসরের বয়স ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৬২ বছর করার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। সাতটি রাজ্য ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছে। শীর্ষ আদালত তাদের দ্রুত চাকরিবিধি সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছে। অন্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে নিজেদের আপত্তি পুনর্বিবেচনা করে দু’সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে বলা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চের মতে, বিচারকের শূন্যপদের কারণে বিচারপ্রার্থীর ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার যেন ‘মরীচিকা’ হয়ে না থাকে। পাঁচ কোটির বেশি মামলা বিচারাধীন থাকার পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ বিচারকদের অবসর দিয়ে তাঁদের জায়গা দীর্ঘদিন শূন্য রাখা কোনও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা হতে পারে না। অভিজ্ঞ বিচারিক প্রতিভার ক্রমাগত ক্ষয় আটকানো এখন ‘সময়ের জরুরি দাবি’ বলে মন্তব্য করেছে বেঞ্চ।
ছত্তীসগঢ়, কর্নাটক, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, সিকিম, তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গ অবসরের বয়স ৬২ বছর করার প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিকে প্রয়োজনীয় চাকরিবিধি সংশোধন করতে হবে। তবে ৬০ বছরের পরে কোনও বিচারক স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও দু’বছর চাকরিতে থাকতে পারবেন না। তাঁর কর্মদক্ষতা, সততা এবং কাজ চালিয়ে যাওয়ার উপযুক্ততা মূল্যায়ন করবে সংশ্লিষ্ট হাই কোর্ট।
বিধি সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত সাত রাজ্যে ৬০ বছর পূর্ণ করা কোনও যোগ্য বিচারিক আধিকারিককে অবসর দেওয়া যাবে না। চলতি বছরের ৩১ মার্চ বা তার পরে যাঁরা অবসর নিয়েছেন, তাঁরা অন্য কোনও চাকরিতে যোগ না দিয়ে থাকলে পুনরায় বিচার বিভাগে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
রাজ্যগুলির একাংশের যুক্তি ছিল, অবসরের বয়স বাড়ালে সরকারি কোষাগারের উপরে অতিরিক্ত চাপ পড়বে। অন্য সরকারি কর্মীরাও একই দাবি তুলতে পারেন। সুপ্রিম কোর্ট এই দুই আশঙ্কাই খারিজ করে দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, সংবিধানের ২৩৩ এবং ২৩৫ অনুচ্ছেদ অনুসারে বিচারিক আধিকারিকদের নিয়োগ ও চাকরির শর্ত হাই কোর্টের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণাধীন। ফলে তাঁদের সঙ্গে সাধারণ সরকারি কর্মীদের সরল তুলনা চলে না।
আদালতের মতে, বিচারকদের আরও দু’বছর চাকরিতে রাখলে আর্থিক বোঝা বাড়ার পরিবর্তে অবসরকালীন সুবিধা ও পেনশন দেওয়ার দায় পিছিয়ে যাবে। নতুন বিচারক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ব্যয়ও সাময়িকভাবে কমবে। বিচারিক পরিষেবায় প্রবেশের বয়স সাধারণ সরকারি চাকরির তুলনায় বেশি হওয়ায় অবসরের বয়সে দু’বছরের ব্যবধানও যুক্তিসঙ্গত।
তবে প্রবীণদের ধরে রাখতে গিয়ে তরুণদের প্রবেশের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করা যাবে না বলে সতর্ক করেছে আদালত। কর্মদক্ষতা যাচাইয়ের মাধ্যমে অযোগ্যদের সরিয়ে কেবল দক্ষ, সৎ ও অভিজ্ঞ বিচারকদেরই ৬২ বছর পর্যন্ত রাখলে অভিজ্ঞতা এবং নতুন রক্ত—দুইয়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ভারসাম্য বজায় থাকবে বলে বেঞ্চের অভিমত।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



