এক দিনে কলকাতায় প্রায় ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি, সতর্কতা দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায়

যা জানা জরুরি
- কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় রাতভর বৃষ্টির পরে বৃহস্পতিবার সকালেও আকাশ ছিল মেঘে ঢাকা।
- গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতার আলিপুরে প্রায় ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
- আলিপুর আবহাওয়া দফতরের হিসাব অনুযায়ী, বৃষ্টির পরিমাণ ৭৯.৭ মিলিমিটার।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় রাতভর বৃষ্টির পরে বৃহস্পতিবার সকালেও আকাশ ছিল মেঘে ঢাকা। গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতার আলিপুরে প্রায় ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের হিসাব অনুযায়ী, বৃষ্টির পরিমাণ ৭৯.৭ মিলিমিটার। দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে সর্বাধিক ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটে। সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই বৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
টানা বৃষ্টিতে কলকাতার কয়েকটি নিচু এলাকায় জল জমে যায়। সকালের ব্যস্ত সময়ে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে। অফিসযাত্রী এবং স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের সমস্যায় পড়তে হয়। কোথাও কোথাও রাস্তার খানাখন্দ জলে ঢাকা পড়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে পুরসভার নিকাশি দফতরকে সক্রিয় রাখা হয়েছে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এখনই দুর্যোগের আশঙ্কা কাটছে না। কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান এবং বীরভূমের জন্য কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই জেলাগুলির দু’-একটি জায়গায় ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাত এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনার কোনও কোনও এলাকায় ৭০ থেকে ১১০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে সক্রিয় রয়েছে। তার প্রভাবেই দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় হালকা থেকে মাঝারি এবং কোথাও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। কলকাতার পাশাপাশি বীরভূমের নলহাটি ও নারায়ণপুর এবং মুর্শিদাবাদের কান্দিতে প্রায় ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দমদমে বৃষ্টির পরিমাণ প্রায় ৬০ মিলিমিটার এবং সল্টলেকে প্রায় ৫০ মিলিমিটার।
শুক্রবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। তবে বৃষ্টি পুরোপুরি থামবে না। শনিবার পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদের কোনও কোনও জায়গায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পরের সপ্তাহের শুরুতে বৃষ্টির পরিমাণ ফের বাড়তে পারে।
একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের জন্যও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের কোনও কোনও এলাকায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় ধস এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
টানা বৃষ্টির কারণে শহর ও শহরতলির নিচু এলাকা এবং ভূগর্ভস্থ পথ সাময়িক ভাবে জলমগ্ন হতে পারে। বাজ পড়ার আশঙ্কায় খোলা মাঠ, জলাশয়, গাছ কিংবা বিদ্যুতের খুঁটির নীচে আশ্রয় না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। দুর্বল কাঁচাবাড়ি থেকে নিরাপদ জায়গায় সরে যেতেও বলা হয়েছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



