ওয়াক্ফের জমি দখলের অভিযোগ, ফিরহাদ হাকিমের দুই সংস্থায় দুর্নীতি-তদন্ত কমিশনের তল্লাশি

যা জানা জরুরি
- প্রাক্তন কলকাতা মেয়র এবং রাজ্যের প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে যুক্ত দু’টি বেসরকারি সংস্থায় তল্লাশি চালাল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি তদন্ত কমিশন।
- বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কলকাতার নিউ আলিপুরে ‘হাকিম পলিমেকার প্রাইভেট লিমিটেড’ এবং ‘হাকিম কেমিক্যালস’-এর দফতর ও কারখানায় কমিশনের প্রতিনিধিরা যান।
- তাঁদের সঙ্গে ছিলেন নিউ আলিপুর থানার পুলিশকর্মীরা।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রাক্তন কলকাতা মেয়র এবং রাজ্যের প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে যুক্ত দু’টি বেসরকারি সংস্থায় তল্লাশি চালাল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি তদন্ত কমিশন। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কলকাতার নিউ আলিপুরে ‘হাকিম পলিমেকার প্রাইভেট লিমিটেড’ এবং ‘হাকিম কেমিক্যালস’-এর দফতর ও কারখানায় কমিশনের প্রতিনিধিরা যান। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন নিউ আলিপুর থানার পুলিশকর্মীরা।
তদন্তকারী কমিশন সূত্রের দাবি, জোহরা বেগম ওয়াক্ফ এস্টেটের জমি বেআইনি ভাবে দখল করে সেখানে ব্যবসা চালানোর অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এ দিনের অভিযান। ওই দুই সংস্থার পাশাপাশি ফিরহাদের স্ত্রীর নামে পরিচালিত ‘মেসার্স মার্বেল পয়েন্ট’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নথিপত্রও পরীক্ষা করা হয়েছে। তিনটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানই নিউ আলিপুরের টালিগঞ্জ সার্কুলার রোড এলাকায় অবস্থিত। তবে এখনও অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়নি।
বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ কমিশনের তিন সদস্য ৩৩, টালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিতে পৌঁছন। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে তাঁরা জমি, ব্যবসা এবং ভাড়াসংক্রান্ত বিভিন্ন নথি পরীক্ষা করেন। কমিশনের এক সদস্য জানিয়েছেন, যে তথ্য সংগ্রহের জন্য তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন, তার প্রয়োজনীয় অংশ পাওয়া গিয়েছে। তবে তদন্ত চলায় বিস্তারিত কিছু জানাতে চাননি তিনি।
‘হাকিম পলিমেকার’-এর নিজস্ব পরিচিতি অনুযায়ী, সংস্থাটি বিভিন্ন ধরনের পলিথিন ও প্লাস্টিকজাত সামগ্রী তৈরি এবং বিক্রি করে। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ফিরহাদ হাকিমের নাম উল্লেখ রয়েছে। প্রকাশিত কোম্পানি-তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল নথিভুক্ত হয় এবং ফিরহাদ ও সমীর ঘোষ তার পরিচালক। অন্য দিকে, ফিরহাদের বক্তব্য, এই জায়গায় তাঁর ব্যবসা চলছে ১৯৮৫ সাল থেকে—রাজনীতিতে প্রবেশেরও আগে।
তল্লাশির সময় ফিরহাদ বা তাঁর পরিবারের কেউ সেখানে ছিলেন না। খবর পেয়ে পরে তিনি কারখানায় পৌঁছন। অভিযোগ অস্বীকার করে প্রাক্তন মেয়র বলেন, জমিটি ওয়াক্ফ সম্পত্তি হলেও তিনি তার মালিক নন; ভাড়াটিয়া হিসেবে নিয়মিত ভাড়া দিয়ে ব্যবসা চালান। কমিশনের প্রতিনিধিদের ভাড়ার চুক্তি এবং ভাড়ার রসিদ দেখানো হয়েছে বলেও তাঁর দাবি। ফিরহাদের কথায়, “এখানে বহু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শুধু আমাকেই কেন বেছে নেওয়া হল?” গোটা ঘটনাকে তিনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র এবং চরিত্রহননের চেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন।
প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বাধীন কমিশনে প্রবীণ আইপিএস আধিকারিক কে জয়রামন-সহ একাধিক আধিকারিক রয়েছেন। রাজ্যে পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে সংঘটিত বলে অভিযোগ ওঠা ‘প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি’র তদন্তের জন্য বিজেপি সরকার এই কমিশন গঠন করেছে। ফলে ফিরহাদের সংস্থায় তল্লাশি ঘিরে প্রশাসনিক তদন্তের পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



